Tuesday, June 1, 2021

একদিনে আরো ৪১ জনের মৃত্যু: নতুন শনাক্ত ১৭৬৫জন https://ift.tt/eA8V8J

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ হাজার ৬৬০জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭৬৫জন। মোট শনাক্ত ৮ লাখ ২ হাজার ৩০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায়  ১৭৭৯জন এবং এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৪২হাজার ১৫১জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য  জানানো হয়েছে।

এতে আরো জানানো হয়, ৫০৩টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৫৩৬টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৮হাজার ২৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ ৯লাখ ৬৫হাজার৭৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক  ৬৭শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫০শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮শতাংশ।

The post একদিনে আরো ৪১ জনের মৃত্যু: নতুন শনাক্ত ১৭৬৫জন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3vRYvaI

নিরাপদ মাতৃত্ব ও করোনাকালীন মায়ের স্বাস্থ্যসেবা https://ift.tt/eA8V8J

গাজী শরীফা ইয়াছমিন

নিরাপদ মাতৃত্ব প্রত্যেক মায়ের স্বীকৃত অধিকার। সুন্দর জীবন ও সুস্থ সবল নবজাতকের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বের বিকল্প নেই। একটি সুস্থ শিশুর জন্মের জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব অপরিহার্য। এজন্য গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন পরিচর্যা ও নিরাপদ প্রসব বিষয়ে সকল সেবা পরিকল্পিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখে ১৬৫। এসব মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি, গর্ভকালীন জটিলতা, গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতা, সামাজিক কুসংস্কার, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া, অদক্ষ দাই এর হাতে সন্তান প্রসব করানো, প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা ও গর্ভকালীন অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যায় পরিবারের অবহেলা। বাংলাদেশে মোট মাতৃমৃত্যুর ৭৩ শতাংশই ঘটে প্রসবের পর, যার ৫৫ শতাংশই প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে থাকে। তাই প্রসব-পরবর্তী সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যদি কোনো নারীর প্রাণহানি ঘটে, তাহলে তা মাতৃমৃত্যু। অথবা গর্ভধারণজনিত জটিলতার কারণে প্রসবকালে এবং প্রসব-পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাণহানি ঘটলেও তা মাতৃমৃত্যু।

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৬ জন মা গর্ভকালীন জটিলতায় মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির পরিসংখ্যান বলছে, করোনাকালে গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচি : সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জানিয়েছে,  করোনাকালে মাতৃমৃত্যু বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এছাড়াও করোনার সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব কমে যাওয়ায় বেড়েছে মাতৃমৃত্যু।

জরিপে জানা যায়, মহামারির আগে ৫০ শতাংশ প্রসব হতো বাড়িতে, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭৩ শতাংশ। ২০১৯ সালের মার্চে প্রসব-পূর্ব সেবা পাওয়া গর্ভবতী ছিলেন ৪২ হাজার ৫২৬ জন, ২০২০ সালের মার্চে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৬ হাজার ৪১৫। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এপ্রিল ২০২০ এ। মহামারির আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রসব-পূর্ব সেবা পেয়েছিলেন ৪২ হাজার ৫৭১ জন গর্ভবতী। ২০২০ এ এই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৬২ জনে।

করোনাকালে গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত জটিলতাসহ করোনা আক্রান্ত অনেক মা, সন্তান জন্মদানের পর মৃত্যুবরণ করেছেন। ডব্লিউএইচও এর গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন প্রসূতি নারীকে প্রসব পূর্ব সময়ে চারবার চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। করোনা সংক্রমণের ভয় এবং যাতায়াতসহ নানা সমস্যার কারণে প্রসবকালীন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারীরা। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, কোভিড-১৯ এর  নানামুখী প্রভাবে ২০২০ সালে প্রায় দুই লাখ ২৮ হাজার শিশুমৃত্যু এবং ১১ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনার প্রভাবে অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৫ লাখ শিশু গর্ভবতী হয়েছে, ১ দশমিক ৯ লাখ শিশু পুষ্টিকর খাবারের সুযোগ বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), ইউএনএফপিএ, ডব্লিউএইচও তথ্যমতে, কোভিড-১৯ এর  কারণে সাউথ এশিয়ার ছয়টি জনবহুল দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেকারত্ব বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বেড়েছে বাল্যবিয়ে। বাল্যবিয়ের কারণে কিশোরী বয়সে মা হওয়া ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতিতে সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য সেবার কাজ করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে এই সেবাদানের কাজ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দুই অধিদপ্তরের মতে, মাতৃমৃত্যু কমাতে তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়, অনিরাপদ গর্ভধারণ পরিহার, নিরাপদ প্রসব ও জরুরি প্রসূতি সেবা। এই তিনটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ গত ৫০ বছরে বিশেষ উন্নতি করেছে।

