সুন্দরবনের মধু বিশ্বের কাছে একটি পরিচিত নাম। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের সুন্দরবন থেকে অধিকাংশ মধু উৎপাদন হয়ে থাকে। সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব দিয়ে প্রতিবছর এপ্রিল মাস থেকে মধু সংগ্রহের সময় শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক তুলনামূলক মধু সংগ্রহ করতে না পারায় হতাশা বোধ করছেন মধু সংগ্রহকারী মৌয়ালরা। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে কোন কাজ কাম না করতে পেরে মধু সংগ্রহের কাজে লাভের আশায় বেরিয়ে পড়েন মৌয়ালরা। গত বছরের মতো তুলনামূলক মধু না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অদক্ষ মৌয়ালদের পাস পারমিট দেওয়ার কারণে মৌচাক ঠিক মতো কটতে না পারায় মধু কম হচ্ছে বলেও জানান অধিকাংশ মৌয়ালরা। করোনার কারণে কাঁকড়া ও মাছের ব্যবসা বন্ধ থাকায় অধিকাংশ জেলেরা কাঁকড়া ও মাছ ধরা পাস নিয়ে চুরি করে মধু কেটে নিয়েছে বলেও জানান। মধু সংরক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা বেডস ও মৌয়াল শ্রমজীবী সমবায় সমিতির অফিস সহকারি আশীষ কুমার মন্ডলের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০১৯ সালে এপ্রিল থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত আমরা ১৩ জন মৌয়ালদের কাছ থেকে ৬০২ কেজি মধু সংগ্রহ করি সেই তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে ১৩ জন মৌয়ালীর কাছ থেকে ২৭৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেছি। গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম মধু সংগ্রহ করতে পেরেছি।
রবিউল ইসলাম নামের এক মধু ব্যবসায়ী বলেন, দাদন দিয়ে মৌয়ালদের মধু কাটার জন্য সুন্দরবনের পাঠিয়েছি। মধুর পরিমাণ কম পাওয়ায় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। গত বছরের তুলনায় এবছর মধুর পরিমাণ খুবই কম। মাছ ও কাঁকড়া ধরার পাশ নিয়ে চুরি করে মধু কেটেছে।
সুন্দরবনে মধু কম হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে মৌয়াল রফিকুল ইসলাম জানান, যে সময় থেকে মধুর পাস দেয়া হয় তার আগে থেকেই মধুর চাক কেটে নেয়া হয়েছে। আমরা মধু কাটার সময় কাটা চাক পেয়েছি। যার কারণে মধু কম হচ্ছে।
মৌয়াল জাহাঙ্গীর আলম জানান, বুলবুল ঝড়ের কারণে বনের গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। সেকারণে মৌমাছিরা চাক বসানোর জায়গা খুঁজে না পাওয়ায় মধু কম পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আগের থেকে কেটে নেয়া হয়েছে মধুর চাক।
সুন্দরবনের মধু কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সুন্দরবন গবেষক পীযূষ বাউলিয়া পিন্টুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রকৃতির প্রভাবে ও বুলবুল ঝড়ের কারণে সুন্দরবনের গাছপালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারছে না। যে কারণেই মধু কম হচ্ছে। তবে মৌচাক কাটার মতো অভিজ্ঞতা নেই তারা আগে থেকেই মৌচাক কাটায় পরবর্তীতে মৌয়ালরা সেখানে যেয়ে সেই মৌচাক থেকে অধিক পরিমাণ মধু সংগ্রহ করতে পারছে না।
বন বিভাগের দাবি, প্রকৃতির কারণে মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারছে না এছাড়া সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় মৌমাছিদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে যাওয়ায় মধু কম হচ্ছে। করো না প্রাদুর্ভাবের কারণে জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে না পারায় মধুর পাস নিয়ে মধু সংগ্রহ করছে। যে কারণে মৌয়ালদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে মৌয়ালের সংখ্যার চেয়ে ২০২৯ সালে মৌয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যার কারণে মধু কম হওয়ায় স্বাভাবিক। মৌয়ালীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছরের চেয়ে মধু কম পাওয়ায়। মৌয়ালীদের কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। ঠিকমতো সরকারি রাজস্ব দেওয়ার পরেও তুলনামূলক মধু কম হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধু সংগ্রহকারীরা।
বিলাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর):
The post সুন্দরবনে তুলনামূলক মধু না পাওয়ায় হতাশ মৌয়ালীরা ও মধু ব্যবসায়ীরা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2Aje8A9
No comments:
Post a Comment