করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ছবি তোলা প্রাধান্য পাচ্ছে। কে ত্রাণ পেলো না পেলো বা কতটুকু ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তার হিসাব না করে ত্রাণ বিতরণের ছবি তোলার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি ভাইরাল হচ্ছে। এসব ছবি দেখে মনে হচ্ছে ত্রাণ দেওয়ার নামে অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মানসম্মান নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় গোটা বিশ্ব থমকে গেছে। প্রভাব ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে লকডাউন করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট ও পন্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। বলতে গেলে প্রায় সব কিছু বন্ধ। কর্মহীন হয়ে ঘরে বন্দি মানুষ। অর্থনীতির গতিশীল চাকা থেমে গেছে। কাজ নেই, রোজগার নেই, অর্থ নেই। তবে ক্ষুধা থেমে নেই। সে ছুটছে, খাবার চাই, খাবার। কি হবে তার? উচ্চবিত্তদের কোন অসুবিধা না হলেও নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা পড়েছে বিপাকে। মধ্যবিত্তরা টেনেটুনে দিন পারছে।
ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে এসব লোক বেকার অবস্থায় সময় পার করছে। তবে হতদরিদ্র, শ্রমিক ও নি¤œবিত্ত মানুষেরা কমবেশি সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন নি¤œবিত্তের মানুষের পাশে সহয়তা নিয়ে দাড়িয়েছে। বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ছবি তোলার হিড়িক পড়ছে। ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে একমগ চাউল দিতে ১৪ জন, ত্রাণের প্যাকেট দিতে ৫ জন লোক মিলে ফটোসেশন করা হচ্ছে। ছবি ঠিকমত না উঠলে আবার তাকে ডেকে এনে ছবি তোলা হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের মোড়কে নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের ছবি সম্বলিত প্যাকেট তৈরী করা হয়েছে। নেতার ছবি যুক্ত প্যাকেটে করে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও নেতার ছবি সম্বলিত পোষ্টার হাতে নিয়ে ত্রাণ নেওয়া ফটোসেশনও করা হচ্ছে। অনেকে রাতের আধারে লোকের বাড়ি বাড়ি গোপনে ত্রাণ বিতরণ করলেও ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে ভুল করছেন না। এমনসব চিত্র দেখে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, এসব নেতারা ত্রাণ দেওয়ার নামে মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিটি খেলছেন। তারা তাদের নিজের অবস্থার পাঁকা করতে ত্রাণ দেওয়ার নামে জনগণের সঙ্গে এধরনের কর্মকান্ড করছেন। অনেকে ত্রাণ নেওয়ার জন্য ছবি তুলতেও বাধ্য হচ্ছেন।
ত্রাণ বিতরণ নিয়ে নানা গুনজন শোনা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গরীবের এই ত্রাণ চাউল চুরি করে নেতা, জনপ্রতিনিধি ও ডিলাররা ধরা পড়েছে। সরকার প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তা গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের অধিকার। তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। কিন্তু তারা তা না করে রক্ষক হয়ে ভোক্ষকের কাজ করছে। সরকারের দেওয়া ত্রাণ সকলে যাতে সুষ্ঠু ভাবে বুঝে পায় তার জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা দরকার। ত্রাণের অনুষ্ঠানে বিতরণের ছবি না তুলে কি পরিমান ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তার ছবি ও কতজন ব্যক্তিকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা প্রচার হোক। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বর্তমান সময়ে নানা টানাপোড়নের মধ্যে দিন পার করছে। পারলে তাদেরকে গোপনে ত্রাণ সহায়তা করারও দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসের এই মহামারি আক্রমনে পুরাদেশ থমকে গেছে। সকল কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। এসময় এই সংক্রমণ ব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের নির্দেশনা মেনে চললে এই সংক্রমন ব্যাধি প্রতিরোধ করতে পারলে আমরা আগামীতে সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারবো। তার জন্য সরকার ঘোষিত নির্দেশনা নিজে মেনে চলা ও অপরকে মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। প্রকাশ ঘোষ বিধান:
The post করোনায় ত্রাণ বিতরণ: ফটোসেশন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/39ZBeIp
No comments:
Post a Comment