ওবায়েদ আকাশ
ভাঙনের ভেতর বসে পড়তে ভাললাগে বিনয় মজুমদারের কবিতা। সে নিরিখে বিনয় কেমন কবি- এ প্রশ্ন হয়তো আরো পরের। তবে আলো নিভে যাবার ইশারায় যে কবির কবিতা প্রতিসূত্র রচনা করে, সেই কবিতা আর যাই হোক উপেক্ষা করা যায় না। এ কথা বিনয় মজুমদারকে নিয়ে কিছু লিখতে বসে প্রথমেই লিখতে হলো। এমন অনুপেক্ষণীয় কবিতা কবি কী করে রচনা করেন, এমন কবির সংখ্যা কত কিংবা তাঁদের কবিতার অনুষঙ্গ কতটা সাম্প্রতিক ও কতটা ক্লিশে, এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাথা ঘামাইনি। যে কবিতার নিরিখ নিজের ভেতর দিয়ে সকলের করে তুলবার, সে উদ্দেশে বিনয় মজুমদারের কবিতা আদৌ প্রাসঙ্গিক কিনা, সে প্রশ্নেরও সদুত্তর খুঁজতে যাইনি। কিংবা বিনয় মজুমদার ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব নিয়ে কবিতা লিখেছেন নাকি বিপরীতে কবিতাকে তার ঐশ্বর্য দিয়ে মহিমান্বিত করেছেন, এ জিজ্ঞাসারও সমাধান পাওয়া এ নিবন্ধের লক্ষ্য নয়।
মূলত এ তিনটি প্রশ্ন বিনয়ের স্বনির্বাচিত শব্দমঞ্জরি, ছন্দবোধ, ব্যাকরণ ও বিষয় ভাবনার উর্ধে রেখেই ভেতরে জন্ম নিয়েছে। এবং এসবের মীমাংসার চেয়ে, বিনয় মজুমদার যেহেতু কবি, তাই তাঁর কবিতাই বরং বেশি সামনে চলে এসেছে।
বিনয় মজুমদার সেই পরিণতপর্বের কবি, যে সমাপনী তটে বাস্তব কিংবা আবেগের প্রশ্ন অভাবিত ঊর্মিমালায় বহু আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাঁর কবিতায় না-আবেগ, না-বাস্তবতা, না-প্রপঞ্চতা একই সঙ্গে বসবাস করে।
বিনয় মজুমদারের মৌলিক কনসেনট্রেশন ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’য় যেভাবে বিস্মিত করেছে; যেভাবে প্রচ- ক্ষুধায় বিনয়ের কবিতার পরম ঐশ্বর্যের ঘ্রাণে মোহিত হয়ে ঘুরঘুর করেছি তাঁর চারপাশে, তখন তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; এবং বলতে গেলে, বিগলিত হয়ে একদিন সম্পূর্ণ বিনাপ্রস্তুতিতেই ঐ হাত ধরে ঝুলে পড়েছিলাম। বিনয়ের কবিতা পড়তে শুরু করেছিলাম। কিন্তু মধ্যসমুদ্দুরের ওপর থেকে যখন কিছুই দেখতে না পেয়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে প্লেনের জানালা ভেঙে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, সেখানে বিনয় মজুমদার আমার অন্ধত্বের প্রতি দয়া করেছিলেন। এ সময় বিনয়ের ভুট্টা সিরিজ, গণিত ও ঈশ্বরীর কবিতাগুলোর ভেতর দিয়ে আমাকে দেখে কেউ কেউ তো মুখ টিপেও হেসেছিল; সেই তারাই, যারা কখনো বিনয় মজুমদারের কবিতা পড়েনি কিংবা একবারমাত্র পড়ে বুকসেলফ থেকে কিংবা ব্যক্তিগত রিডিং টেবিল থেকে চিরকালের জন্য বিদায় দিয়েছিল।