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ভিশন-২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ভিতর মাতৃমৃত্যুর হার ১.৫ শতাংশে কমিয়ে আনা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে মাতৃমৃত্যুর হার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি লাখে জীবিত জন্মে ৭০-এর নিচে এবং নবজাত মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ১২-তে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচি (২০১৭-২২) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র (২০১৯-৩০) অনুমোদিত হয়েছে এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মাতৃমৃত্যু কমানোর জন্য যেসকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেগুলো হলো- জরুরি প্রসূতি সেবা কার্যক্রম, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ, ডিমান্ড সাইড ফাইন্যান্সিং (ডিএসএফ) মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ কর্মসূচি, মাঠ পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের রক্তক্ষরণের কারণে মাতৃমৃত্যু রোধ কার্যক্রম, মাসিক নিয়মিতকরণ ও গর্ভপাত-পরবর্তী সমন্বিত সেবা, অবসটেট্রিক্যাল ফিস্টুলা রিপেয়ার কার্যক্রম।

একই ধরণের কার্যক্রম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়িতে নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন করা, গর্ভকালীন জটিলতা নিরূপণ ও জরুরি প্রয়োজনে রেফার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্কিল্ড বার্থ এটেনডেন্ট ট্রেইনিং প্রোগ্রাম (সিএসবিএ) চালু করা হয়েছে এবং নবজাতকের সুরক্ষায় ‘জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২০০৯ সালে নেয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে নারীর গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর জরুরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে মজবুত ও টেকসই করতে ১০৭টি মেডিকেল কলেজ, পাঁচ হাজার ১৮২টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, প্রায় ১০ হাজার ৪০০ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৪৬টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতাল, ৪২৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচ লক্ষাধিক স্বাস্থ্য সেবাদানকারী কর্মী দেশের সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য মিডওয়াইফারি বা ধাত্রী সেবা মাতৃমৃত্যু হার কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে মোট পেশাদার ধাত্রী আছেন ৪ হাজার ৩৯৬ জন এবং সহযোগী ধাত্রী আছেন ৭ হাজার ২০২ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার জনে পেশাদার মিডওয়াইফ আছেন ০.৩ জন। দ্য স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস মিডওয়াইফারি ২০২১ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭২০ জন শিশুর জন্ম হয়।

তবে কেবল মাত্র ৫৩ শতাংশ শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত ছিলেন। দেশে চিকিৎসক ও নার্সদের মতো ধাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বেড়ে চলেছে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ অতি আবশ্যক। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ধাত্রীবিদ্যায় জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য মানুষের তুলনায় গর্ভবতী নারীরা কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে নেই। এখন পর্যন্ত ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড, গর্ভনালী বা মায়ের বুকের দুধে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে দেহ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসার কারণে গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মাসগুলোতে অত্যন্ত বাজেভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। করোনা মহামারির সময়ে গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে যতোটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

কর্মজীবী গর্ভবতী নারীর গণপরিবহণ, যেকোনো জমায়েত এড়িয়ে চলতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ টেলিভিশন, মেসেজ বা অনলাইনে নিতে হবে এবং সম্ভব হলে বাসায় থেকে কাজ করতে হবে। অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেমন- সাবান ও পানি দিয়ে বার বার হাত ধোয়া, ঘরে বার বার স্পর্শ করা হয় এমন স্থান/জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা, কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো লক্ষণ নিজের মাঝে দেখা যাচ্ছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করা, তবে লক্ষণ থাকলে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সেবা গ্রহণ করা।

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি জাতিসংঘের ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, বিভিন্ন দাতা সংস্থা এনজিও, পেশাজীবী সংগঠন ও কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে কিছু কর্মসূচি চালু করেছে। নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলাসহ প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সকল সম্মানীত উদ্যোগের মাধ্যমে করোনাকালে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

The post নিরাপদ মাতৃত্ব ও করোনাকালীন মায়ের স্বাস্থ্যসেবা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3vFoFgN

খুলনায় বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত: সবার জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ দুধ নিশ্চিতের তাগিদ https://ift.tt/eA8V8J

‘দুধ পানের অভ্যাস গড়ি, পুষ্টির চাহিদা পুরণ করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ন্যায় খুলনাতে আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মেধাবী প্রজন্ম গড়তে হলে তাদের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। আর পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতে দুধপানের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন নিয়মিত দুধ পান করে না। মানুষকে দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আরো সচেতন করতে হবে।

‘গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু’ একসময় বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ছিলো উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, এক সময় গ্রামগঞ্জের প্রতিটি পরিবার ছিলো স্বনির্ভর, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তাদের বাজারে যেতে হতো না। কিন্তু সেই ঐতিহ্য নানা কারণে এখন আর নেই। সোনালী সেই দিন ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এসময় তিনি নায্যমূল্যে নিরাপদ দুধ সকলের নিকট পৌঁছে দিতে খামারীদের প্রতি আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে খামারীদের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলা হয় পশুখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী দুধের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। তাছাড়া তাদের উৎপাদিত দুধ সময়মত বিপনন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খামারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড ডে মিল হিসেবে শিক্ষার্থীদের দুধ সরবরাহের অনুরোধ করেন। এছাড়া খুলনা আঞ্চলে একটি মিল্ক প্রসেসিং ফ্যাক্টরি স্থাপনের জোর দাবী জানান তারা।

