Sunday, August 1, 2021

কালিগঞ্জের মথুরেপুরে চুরির অভিযোগে কিশোর গ্যাং এর ৪ জন আটক https://ift.tt/eA8V8J

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের নিজদেবপুর থেকে চুরির অভিযোগে তিন কিশোর ও এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। এসময় তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরিকৃত পণ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় বিগত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন বাড়িতে চেতনানাশক প্রয়োগসহ নানা কৌশলে চুরি সংঘঠিত হচ্ছিল। চুরি ঠেকাতে এলাকাবাসী নিজেদের মধ্যে আলোচনাপূর্বক পাহারার ব্যবস্থা করে। এক পর্যায়ে শনিবার সন্ধ্যায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় গ্রামবাসী এলাকার ৩ কিশোর ও পলাশ (২১) নামে এক যুবককে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন কিশোর চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে উপ-পরিদর্শক সেলিম রেজা ও সিয়াবুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে চুরিকৃত একটি ডিভিডি প্লেয়ারসহ আটক ৪ জনকে থানায় নিয়ে আসেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, এব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আটক তিন কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। চুরির সাথে জড়িত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পলাশকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

The post কালিগঞ্জের মথুরেপুরে চুরির অভিযোগে কিশোর গ্যাং এর ৪ জন আটক appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3fl6Spb

জুলাই মাসে সাতক্ষীরায় ১৫ জনসহ খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু ১৩১৮ https://ift.tt/eA8V8J

পত্রদূত ডেস্ক: জুলাই মাসে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমনের ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ মাসে সর্বাধিক মৃত্যুর সাথে রেকর্ড শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যাক রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর ওই মাসেই এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে এসে বিভাগে করোনার শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মহামারীতে এক মাসে সর্বাধিক ১ হাজার ৩১৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে জুলাইয়ে। এক মাসে সর্বাধিক ৩৬ হাজার ১৫ জন রোগীও শনাক্ত হয়েছে ওই মাসেই। আর একই মাসে সর্বাধিক ৩০ হাজার ৩৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অপরদিকে গত জুন মাসে বিভাগে ৪২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শনাক্ত হয়েছিল ২২ হাজার ৬২৬ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ৭ হাজার ৪৩ জন। দুই মাসে তিনদিক বিবেচনায় জুলাইয়ে করোনার ভয়াবহ অবস্থা ছিল খুলনা অঞ্চলে। মহামারীর ১৭ মাসে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। যা গত বছরের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি।

গত বছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর এক দিনে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল ৯ জুলাই। আর ৭ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। তবে জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহের চেয়ে শেষ সপ্তাহে এসে সেই ভয়াবহতা কমেছে। সর্বশেষ ৩১ জুলাই বিভাগে ১৯ জনের মৃত্যু এবং শনাক্ত হয়েছে ৫৭১ জনের।

অসচেতনতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে। এ ছাড়া একবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিতি, পাকস্থলির কাযকারিতা ক্ষীণ নিয়ে ভর্তি, হাসপাতালে জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বল্পতা, অক্সিজেন সংকট, সতকর্তার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করায় মৃত্যুর সংখ্যা পারদের মতো উঠানামা করছে। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগির চাপও বেড়ে যায়। ধারণক্ষমতার বাইরে রোগি ভর্তি ছিল। তবে পরবর্তীতে হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেকটা উন্নত হয়েছে। সংক্রমণও কমেছে। শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কমেছে।

করোনার সংক্রমণরোধে সারাদেশে ১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। ১৪ দিনের লকডাউন শেষে ঈদ উপলক্ষে ৫ দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করা হয়। ঈদ উপলক্ষে মানুষের এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতে সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এমন প্রেক্ষাপটে করোনার লাগাম টানতে গত ২৩ জুলাই থেকে আবার ১৪ দিনের লকডাউন শুরু হয়, যা এখনো চলমান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার ডেল্টা বা ভারতীয় ধরনের কারণেই জুলাই মাসে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের লাগাম টানতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে সহসা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে কিনা তা এখনো বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৯২ হাজার ৯৩২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৮৮ জনে। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৮ হাজার ৭৮৬ জন।

জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। খুলনায় মারা গেছেন ৬২৪ জন। এরপর কুষ্টিয়ার অবস্থান। এই জেলায় ৫৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া যশোরে ৩৪৪ জন, ঝিনাইদহে ২০২ জন, চুয়াডাঙ্গা ১৬১ জন, মেহেরপুরে ১৩৭, বাগেরহাটে ১২৩ জন, নড়াইলে ৯২জন, সাতক্ষীরায় ৮৫ জন ও মাগুরায় ৬৭ জন মারা গেছেন।

The post জুলাই মাসে সাতক্ষীরায় ১৫ জনসহ খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু ১৩১৮ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3rTbbx1

এক প্রাঞ্জ রাজনীতিক বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় https://ift.tt/eA8V8J

প্রকাশ ঘোষ বিধান
জগৎখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল¬ চন্দ্র রায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী গ্রামে ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে একজন আদর্শ শিক্ষক, প্রাঞ্জ রাজনীতিক, সফল শিল্প¯্রষ্টা, ভারতবর্ষে বিজ্ঞানী গড়ার কারিগর, বিখ্যাত সমাজসেবক, সু-সাহিত্যিক এবং বহুগুনের অধিকারী এক মহান দেশপ্রেমিক। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের ক্ষণজন্মা পুরুষদের মধ্যে প্রফুল¬ চন্দ্র রায় অন্যতম।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্ল¬বের পর ব্রিটিশ শাসন সংহত করার বিশেষক্ষণে রামমোহন-বিদ্যাসাগর-কেশবচন্দ-দ্বারকানাথ প্রমুখের নেতৃত্বে বাঙালি রেনাসাঁর ঢেউ যুগ পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়ে সমাগত, সিপাহী বিদ্রোহের আলোড়িত করেছিল সমাজের উপরিমহলকে। এ রকম একটা সময়ে প্রফুল¬ চন্দ্র রায়ের জন্ম।

১৮৮৩ সালে আচার্য প্রফুল¬ চন্দ্র রায় ব্রিটেনের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হন। ১৮৮৫ সালে তিনি বিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই তার মনের যন্ত্রণা প্রকাশের সুযোগ এলো। কারণ সে সময় এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর স্যার স্টাফোর্ট নর্থকোট ঘোষণা দিলেন, সিপাহী বিদ্রোহের আগেও পরে ভারতবর্ষের অবস্থা শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার।

এ সময় তার সামনে বিএসসি পরীক্ষা তবুও জাতীয়তাবোধ স্বদেশ প্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে এই প্রতিযোগিতা মুলক প্রবন্ধে রচনায় অংশ গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ শাসকের অন্যায়, অবিচার আর ভারতবাসীর উপর অত্যাচারের নগ্ন চিত্র প্রবন্ধে তিনি উম্মোচন করেন। সে প্রবেন্ধে যুক্তি-তর্কের বাক্যবানে ব্রিটিশ সরকারের ভীত কেপে উঠেছিল। তিনি ব্রিটিশ সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন ভারতবাসীকে তারা কিভাবে শোষণ করেছে।

সত্য প্রকাশে নির্ভিক ভারতীয় ছাত্র প্রফুল¬চন্দ্র রায় যুক্তি-তর্কের যাদুস্পর্শে এক পর্যায়ে বলেছিলেন, “আশাকরি আপনাদের সম্রাজ্যের মৃত্যুকুপ বেজে উঠেছে। আর অধিকতর উজ্জ্বল যুগের সূচনা হবে ভারতে”। প্রবন্ধে তিনি ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসনের নামে শোষনের নিখুত বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার, অবিচার, জনগণের উপর নানারকম করের বোঝা চাপানোর প্রভৃতি বিষয় তিনি পুনখানুপুংখ রুপে উপস্থাপন করেন। তিনি লিখিছিলেন “দুর্দশাগ্রস্থ সাধারণ মানুষ, নুন কেনার ক্ষমতা নেই, সমুদ্রের ধার থেকে খুঁটিয়ে খুটিয়ে যে খানিকটা তুলে আনে, এই দিয়ে ভাত খায়।

রাজস্ব না দেওয়ার অপরাধে এদের শাস্তি হয়, যেন এরা নিষিদ্ধ কোন কাজে যুক্ত রয়েছে। এর নিন্দে করার কোন ভাষা নেই। আরোও লিখেছেন দেশের কলেজ ও গবেষণাগারগুলিতে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ভারত সরকার টাকা দিতে পারছে না। সে সরকার দুর্গকে “রাজ প্রসাদ” করার জন্য এক কোটি পাউন্ড খরচ করতে পারে, গবেষণাগারের জন্য এক ফার্দিনও খরচ করতে পারে না, তার মস্তক থেকে সভ্য সরকারের শিরোপা কেড়ে নেয়া হোক।