মহাসিন্ধুর ওইপারে যে থোকা থোকা ফলের হাসি হাসে কবিতা; তা কেবল স্বাস্থ্যবান ও গতিময় মীনের পিঠে সওয়ার হয়ে অনুধাবন করতে হয়। তার অভ্রান্ত সুধায় বিগলিত হতে হতে আবার হারিয়ে যান বিনয় মজুমদার এমন অবগাহন-বাসে একাকী ফেলে রেখে। সেখানে সঙ্গী হিসেবে থাকে সমুদ্রের উন্নত ঢেউ, বিস্তৃত সৈকত, ঝাউ-নারকেল বীথি কিংবা কণ্ঠকময় বাবলার সারির পাশে পরস্পর হাত ধরে স্বপ্ন মেলানো মানব-মানবী। আর আমার মতো কাব্যপাঠক যখন প্রবল ক্ষুধায় অবয়বিক ক্লান্তিতে ঝিমুতে ঝিমুতে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য দেখে তখন বিনয় মজুমদারের কবিতা শরীরভর্তি ঢেউ, প্রশস্ত পিঁড়ি, কামনাময়ী ডালার সম্মেহন নিয়ে সিন্ধুতটের স্বর্গীয় বেত-বাঁশের কটেজে রাত্রিযাপনের আহ্বান করে। তাই বিনয়ের কবিতা-ভ্রমণের পর্যটক হতে কখনো কোনো অনিহা তৈরি হয় না।
একবার যারা বিনয়-ট্যাটু শরীরে লেপটে তা ধুয়ে ফেলতে অনেক কসরত করেছেন; পরবর্তীতে তার পুরুদ্ধারের আরো অধিকশ্রমে নিমগ্ন হয়েছেন। এমন উত্তাপের যে কথায় অসংলগ্নতা তার সত্যতা বোধকরি বিনয়ের কবিতায় সর্বাধিক বসবাস করে। কবিতা আবেগের, উদ্বেগের আবার কবিতা বাস্তবের, নিরুদ্বেগের। সত্যি বলতে বিনয় মজুমদার সেই পরিণতপর্বের কবি, যে সমাপনি তটে বাস্তব কিংবা আবেগের প্রশ্ন অভাবিত ঊর্মিমালায় বহু আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাঁর কবিতায় না-আবেগ, না-বাস্তবতা, না-প্রপঞ্চতা একই সঙ্গে বসবাস করে।
বিনয়ের কবিতা পাঠপর্বে যদি অপরিপক্বতা থাকে, ‘অভিজ্ঞতা সিক্ত গিরিখাতের মতন সংকীর্ণ, সীমিত’ হয় তবে এ সত্য উপলব্ধি করার সুযোগ নেই। আবার এতটা জোর দিয়েও বলতে পারছি না যে, আমি বিনয়ের কবিতার একজন উচ্চবোদ্ধা পাঠক। এ কথা চরম সত্যি, অগণিত প্রশ্নের উত্তরের অমীমাংসিত প্রান্তেই কবিতার মুক্তি। কবিতাকে মুক্ত করতে হলে তার অসীমতা ও অসংলগ্নতাকে সবার আগে মেনে নিতে হয়; ব্যাকরণ মানতে মানতে তার শৃঙ্খল থেকে কবিতাকে টেনে বার করা না গেলে কবিতা মুক্তি পায় না।
কথাটি জোর দিয়ে বলি, হোঁচট খেতে খেতে বিনয়ের কবিতার পাঠাভ্যাসে প্রবেশ করলে বিনয় তার কাছে অধরা থাকতে থাকতে চিরকালীন হয়ে ওঠেন- বিনয়ের কবিতার শক্তি এতটাই শাশ্বত ও সংহত। বিশেষ করে তাঁর ‘ফিরে এসো চাকা’ এবং ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’য় এই সম্মোহনী স্থায়ী ও স্বতোৎসারিত। তাঁর ‘প্রতিটি ব্যর্থতা যদি ক্লান্তি কী অস্পষ্ট আত্মচিন্তা সঙ্গে নিয়ে আসে’ তবে তো তাঁর কবিতা নিয়ে এমন মন্তব্য অতি কথা নয়। মাংসল চিত্রের কাছে এসে যদি সব ভোলা যায় কিংবা মুকুরে সূর্যালোক যদি স্বল্পকাল হাসে; সেই সভ্যতার চূড়ান্তের মুখপত্র হিসেবে একজন বিনয় মজুমদারের জন্ম হয়। একজন নির্ভীক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন হয়। বাংলা কবিতায় বিনয় মজুমদার