Sunday, May 10, 2020

মায়ের মতো আপন কেহ নাই https://ift.tt/eA8V8J

বিশ্ব মা দিবস আজ। দিনটিকে ঘিরে দেশীয় শোবিজ অঙ্গনের ক’জন তারকা তাদের মায়েদের নিয়ে নিজের মতো করে কিছু কথা বলেছেন এই আয়োজনে।

অরুণা বিশ্বাস
মায়ের সম্পর্কে খুব কম কথায় বলা খুব কঠিন। মা হচ্ছেন সেই একজন মানুষ যার তুলনা পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই। সত্যি বলতে কী মায়ের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না। মায়ের জন্য অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে। আমি আমার মাকে বিশ্বাস করেই পৃথিবীতে বেঁচে আছি , বেঁচে থাকবো। আমার যে পূজা আমি তাকে ঘিরেই করতে চাই।
এই সুন্দর পৃথিবী আমাকে আমার মাই দেখিয়েছেন। তাই তাকে ছাড়া আমি একেবারেই অচল। আমার গরবিনী মায়ের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ কামনা করছি যেন তিনি সবসময় সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন। পৃথিবীর সব মায়ের জন্য অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

কনকচাঁপা
মা, এতো মিষ্টি একটি ডাক, একটি অনুভব, এতো দৃঢ় একটি বন্ধন, এতো বড় আল্লাহর নেয়ামত যা আসলে বাতাসে অক্সিজেনের মতো। দেখা না গেলেও উপস্থিতি টের পাওয়া যায় দমে দমে। আমার মা আমার অক্সিজেন, আমার ডিকশনারী, আমার সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের বেড়া, আমার বেলী ফুলের বাগান, আমার ঘড়ি, আমার ক্যালেন্ডার, আমার দাড়িপাল্লা এবং অনুভবের বিশ্বকোষ। মায়ের জন্য আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ আলহামদুলিল্লাহ। আমার মায়ের বয়স হয়েছে ৭৩। এখনো তিনি নিজের কাজ নিজে করেন, ধর্মকর্ম তো আছেই। তিনি আমার কাছে থাকলে আমার ঘড়ি দেখতে হয় না, আমি বুঝি আম্মা গোসলে যাচ্ছেন মানে বেলা সাড়ে এগারোটা, শোবার আয়োজন করছেন মানে রাত দশটা। কিন্তু মাঝরাতে কখন ওঠেন, তাহাজ্জুদের জন্য কখন জাগেন, সুবহে সাদিকে মেসওয়াক করেন তা আমি টের পাই না। তবে আমি এখন আমার মায়ের মতো সাধনা করতে চাই। নিজেকে তার পথের অনুসারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি আপনাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। আর আল্লাহর কাছে চাই তার দীর্ঘ নেক হায়াত। মা দিবসে সকল মাকে আমার শ্রদ্ধা ভালোবাসা। মাগো, তোমরা মানুষের অক্সিজেন, পৃথিবীতে আসার দরোজা মা, তোমাদের সালাম।

তারিন জাহান
আমার আম্মুর নাম তাহমিনা বেগম, আমার জীবনের আদর্শ। আমার শক্তি, অনুপ্রেরণা, সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা, মাটি ও দেশ- মানুষের জীবনে এই তিনটি বিষয়ের অবদান অনস্বীকার্য। মা শব্দটি তাবৎ পৃথিবী সম্পর্কিত একটি শ্রদ্ধার শব্দ। এই পৃথিবীর আলো বাতাস এই যে নি:শ্বাস নিচ্ছি তা মায়ের ত্যাগের কারণেই জন্মের শুরু থেকেই নিতে পারছি। মায়ের যেমন বিকল্প হয় না, ঠিক তেমনি মায়ের কোনো তুলনা হয় না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, নৃত্যশিল্পী হয়ে উঠা, সংগীতশিল্পী হয়ে উঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে উঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি। মায়ের কাছেই আমার গানে হাতেখড়ি। অভিনয় জীবনের শুরুতে মা-ই ছিলেন আমার কোআর্টিস্ট। যখন কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে পেতাম তখন মা-ই হতেন আমার কোআর্টিস্ট। অভিনয়ের চর্চা করতাম এভাবেই। আর এভাবেই আমার অভিনেত্রী হয়ে উঠা। আমার মা খুব মেধাবী ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল বলেই আমি আজ অভিনেত্রী তারিনে পরিণত হতে পেরেছি। আমার মা যেভাবেই থাকুন, সবসময়ই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই দোয়া চাই সবার কাছে।

