Sunday, May 10, 2020

৪০০০ বছরের পুরোনো সেতুর রহস্য https://ift.tt/2YOr3o1

পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহর সুমেরীয় সভ্যতার গিরসু নগর। বর্তমান ইরাকের বাগদাদ এবং বসরা নগরীর মাঝে এর অবস্থান। শহরটি প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরাতন বলে মনে করা হয়।

গিরসু প্রাচীন ‘লাগাশ রাজত্বের’ রাজধানী হয়ে ওঠে। ‘লাগাশ’ একটি পবিত্র নগর রাষ্ট্র ছিল। সেখানকার জনগণ সুমেরীয় যুদ্ধের দেবতা নিঙ্গিরসুর অনুগত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্ব থেকেই যুদ্ধ দেবতাদের বসবাসের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হত। 

তাদের অনেকগুলো দেবতাদের মধ্যে নিঙ্গিরসু প্রধান ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতা স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হত। এই শহর থেকে প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার প্রশাসনিক এবং বাণিজ্যিক বিষয়ের রেকর্ডসহ কয়েক হাজার কিউনিফর্ম ট্যাবলেট আবিষ্কৃত হয়। এর থেকে প্রমাণিত হয় এটি সুমেরীয় সভ্যতার অংশ ছিল। 

৪০০০ বছরের পুরনো সেতু

৪০০০ বছরের পুরনো সেতুপ্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার এই বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে প্রায় ৫০ বছরের খনন কার্যক্রমে সুমেরীয় শিল্প এবং স্থাপত্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট থেকে ৪ হাজার বছরের পুরাতন একটি সেতুর সন্ধান মিলেছে। সেতুটি ইটের তৈরি। 

ধারণা করা হয়, এটাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সেতু। প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার উন্নত স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এটি। ১৮৭৭ সালে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদের একটি দল গিরসুতে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করে। খননের সময় ফরাসি দলটি কোনো নিয়ম অনুসরণ করেনি। তারা স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের জন্য খুব কম মনোযোগী ছিলেন। 

এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট থেকে অনেক মূল্যবান নিদর্শন চুরি হয়েছে। গিরসু সাইট থেকে ট্রেজার হান্টাররা অন্যান্য মহামূল্যবান নিদর্শনগুলোর একটা বড় অংশ চুরি করে বিক্রি করেছিল। গিরসু থেকে প্রায় ৪০ হাজার ট্যাবলেট চুরি হয়েছিল। প্রাচীন এই নিদর্শনগুলো থেকে হয়তো সুমেরীয় সভ্যতার আরো অনেক অজানা বিষয় সামনে আসত।   

ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল সেতুটি

ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল সেতুটিগিরসুর সেতুটি ১৯২০ এর দশকে আবিষ্কৃত হয়েছিল। প্রথম দিকে এটাকে মন্দিরের বা পানি নিয়ন্ত্রণের বাঁধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। ১৯৩০ এবং ১৯৬০ এর দশকে সেতুটির অবয়ব অনেক পরীক্ষা, বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি কাঠামোটিকে একটি প্রাচীন জলপথের উপর নির্মিত একটি সেতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পূর্বে খননের পর সেতুটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। এর উপাদানগুলোও অবহেলিত অবস্থায় ছিল। এমনকি সংরক্ষণ বা প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট পরিচালনা করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গিরসুর আধুনিক নাম টেলো। 

এই সাইটটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ব্রিটিশ জাদুঘর ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক এক ঘোষণা অনুযায়ী, চার হাজার বছরের পুরাতন এই সেতু নিয়ে আরো গবেষণাকার্য পরিচালিত হচ্ছে।

The post ৪০০০ বছরের পুরোনো সেতুর রহস্য appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3fzIej0

No comments:

Post a Comment