পরাধীন ভারতের দেশ প্রেমের উজ্জীবিত যুবক প্রফুল¬ চন্দ্র যেদিন বিলেতে ব্রিটিশের বুকে বসে ভারত বর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ধ্যার্থহীনভাবে লিখেছিলেন, “ভারতীয় সরকার এক কর আদায়ের যন্ত্র। কিছুতেই তাকে জনগণের সরকার বলা যায় না। ব্রিটিশ সরকার প্রফুল¬ চন্দ্রের এ বক্তব্য ভালোভাবে নেয়নি। পুরস্কার তো দুরের কথা। ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি ছিলেন ছদ্ধবেশী বিপ্ল¬বী ছাত্র।

ব্রিটিশ সরকার প্রফুল¬ চন্দ্র রায়ের উপর ক্ষুব্ধ হলেও ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মওলী তাকে যথার্থ মুল্যায়ন করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে বিএসসি পরীক্ষায় প্রফুল¬ চন্দ্র রায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শ্রেষ্ঠ ৫০০ জন ছাত্রের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। সে বছর তিনিই একমাত্র গবেষক ছাত্র হিসেবে ডিএসসি ডিগ্রী ভাল করার সুযোগ পান।

তার মৌলিক গবেষণাপত্রে খুশি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৮৮৭ সালে তাকে ডিএসসি ডিগ্রী প্রদান করেন এবং এ কৃতিত্বের সুবাদে ১৮৮৮ সাথে “হোপপ্রইজ” বৃত্তিলাভ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল সোটাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন।

প্রফুল¬চন্দ্র রায় বিজ্ঞানী হলেও দক্ষ রাজনীতিক ছিলেন। দেশের সংকটময় মুহুর্তে যখন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা রাজবন্দী তখন তিনি বিজ্ঞানাগার ছেড়ে বীরত্বের সাথে রাজনৈতিক মঞ্চে উঠেছিলেন এবং দৃপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন “বিজ্ঞান অপেক্ষা করতে পারে কিন্তু স্বরাজ অপেক্ষা করতে পারে না”। তিনি স্বরাজ জয়ের সহযোগি হিসেবে কখনও মহামতি গোখলে, মহাতœা গান্ধীর মতবাদ, আবার কখনো নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর নীতির প্রতি সমার্থন জানিয়েছিলেন।

কারণ তিনি চেয়েছিলেন অহিংসা কিম্বা সহিংস সেভাবেই হোকনা কেন ভারতে স্বাধীনতা আসুক। তার রাজনীতির দুরদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে একজন ইউরোপিয়ান বলেছিলেন, মহাত্ম গান্ধী যদি আর দুই জন পিসি রায় পেতেন তাহলে ভারত অনেক আগেই স্বরাজ পেতেন। ম্যাঞ্চেষ্টার গার্ডিয়ানের এক সংবাদদাতা এ কথা লিখেছিলেন।

১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা কে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯০৯ সালে মহাত্ম গান্ধী গোষলের সাথে কলকাতায় আসেন। সে সময় গান্ধীর সাথে প্রফুল¬চন্দ্রের আলাপ হয় এবং কংগ্রেস রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯২৫ সালে মহাত্ম গান্ধী খুলনায় অসহযোগ আন্দোলন প্রচারে খুলনায় এলে প্রফুল¬চন্দ্র রায় স্টিমার ঘাটে স্বাগত জানান। আচার্য প্রফুল¬চন্দ্র রায় ছিলেন সম্বধনা কমিটির সভাপতি।

এরপর ১৯২৫ সালে কোকনাদ কংগ্রেস কনফারেন্সে প্রফুল¬চন্দ্র রায় সভাপতিত্ব করেন। একই সময় কাটিপাড়ায় “ভারত সেবাশ্রম” নামে একটি স্থাপন করে নিজ জন্মভূমির এলাকার মানুষের চরকায় সুতা কাটার মাধ্যমে স্বদেশী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে আচার্য্য প্রফুল¬চন্দ্র রায়ের নাম লেখা ছিল বিজ্ঞানী বেশে বিপ্ল¬বী।