আঁখি আলমগীর
আমি খুব ভাগ্যবান একজন সন্তান। আমার বাবার কারণে আমাদের বাসায় অনেক অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা আসতেন। আবার আমার মায়ের কারণে অনেক কবি সাহিত্যিকের আনাগোনা ছিল বাসায়। সংগীত জীবনের পথচলায় বাবা-মা সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন। আমার মায়ের লেখা অনেক গান আছে। মায়ের লেখা গান নিয়ে আমার গাওয়া এবং বিশিষ্ট শিল্পী যারা গেয়েছেন সেই হিট গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করছি। এটা আমার মায়ের প্রতি, মায়ের লেখা গানের প্রতি ভালোলাগা ভালোবাসা থেকেই করবো। কারণ এখন পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম কেউ শোনেন না। কিন্তু আমার মায়ের গানগুলো সংরক্ষণ করার জন্যই আমি তা করবো। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন, মা যেন সবসময় ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। কারণ মায়ের কারণেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা। মা যে কতোটা আগলে রেখে আদর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বড় করেছেন তা নিজের সন্তানের প্রতি সেই ভালোবাসার অনুভব থেকে উপলদ্ধি করি প্রতি মুহুর্তে।

মমতাজ বেগম
আমার মায়ের নাম উজালা বেগম। সারাটা জীবনই আমার মা তার সন্তানের জন্যই কষ্ট করে গেলেন। আমার আজকের মমতাজ হয়ে উঠা, আমার আজকের সংসদ সদস্য হয়ে উঠা সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠার নেপথ্যে যে মানুষটির অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই তিনি মহান হৃদয়ের অধিকারী আমার মা। মা সবসময়ই বলতেন, আশা ছেড়ো না। জীবনে সুন্দর সময় একদিন না একদিন আসবেই। আল্লাহ মায়েদের স্বপ্ন যে অপূরণ রাখেন না অন্য অনেকের মতো আমাকে দিয়েও তিনি তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা যে, তিনি এমন মায়ের গর্ভে আমাকে জন্ম দিয়েছেন। এখন শুধু মাকে ঘিরে একটাই চাওয়া তিনি যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন। আমিসহ আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি যেন হাসি আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারেন বাকীটা জীবন। কারণ সারা জীবন আমার মা কষ্ট করেছেন। মাকে কোনোভাবেই কোনো কারণে এতোটুকুও কষ্ট দিতে চাই না। আমি আরো গর্বিত যে, গত বছর আমারই কারণে আমার মা ‘গরবিনী মা সম্মাননা’ পেয়েছিলেন। সবাই আমার দরদিনী মায়ের জন্য দোয়া করবেন।

পপি
আজ আমার জীবনের অন্যরকম দিন। কারণ আজ মা দিবস। আমার জন্মের মধ্যদিয়ে আমার মা মা হতে পেরেছিলেন। তাই মাকে মা হিসেবে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। আর আজকের দিনে বার বার শুধু বলতে চাই, আম্মু আমি তোমাকে অনেক অনেকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে তা বলা হয়ে উঠে না। তোমাকে নানা সময় অনেক কষ্ট দিয়েছি। ক্ষমা করে দিও। আর আমাদের সব ভাই-বোনকে তুমি তোমার দোয়ার মধ্যে রেখো সবসময়। তুমি ছাড়া আমার এতো সুন্দর জীবন কখনোই হয়ে উঠতো না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আমি তোমার গর্ভে জন্মেছি মা। আমি এর আগে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি। কিন্তু আমার মা আমার জন্য ‘গরবিনী মা সম্মাননা’য় ভূষিত হয়েছিলেন গেল বছর। ওটা ছিল আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার মাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন।

