জিকির হল আল্লাহ্ সুবহানআল্লাহ্ তাআলাকে স্মরণ করা, যে যেভাবে সুবিধা মনে করবে সেইভাবে আল্লাহ্ তাআলাকে স্মরণ করবে। চব্বিশ ঘন্টা আমরা কত কাজ করি, প্রত্যেক কাজের শুরুতে আল্লাহ্তাআলাকে স্মরণ করে কাজ করাও জিকির। আল্লাহ্ তায়ালাকে স্মরণ করার অর্থ হলো, প্রত্যেকটা কাজের শুরুতে শেষে দোয়া পড়া। যেমন ঘুমানোর আগে, ঘুম থেকে উঠে, খাওয়ার আগে ও খাওয়া শেষ করে, বাইরে যাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে এসে ঘরে প্রবেশ করার দোয়া পড়া। এভাবে প্রত্যেকটা কাজের শুরু ও শেষে আল্লাহতাআলার স্মরণ মনে রাখা। দোয়া না জানা থাকলে অন্তত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’ বলে শুরু করা এবং শেষ করে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলা। অতএব জীবনের প্রত্যেকটা মুহুর্ত, প্রত্যেকটা হালত আমাদের জিকিরে পরিণত হতে পারে, যদি আমরা একটু খেয়াল করি। আর রোজার এই বরকতময় সময়ে জিকিরের গুরুত্ব ও পুরস্কার অগণিত হয়ে উঠতে পারে যদি আল্লাহ্ সুবহানআল্লাহতাআলা চান।
সবচেয়ে সহজ আমল হলো জিকিরঃ দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই জিকির করা যায়। ইবাদাতের মধ্যে সবচেয়ে সহজ অথচ লাভজনক আমল হল জিকির। জিকিরের জন্য কোন অজু গোসলের প্রয়োজন হয়না, পাক সাফ থাকাও জরুরী নয়। ঘুমের সময়টাও জিকিরের মধ্যে গন্য হতে পারে যদি ঘুমের দোয়া পড়ে সুন্নত তরীকা মত ঘুমানো হয়। পায়খানা প্রস্রাব করার সময়গুলোও জিকিরে পরিনত হতে পারে যদি আগে পরে দোয়া পড়ে সুন্নত তরীকা মত এই কাজগুলো করা যায়। এভাবে প্রত্যেকটা কাজ যদি কেউ আল্লাহ্র হুকুম ও রাসুলের সুন্নত মত করি তাহলে সবই জিকিরে পরিণত হতে পারে। হাদিসে এসেছে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হল- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লহ’। কোরআন তেলাওয়াত করাও উত্তম জিকির। এছাড়া, হাদিসে এসেছে চারটি কালেমা আল্লাহ্ তায়ালার কাছে খুব পছন্দনীয়- সুবহানআল্লহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লহ। এ ছাড়া দোয়া ইউনূস, এস্তেগফার এবং অন্যান্য অসংখ্য দোয়া কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহতাআলা মানুষকে শিখিয়েছেন সেগুলো পড়ে পড়ে আমরা আল্লাহ্ তাআলাকে স্মরণ করতে পারি, খুশি করতে পারি।এস্তেগফারও অনেক মরতবাপূর্ণ জিকির। এস্তেগফার অর্থ গোনাহ থেকে মাফ চাওয়া, পুর্ব জীবনে কৃত অপরাধগুলো স্মরণ করে তার জন্য লজ্জিত হয়ে, অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহতালার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে আর গোনাহ হবে না এইভাবে সংকল্প করা। হাদিসে রাসুল (সঃ) এরশাদ করেন, ‘মানুষ মাত্রই গোনাহগার; তবে গোনাহগারদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তওবা করতে থাকে’। আর এক হাদিসে এসেছে- ‘মানুষ যখন গোনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে, যদি সে তওবা করে তবে ওই দাগ ধুয়ে পরিস্কার হয়ে যায় নতুবা বাকি থেকে যায়। এভাবে এক একটি গোনাহের ফলে আস্তে আস্তে অন্তর কালো,কঠিন হয়ে যায়, সেখানে আর ভালো কিছু প্রবেশ করে না’। এজন্য গোনাহ যেহেতু মানুষের হয়েই যায় তাই সাথে সাথে এস্তেগফার করে নেয়া উচিৎ। নইলে গোনাহের কালিমায় আমাদের অন্তঃকরণ একসময় কালো হয়ে যাবে, আমরা আর নিজেদেরকে পরিস্কার করতে পারব না। রোজার মাসে যে চারটি কাজ বেশি বেশি করতে বলা হয়েছে, তার একটি এস্তেগফার। অতএব এই মাসে আমরা যত বেশি এস্তেগফার করতে থাকব তত সত্তর গুণ বর্ধিতভাবে আমাদের আমল নামায় যোগ হতে থাকবে আর আমরা দ্রুত গোনাহমুক্ত হয়ে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করতে পারবো।আমিন………।
কোহিনূর বিনতে আবুবকর।
The post যে রোজা সবচেয়ে বেশি জিকির অবস্থায় কাটে সে রোজাই উত্তম রোজা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2L4gkOl
No comments:
Post a Comment