১৯১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী রাউলাট আইনের বিরুদ্ধে টাউন হলে চিত্তরঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে সভায় প্রফুল¬চন্দ্র রায় বলেন, আমি বৈজ্ঞানিক, গবেষণাগারেই আমার কাজ, কিন্তু এমন সময় আসে যখন বৈজ্ঞানিকেও দেশের আহবানে সাড়া দিতে হয়। আমি অনিষ্ট কর এই আইনের তীব্র প্রতিবাদ করিতেছি। ১৯২১ সালে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন খদ্দর প্রচারের সময় প্রফুল¬চন্দ্র রায় ছিলেন অন্যতম প্রধান বক্তা। ১৯২৭ সালের জুন মাসে আচর্য প্রফুল¬চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে জাতীয় কংগ্রেসের খুলনা জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পরাধীন বাঙালির অকৃত্রিম বন্ধু আচার্য্য প্রফুল¬চন্দ্র রায়ের অবদান অপরিসীম। তিনি আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাস আবিস্কার করে বিজ্ঞান জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার তার বিশেষ কৃতকার্যের জন্য নাইট উপাধি দেন। এ মহান দেশপ্রেমিক সারাজীবন দেশের কল্যাণে কাজ করে ১৯৪৪ সালে ১৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন। লেখক: সাংবাদিক

The post এক প্রাঞ্জ রাজনীতিক বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3icceF3

খুলনা বিভাগে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৮০ https://ift.tt/eA8V8J

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৮৮০ জনের।

এর আগে শনিবার (৩১ জুলাই) বিভাগে ১৯ জনের মৃত্যু এবং ৫৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। রোববার (০১ আগস্ট ) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে কুষ্টিয়ায়। বাকিদের মধ্যে যশোর ৭ জন, খুলনায় ও ঝিনাইদহে ৫ জন করে; বাগেরহাট ৩ জন, নড়াইলে ও চুয়াডাঙ্গায় ২ জন করে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৯৩ হাজার ৮১২ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৪২৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৯৫ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮৯ জনের। এ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৯৬৫ জনের। মারা গেছেন ৬২৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৮৫৪ জন।

বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৭১ জনের। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৪১৮ জন।

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭০৪ জন এবং মারা গেছেন ৮৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৪৫৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৮৬ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৮২৬ জন। মোট মারা গেছেন ৩৫১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ২৭৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় নড়াইলে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৪২ জনের। মোট মারা গেছেন ৯৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৭ জন।

মাগুরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জনের শনাক্ত হয়েছে। এ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১২৫ জনের। মোট মারা গেছেন ৬৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৯ জন।

ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৫৪ জন। মোট মারা গেছেন ২০৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৭২৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৮১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪১৫ জনের। মোট মারা গেছেন ৫৬৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৯৯২ জন।

চুয়াডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জনের শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪৬ জন। মোট মারা গেছেন ১৬৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ১৭ জন।

মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৬৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১০৯ জন।

The post খুলনা বিভাগে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৮০ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2V85kI8

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে তিন নারীর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮২ জন https://ift.tt/eA8V8J

সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এনিয়ে জেলায় ৩১ জুলাই শনিবার পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৮৫ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ৫৪৫ জন।

করোনা উপসর্গে মৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের রাশেদ গাইনের স্ত্রী হাসিনা খাতুন(৫০), একই উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মোঃ অবু বাক্কার সিদ্দিকীর স্ত্রী রমিছা খাতুন (৫৭) ও শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের হামজার আলীর স্ত্রী জাহানারা খাতুন( ৫৫)।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে ও আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিরা গত ২৪ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জুলাই সকাল ৭ টা ৫১ মিনিট থেকে রাত ১০ টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়।

সামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১ আগষ্ট সকাল পর্যন্ত মোট ১৫৬ন রোগী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ১১জন করোনা পজেটিভ ও বাকি ১৪৫ জন সাসপেক্টেড। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন ও সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৮ জন। নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি আছে ৮ জন।

এদিকে সাতক্ষীরায় ফের কমেছে করোনা সংক্রমনের হার। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ২৯৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৬১শতাংশ। এর আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ২৫শতাংশ।

সাতক্ষীরা সদর হাসপতালের মেডিকেল অফিসার ও জেলা করোনা বিষয়ক তথ্য কর্মকর্তা ডাঃ জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনা উপসর্গে মারা গেছে ৩ জন। এসময় ২৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮২জনের করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়। এরমধ্যে সামেক হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে ৯১ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে র‌্যাপিড এন্টিজেন কীটে ২০৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরো ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, শনিবার ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৭৩ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৪৫২ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা রোগী রয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জন। এরমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর সংখ্যা ৩১ জন। ভর্তি রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৭ জন রয়েছেন। বাড়িতে হোম আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ১০৮ জন।

বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৯ জন। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫৬ জন। সরকারি ও বেসরকারি মিলে জেলায় মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সুস্থ হয়েছেন ৬৪ জন। জেলায় ৩১জুলাই পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৮৫ জন এবং উপসর্গে মারা গেছেন আরো ৫৪৫জন।

The post সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে তিন নারীর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮২ জন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3Abpbp1

ডেটলাইন বুড়িগোয়ালিনি খেয়াঘাট: কেয়ামনির সন্তান প্রসবের জন্য যুদ্ধযাত্রা! https://ift.tt/2V9xHpu

আব্দুল হালিম, বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর): গ্রামে নেই কোন রাস্তাঘাট। যোগাযোগের একমাত্র উপায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ। সেখানে একমাত্র যান সাইকেল ভ্যান। কিন্তু বর্ষায় সেখানে হাটু কাঁদা। এই কাঁদা ঠেলেই খেয়াঘাট। তারপর নৌকা ট্রলার চড়ে নদী পার হতে হবে। অন্য কোন যানবাহনে সড়ক পথে ১২ কি. মি. পাড়ি দিয়ে যেতে হবে উপজেলা সদরে। এরপর হবে চিকিৎসা। সে সুযোগ অনেকেরই কপালে জোটে না। পথেই জীবন প্রদীপ নিভে যায় অনেকের। এটাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা-পদ্মপুকুরের মানুষের জীবন চিত্র।

শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান হোসেন জানান, তার স্ত্রী কেয়ামনি (২০) প্রথম সন্তান সম্ভবা। গত শুক্রবার মধ্যরাতে তার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। সন্তান প্রসবের জন্য গ্রাম্য চিকিৎসক ও ধাত্রী ডেকে আনা হয়। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন নরমাল ডেলিভারির জন্য। দেরী হওয়ায় প্রসূতির শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। শনিবার সকাল পর্যন্ত সব ধরনের চেষ্টার পর তারা ব্যর্থ হয়ে প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপরই শুরু হয় হাসপাতালে নেওয়ার দৌড় ঝাপ। কিন্তু বললেই তো আর হাসপাতালে নেওযা যায় না। চন্ডিপুর থেকে বুড়িগোয়ালিনি খেয়াঘাটের দুরুত্ব প্রায় ১০ কি.মি.। নৌকা বা ট্রলার আগে থেকে বলে না রাখলে পাওয়া যায় না। ফলে বর্ষাকালে হাটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু ১০ কি.মি. যাতায়াতের পথে হাটু কাঁদা। এই কাঁদা ঠেলে স্বাভাবিক অনেকের পক্ষেই যাতায়াত করা অসম্ভব। সেখানে একজন সন্তান সম্ভাবা অসুস্থ্য প্রসূতির নিয়ে যাওয়াটা অনেকটা অসাধ্য ব্যাপার।

প্রসূতি কেয়ামনির শ্বশুর ইব্রাহিম হোসেন জানান, নিরুপায় হয়ে যন্ত্রণাকাতর বৌমাকে দোলনার দড়ির ওপর শুইয়ে তার ওপর বাঁশ বেধে কাঁধে নিয়ে খোলপেটুয়া নদীর পাতাখালি খেয়াঘাটে নেওয়া হয়। সেখানে নৌকা খুঁজে ভাড়া চুক্তি করতে আরো খানিকটা সময় দেরি হয়ে যায়। পরে খেয়া পারাপারের জন্য রাখা ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকায় প্রসূতি কেয়া মনিকে নিয়ে রওনা দেওয়া হয় উপজেলার নওয়াবেকী খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে। সঙ্গে ধাত্রীসহ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও। সেখানে পৌঁছে সড়ক পথে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছতে পাড়ি দিতে হবে আরো ১২ কিলোমিটার। এরই মধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে নৌকার মধ্যেই ডেলিভারি হয় একটি পুত্র সন্তান।

রোববার দুপুরে কেয়ামনির শ্বশুর ইব্রাহিম হোসেন জানান, বর্তমানে প্রসূতি মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছে। একটু ভালো মানের চিকিৎসা ও প্রসূতিসহ নবজাতকের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সেখানে ডাক্তার ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে ভালো আছেন। প্রসঙ্গত, গত ছয় মাসে দুইজন প্রসূতি উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী খেয়াঘাটে পৌঁছানোর আগেই নৌকার মধ্যেই সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানান এলঅকাবাসী।