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
সত্যি বলতে কী বিগত বহুবছর আমি টানা এতো বেশি ব্যস্ত ছিলাম যে, মায়ের সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলারও সুযোগ ছিল না আমার। কারণ সারাদিন শুটিং-এ থাকতাম। বাসায় ফিরে ক্লান্ত আমি কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়তাম। আম্মুকে সময় দেয়া হতো না। কিন্তু এই করোনায় লকডাউনের সময়টায় একটি সুবিধা হয়েছে যে, আম্মুকে সময় দিতে পারছি। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। শুধু আম্মুকেই নয়, পুরো পরিবারকেই আসলে সময় দিতে পারছি। জীবনের এই পরিবর্তনটা দরকার ছিল। এখনো আমি যখন কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হই আম্মু নিজের হাতে সকালে আমাকে চা বানিয়ে দেন। আমার জন্য আম্মু ‘গরবিনী মা সম্মাননা’ পেয়েছিলেন ২০১৬ সালে। সেটাও ছিল আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার খুব মনে পড়ে আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার টিউশনির টাকা দিয়ে আম্মুকে ইমিটিশেনের গহনা কিনে দিয়েছিলাম। সেটা পেয়ে আম্মুর উচ্ছ্বসিত সেই মুখটি এখনো আমার চোখে ভাসে। আম্মুর শতভাগ উৎসাহ অনুপ্রেরণায় আমি আজকের অপূর্ব। আমার সৌভাগ্য যে, আমি আমার আম্মুর পছন্দের স্ক্রিপ্টে অভিনয় করতে পারি। আমার আম্মুর জন্য সবাই দোয়া করবেন।

পূজা চেরী
মা হচ্ছেন আমার পুরো পৃথিবী। আমাদের ভগবানকে আমরা যেমন পূজা করি ঠিক তেমনি আমি আমার মাকে পূজা করি। আমার আজকের যতোটুকু আমি হতে পেরেছি তার পুরোটাই আমার মায়ের অবদান। মাকে নিয়ে আমার এতো এতো গল্প যে তাকে নিয়ে বলতে শুরু করলে হয়তো সেই গল্প শেষ হবে না। আমার মা আমাকে স্বাধীনভাবে পথ চলতে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এমনভাবে পথ চলেছি যেন আমার মা কোনভাবেই অসন্তুষ্ট না হন। আমার কর্মক্ষেত্রে সবসময়ই সঙ্গে মা থাকেন। আমি চেষ্টা করেছি আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। কারণ আমি যখন খুব ছোট, সেই বয়সেই মা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমি যেন বড় হয়ে নায়িকা হই। আমাকে আমার মা সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন। আমার মায়ের আরেকটি স্বপ্ন রয়েছে, তা হলো আমি যেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু একটা করি। মায়ের কথা হলো, আমি যেন তার এই স্বপ্নটা পূরণ করি। জানি না পারবো কী না, তবে আমার প্রবল চেষ্টা থাকবে। আমার মা আমাকে আদর করে নানা সময়ে নানা নামে ডাকে। যেমন সোনার কলসী, রুপার কলসী। কোথায় যে মা এই নামগুলো পান জানি না। তবে মায়ের মুখে যে কোনো নামই আমার ভালোলাগে।

তানজিন তিশা
আজ বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইলো অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। পৃথিবীর সব মা যেখানেই থাকুক তাদের সন্তানদের নিয়ে ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সুন্দর থাকুক। সত্যি বলতে কী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। সেই বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের জীবনেও। কিন্তু তারপরও এই সময়টা আমাদের ধৈর্য্য ধরে পার করতে হবে। আমার আম্মু আমাকে এ ব্যাপারে খুব সহযোগিতা করছেন। তিনি আমাকে সবসময়ই ধৈর্য্য ধরে আগামীর পথে এগিয়ে যেতে বলেন। আমিও তার কথা সবসময়ই মেনে চলার চেষ্টা করেছি। আমার আজকের তানজিন তিশা হয়ে উঠার নেপথ্যে আমার মায়ের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আম্মু উৎসাহ, অনুপ্রেরণা না দিলে আমার আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হয়ে উঠতো না। সবচেয়ে বড় কথা আম্মু সাহস দেন, প্রত্যয়ী হতে বলেন-এটা আমার জন্য অনেক বড় শক্তি। এটাও সত্যি মায়ের মতো আপন কেহ নাই। দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার আম্মুকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আর তাকে না জেনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। আম্মু একটি কথা আজ বলতেই চাই, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি আম্মু।

The post মায়ের মতো আপন কেহ নাই appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2WhbKT2

No comments:

Post a Comment