সেই অভাব পূরণ করতে করতে নিজেকে কবিতার কাছেই আত্মোৎসর্গিত করেন। তাই তাঁকে দেখা যায় হাতে হারিক্যান নিয়ে খালি গায়ে হাঁটু অবধি লুঙ্গি পরে কুঁড়েঘরের দিকে কবিতা ভ্রমণে, কিংবা দেখা যায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো লোভনীয় পেশা পরিত্যাগ করে কবিতার অনুবাদ করতে কিংবা বন্ধুদের উপার্জনের ওপর ভরসা করে মৌলিক বাংলা কবিতায় চিরনিমগ্ন হতে:
“কী উৎফুল্ল আশা নিয়ে সকালে জেগেছি সবিনয়ে।
কৌটোর মাংসের মতো সুরক্ষিত তোমার প্রতিভা
উদ্ভাসিত করেছিল ভবিষ্যৎ, দিকচক্রবাল।”
(কী উৎফুল্ল আশা নিয়ে, ফিরে এসো চাকা)
বিনয় মজুমদারের সেই উদ্ভাসিত ভবিষ্যতের জাগতিক পরিণতি যেমন বোঝা গেল; বিপরীতে ব্যাপক পাঠে বোঝা যায় বিনয়ের কবিতার ভবিষ্যৎ ও দিকচক্রবাল।
তবু বিনয়ের ভাবনার দোদুল্যমানতা শেষ দিন পর্যন্তই তিনি লালন করেছেন:
“কী যে হবে, কী যে হয়, এখনো অনেক রীতি বাকি।
দুরারোহ, নভোনীল পর্বত শিখরে আরোহণ
ক’রে ফের অবিলম্বে নেমে আসি, নেমে যেতে হয়।”
(কী যে হবে, কী যে হয়) ব
এই তো শিল্পী জীবনের খেলা, শিল্পের খেলা তো এমনি ভাংচুরপ্রবণ। একবার উপরে তুলে আমার নিচে নামাতে দ্বিধা করে না। শিল্পীর পর্বতারোহণদৃশ্য যেমন তাঁকে আবার নিচে নেমেও উপভোগ করতে হয়, তেমনি এই সমতলকে ছেড়েই তো আবার পাহাড়ে আরোহণ করতে দেখা যায়। এই বিপরীতধর্মী চলাচল শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে। সমভূমির আনন্দ যেমন পরিপূর্ণ সুখী করতে পারে না; তেমনি স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে না উচ্চারোহণের আনন্দও। ব্যক্তিজীবনের এই দৈতাদৈত লেখা চলতে থাকে আমৃত্যু। আর একদিন তাঁর এই অসমাপ্ত খেলার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠে তাঁর শিল্পের পাহাড়। পাঠক পাহাড় থেকে পাহাড়ে পরিভ্রমণ করে যথেচ্ছ আনন্দ লাভ করে। একদিন তাই মানুষের ভেতর ভর করে নস্টালজিয়া। প্রতিটি পর্বতারোহণের আনন্দ পাঠককে বারবার নস্টালজিক করে। তখন সেখানে শিল্পীর কাছে আর কোনো সুখ অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর সুখ তো শুধু উজ্জ্বল মাছের মতো একবার মাত্র দৃশ্যে এসে পরক্ষণেই গভীরে মিলিয়ে যায়। কিন্তু কী নিয়ে বেঁচে থাকেন কবি?
“যখন কিছু না থাকে, কিছুই নিমেষলভ্য নয়,
তখনো কেবলমাত্র বিরহ সহজে পেতে পারি।”
(যখন কিছু না থাকে)
আমার মতো টিস্যু-হৃদয়ের পাঠক, বহুবার দৃঢ় হতে চেয়েও এমন কথায় কেন যেন চোখ ভিজে আসে। এই তবে শিল্প! এই তবে শিল্পী! যেখানে শুধু বিষাদ, যেখানে শুধু ক্ষরণ, যন্ত্রণা, বিষণœতা, অবাসাদ, দুঃখ, কণ্টকময়তা আর বিরহই কবির জন্য অবশিষ্ট থাকে। বিনিময়ে জেগে থাকে কবিতা। তবে কবিতা, তুমি কি জানো কতটা নির্দয় তুমি, কতটা বধির?