The post ডেটলাইন বুড়িগোয়ালিনি খেয়াঘাট: কেয়ামনির সন্তান প্রসবের জন্য যুদ্ধযাত্রা! appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3j9HV11

Saturday, July 31, 2021

করোনায় বিধ্বস্ত সাতক্ষীরা বিসিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো https://ift.tt/eA8V8J

আব্দুস সামাদ: লকডাউনে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল পরিবহনে অসুবিধা, উৎপাদিত পন্যের বাজার মূল্য না থাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সাতক্ষীরা বিসিকের ব্যবসায়ীরা। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করতে না পারায় দিন দিন এক ক্ষতি আরও বাড়ছে। এদিকে পণ্য বিক্রয় করতে না পেরে আর্থিক সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে পারছে না ঠিক সময়ে। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক শ’ শ্রমিক।
সাতক্ষীরা বিসিক কার্যালয় থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের অদূরে বেতনা নদীর তীরে বিনেরপোতা নামক স্থানে ১৯৮৬ সালে ১৫.৭৫ একর জমির উপর ৯৬টি প্লট নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বিসিক শিল্পনগরী। এতে ২৮টি শিল্প স্থাপনা থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ২৪টি শিল্প কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে শ্রমিক রয়েছে এক হাজার এক শ’। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে উৎপাদন হয়েছে ৭৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনাকালীন সময়ে নানা সদস্যায় সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীতে উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ। পূর্বে প্রতি মাসে ১০-১২ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হলেও সেটি এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চার কোটিতে।
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীতে শিল্প স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দুই টি মাছ প্রক্রিয়াজাত ইউনিট, মৎস্য হ্যাচারী, দুগ্ধ শিতলীকরণ, বরফ কারখানা, প্লাউড ইন্ডাজস্ট্রিজ, বেকারি, প্লাস্টিক ইন্ডাজস্ট্রিজ, লবন ফ্যাক্টরী, ভাস্কর্য ফ্যাক্টরী, ভেটেনারী ওষুধ ফ্যাক্টরী, ইনকিউবেটর ফ্যাক্টরী, ওয়েল্ডিং ফ্যাক্টরী, সেলাই মেশিং এর যন্ত্রাংশ ফ্যাক্টরী ও হস্ত শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান পন্য উৎপাদন করতে পারলেও, লকডাউনের কারণে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। এতে মালামাল গোডাউনে থেকে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকে আবার বলছেন, পণ্য উৎপাদনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে বাজারে পণ্যের দাম তার চেয়ে অনেক কম।
তবে নতুন উদ্যোক্তারা বলেছেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে এখান থেকে উৎপাদন হয়েছে ৭৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা পণ্য। নতুন উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বিসিক শিল্পনগরী এরিয়া বৃদ্ধি করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলে এ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
তাদের দাবী, প্রায় ৩৫ বছরের পুরাতন সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী সে সময়ের কার জন্য ঠিক থাকলেও এখন নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ছে প্লটের। কিন্তু নতুনদের চাহিদার তুলনায় প্লট নেই। তাই বিসিক শিল্পনগরীর প্লট বৃদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। এতে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থান হবে বহু মানুষের।
বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মেসার্স রনি প্লাইউড ইন্ডাষ্ট্রির সত্ত¡াধিকারী জিএম নুরুল ইসলাম রনি বলেন, করোনায় সাতক্ষীরা বিসিকের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পণ্য উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা যাচ্ছে না। পণ্য গোডাউনে থেকে পঁচে যাচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠাতে পারবে না ব্যবসায়ীরা।
তিনি আরও বলেন, আমার ফ্যাক্টারীতে একটি মুরগীর বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১৫ টাকা। বাজারে বিক্রয় করতে গেলে দাম পাচ্ছি মাত্র ৫ টাকা। প্রতি পিসে লোকসান হচ্ছে ১০ টাকা। এভাবে আর কত দিন লোকসান গুনবো। এসময় তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ব্যাপারে বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন বলেন, লকডাউনের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। স্বাভাবিক হয়ে উঠতে সময় লাগবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ৪% সুদে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

The post করোনায় বিধ্বস্ত সাতক্ষীরা বিসিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3fi9PXC