Friday, May 8, 2020

খুলনায় অভিযুক্ত ওএমএস ডিলারের ৫টি লাইসেন্স বাতিলসহ দুদকে মামলার সুপারিশ https://ift.tt/eA8V8J

খুলনায় ও.এম.এস কার্যক্রমে (খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রয়) অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এ ঘটনায় ডিলার সাঈয়েদুজ্জামান মোল্লা সম্রাটেরসহ ৫টি লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে। একই সাথে ডিলার এইচ.এম আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে মামলা করতে দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে। বৃহষ্পতিবার খুলনার জেলা প্রশাসন এই নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ওএমএস কার্যক্রমে চাল-আটা বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গত ১৬ এপ্রিল ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ ওঠে ওএমএস ডিলার সাঈদুজ্জামান মোল্লা ওরফে সম্রাট সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে চাল-আটা বিক্রয়ে অনিয়ম করে আসছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কয়েক দফায় ব্যাপক অনুসন্ধান, সরেজমিন পরিদর্শনসহ অভিযুক্ত ডিলারসহ স্বাক্ষিদের স্বাক্ষ রেকর্ড করে। তদন্তে সম্্রাটের নিয়ন্ত্রনে থাকা ৫টি লাইসেন্স সম্পর্কে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এসব লাইসেন্সের স্বাধিকারী হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের নাম রয়েছে।
লাইসেন্সগুলির মধ্যে নির্মান এন্টারপ্রাইজের মালিকানায় রয়েছেন এইচ এম আলাউদ্দিন, সুলতানা ইন্টারপ্রাইজের সাঈদুজ্জামান মোল্লা ওরফে সম্রাট, জোহরা এন্টারপ্রাইজেরহুমায়ুন কবির, এসএম এন্টারপ্রাইজের ওহিদুজ্জামান এবং রুবেল এন্টারপ্রাইজের নিশাত পারভিন। সরেজমিনে এসব লাইসেন্সের অনুকুলে নিজস্ব কোন দোকান ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিগত ২/১ বছরে এসব লাইসেন্সের অনুকুলে কোন আটা বা চাল দেয়া হয়নি মর্মে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ স্বাক্ষ দিয়েছেন। যেহেতু এই ৫টি ওএমএস লাইসেন্সের নিজস্ব দোকান ঘর নেই এবং স্বত্বাধিকারীর গড়মিল রয়েছে। সেহেতু এই ডিলারগন নিয়মিত খাদ্য পণ্য তুললেও খোলা বাজারের পরিবর্তে কালো বাজারে বিক্রি করে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন মর্মে তদন্ত টিমের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান বলেন, ওএমএস সংক্রান্ত যে কোন সিদ্ধান্তে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির জানাবে। জেলা প্রশাসকের সুপারিশকৃত চিঠি ওই কমিটিকে দেয়া হবে। সেখান থেকে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওএমএস ডিলারদের একটি সুত্র জানায়, ওএমএস ডিলার সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ভন্ন ভিন্ন নামে ওএমএস এর একাধিক লাইসেন্স করেছেন। এসব লাইসেন্সের বিক্রয় কেন্দ্রসহ সত্বাধিকারীর কোন অস্তিত্ব নেই। নীতিমাল অনুসারে সরকারি মূল্যে চাল-আটা ক্রয় করে খোলা বাজারে বিক্রয় করতে হবে। যেহেতু লাইসেন্সের অনুকুলে বিক্রয় কেন্দ্র নেই, সেহেতু এই পণ্য কালো বাজারে বিক্রয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ তিনি সাংবাদিকতার পরিচয়ের পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাকে (তদারকি) উৎকোচের দিয়ে করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে দরিদ্র মানুষদের মাঝে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ কর্মসূচি চালু হয়। আর ১৮ টাকা কেজি ধরে আটা বিক্রি কার্যক্রম সারা বছর ধরে চলমান রয়েছে। এসব খাদ্যপণ্য দ্রæত সরবরাহে খুলনায় ৮৯ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। তবে সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট নিজ নামে ডিলারশীপ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করেন। যার প্রেক্ষিতে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ১৬ এপ্রিল ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন, আহŸায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইউসুফ আলী, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এনএম ওয়াসিম ফিরোজ, দুদকের উপ পরিচাকল মোঃ নাজমুল হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান।
বলা বাহুল্য, উল্লেখত বিষয়টি নিয়ে বেশ জোরেশোরে গুঞ্জন চলছে অভিযুক্ত ওএমএস ডিলারদের রক্ষা করতে রাজনৈতিক, সাংবাদিক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের একটি মহল জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এই মহলটি ওই সব ওএমএস ডিলারদের দ্বারা সুবিধাভোগি।

The post খুলনায় অভিযুক্ত ওএমএস ডিলারের ৫টি লাইসেন্স বাতিলসহ দুদকে মামলার সুপারিশ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2WwSekw

No comments:

Post a Comment