হয়তো এ কারণে কিংবা আরো বিবিধ কারণে বিনয় মজুমদার তাঁর ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’ বিষয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যে বলেন এ কাব্য পাঠ করলে কোনো ধর্ম গ্রন্থ পাঠের প্রয়োজন পড়বে না। কবি কতটা মগ্ন আর বিচিত্র কাব্যের ভুবনে অবগাহন করে এমন কথা উচ্চারণ করতে পারেন! কবি কতদূর মহাবিশ্ব পরিভ্রমণ ও জাগতিক ফালা ফালায় এত বড় সিন্ধান্ত দেন পাঠককে! নাকি বিনয় মজুমদার বলেই এত বড় সাংঘাতিক উচ্চারণ সম্ভব! তাহলে তাঁর এই যুক্তির পিছনে কবিতার সেই সংজ্ঞা কেমন, কেমন সেই কবিতার বোঝাপড়া? কিংবা ধর্মের সংজ্ঞাই-বা কেমন তবে? “শতকরা একেবারে একশত ভাগ খাঁটি দর্শনের নাম সংজ্ঞা অনুসারে ধর্ম, মনে হয়, চারিপাশে মহাকাশময় অনাদি সময় থেকে, গণিতেরই মতো, বহু কবিতা রয়েছে
চুপচাপ পড়ে আছে কোনোদিন একে একে আবিষ্কৃত হয় কোনো
অঘ্রানের রাতে বকুলবাগানে খুব মৃদু জোছনায়,
সুডৌল পাতার ফাঁকে গহ্বরের মতো কিংবা ছিদ্রের মতন।”
(সকল বকুল ফুল, অঘ্রানের অনুভূতিমালা)
কবিতার প্রতি এতটা আস্থা না থাকলে, কবিতাকে এতটা নির্ভর না করলে কবিতাকে কতটুকু আত্মিক কিংবা যাপনের শিল্প ভাবা যায়- তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। জগতের অনাদি হতে যেমন বহু গণিত আছে, তেমনি কত যে কবিতা সুপ্ত থাকতে পারে তার হিসাব হয়তো নেই। এমনকি তা কতটা সমৃদ্ধ ও মহার্ঘ হতে পারে সে হিসাবও মিলানো সম্ভব নয়। কিন্তু বিজ্ঞানে আবিষ্কারের নেশা ও সাহিত্যে সৃষ্টিসুখের উল্লাসের মতো ঐসব কবিতা আবিষ্কারের আছে অপার আনন্দ। যে আনন্দ বিনয় মজুমদারকে ধর্ম গ্রন্থের বিকল্প আনন্দ দিয়েছিল; এবং তিনি পাঠককে তার ইঙ্গিত করেন নির্দ্বিধায়।
কবিতার শক্তিকে কেবল সীমাহীন ব্যক্তিগত শক্তিমত্তা দিয়েই ধারণ করা যায়; মগ্নতা মগ্নতা মগ্নতা, নিমগ্নতা নিমগ্নতা নিমগ্নতা- বারবার অধিত অবগাহিত চর্চায় সেই শক্তিমত্তা অর্জন করা যায়। কাজের ফাঁকে সময় করে এক মুহূর্ত লেখার টেবিলে বসা কিংবা সকল জাগতিকতার ফাঁকে কবিতাকে যুৎসই জীবনের অলঙ্কার হিসেবে ভেবে নিতে নিতে একদিন বয়স উত্তীর্ণ হয়ে যায়। কবিতা হয় অন্যের ঘরণি। বিনয় মজুমদার আমাদের এমন বন্ধু, যার কাছে নিজের বয়স ও যৌবনকে ধরে রাখার ভেতর দিয়ে নিজেকে কবিতার ও কবিতাকে নিজের করে ধরে রাখার পরশ মেলে। এমন বন্ধুত্বের যাত্রী হতে বাংলা কবিতার অগণিত উৎসুক একদিন বিনয়ের নামে কাব্যবীজ ছড়াতে ছড়াতে খুঁজে পেয়েছে আত্মপরিচয়ের গর্বিত ফলস। বিনয় মজুমদারকে তাই বাংলা কবিতার অভিভাবক কিংবা শিক্ষক ভাবতে চাইলে- ওই পদ তাঁর জন্য নয় বলে ভাবতে ভাললাগে। তাঁকে বরং আমাদের অত্যন্ত কাছের এক গ্রষ্টা ভাবতেই বেশি সাড়া থাকে।
যে কারণে আমার নিবন্ধের শুরুতে উত্থাপিত তিনটি অনিবার্য প্রশ্নের কোনোটার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। বিনয় মজুমদার একজন শেষ না-হয়ে যাওয়া কবি প্রতিভা। তাঁর কবিতার যেমন অসীমতা আছে সমাপ্তিরেখা নাই- তাই বিনয় মজুমদার কবিতার শিক্ষক কিংবা অভিভাবক যে কখনো হতে চাইবেন না; এরকম ফুরিয়ে যাওয়া বিশেষণের চেয়ে একজন শিক্ষার্থীর পরিচয়ে বেঁচে থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন- তাঁর কবিতার গণিত ও মহার্ঘসত্য এতটাই সহজাত।
প্রেমকে পরিণতির দিকে পৌঁছে দিতে সকলে প্রত্যাশা করে সত্য, তেমনি একদিন সকলেই অনুধাবন করে প্রেমই মৌলিক। বিনয় মজুমদার সেই মৌলিকত্বের অহঙ্কার।
The post বিনয় মজুমদার:ভাবনার দোদুল্যমানতায় কী যে হবে, কী যে হয় appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3l33pge
No comments:
Post a Comment