খুলনা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম মোল্যা। স্বাগত জানান জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রণজীতা চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শ্যামল সিংহ রায় এবং খামারীদের পক্ষে মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন তুষার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফুলতলা উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অরুন কান্তি মন্ডল। দুধের গুনাগুণ সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন ফুলতলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তরিকুল ইসলাম।

এর আগে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্ত্বরে একটি র‌্যালি এবং গাছের চারা রোপন করা হয়। তথ্যবিবরণী

The post খুলনায় বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত: সবার জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ দুধ নিশ্চিতের তাগিদ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3fZ8c0y

কয়রায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ বাধার কাজে নিয়োজিত জনগন কাঁদা ছুড়লেন এমপির ট্রলারে https://ift.tt/eA8V8J

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতে করছিলেন কয়েক শ মানুষ। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামান বাবু। বাঁধে কাজ করা উত্তেজিত জনতা সাংসদকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কাঁদা ছুড়ে মারতে থাকেন ট্রলারের দিকে। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে চলে যান সাংসদ। পরে অবশ্য ফিরেও এসেছেন।

তবে সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামান দাবি করেছেন, তাঁকে বহনকারী ট্রলারে কাঁদা ছুড়ে মারা হয়নি। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ চান টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতিবছর ভাঙনে তাঁরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ভাঙন এলাকায় কাজ করছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে গেলে তাঁকে (সাংসদ) দেখে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁদের ওই দাবি যৌক্তিক। বারবার বাঁধ ভাঙে আর বারবার স্বেচ্ছাশ্রমে তাঁদের কাজ করতে হয়। এ কারণে সাংসদের ওপর তাঁদের ক্ষোভও বেশি। পরে ওই এলাকায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঁধের কাজ করা হয়েছে।

বাঁধে কাজ করা কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, ইয়াসের পর ওই এলাকার বাঁধ ভেঙে মহারাজপুর ও পাশের বাগালী ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে সাগরের লোনাপানিতে। ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে গত বুধবার ভেঙে যাওয়া ওই বাঁধ এখনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিয়মিত জোয়ারভাটা আসা-যাওয়া করছে গ্রামগুলোর মধ্য দিয়ে। ঘূর্ণিঝড় আইলার দীর্ঘ এক যুগ পর আবার এমন দুর্ভোগে পড়েছে। চার দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করছেন এলাকার মানুষ।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংসদ একটি ট্রলারে করে ওই ভাঙা বাঁধের স্থানে যান। যখনই তাঁর ট্রলারটি ঘাটে ভিড়তে যায়, তখনই কাঁদা ছুড়তে শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা মানুষগুলো। বারবার মাইকে ঘোষণা করেও তাঁদের নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় ১০ মিনিট বৃষ্টির মতো কাঁদা ছুড়ে মারার একপর্যায়ে ট্রলারটি পিছু হটে নদীর অপর পাড়ে চলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কাজ করতে থাকা মানুষকে শান্ত করা হলে আবার সাংসদ সেই ভাঙা বাঁধের কাছে যান।

এ সময় সাংসদ মাইকে স্থায়ী বাঁধ না করতে পারায় নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঁধ মেরামতের কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু সেটিও পছন্দ হয়নি কাজ করতে থাকা সাধারণ মানুষের। সাংসদ কাজে নামার পর অধিকাংশ মানুষ কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

সাংসদের ওপর ক্ষোভের কারণ হিসেবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাংসদ। তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের ওই ঠিকাদারির কাজ দেওয়া হয়। এ কারণে বাঁধের কাজের মান ভালো হয় না। তাই জোয়ারের পানি সামান্য বাড়লেই ভেঙে যায় বাঁধ। আর দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।

সাংসদের ট্রলারে কাঁদা ছোড়ার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধের কাছে কেবল ট্রলার ভিড়েছে, এমন সময় সাংসদের ট্রলারকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো কাঁদা ছোড়া হচ্ছে। টিকতে না পেরে পিছু হটছে ট্রলার। মাইকে উত্তেজিত মানুষকে শান্ত হওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন একজন। সাংসদের ট্রলার ফিরে যেতে দেখে হাততালি দেওয়ার শব্দও শোনা যায় ভিডিওতে।

সকাল থেকে ভাঙা বাঁধের কাছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করছিলেন কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসিন রেজা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছোট ভাই জি এম আবদুল্লাহ আল মামুন, বর্তমান নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ আরও অনেকেই। ঘটনাটি তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন। মানুষের এমন আচরণে বিস্মৃত হয়েছেন তাঁরা।

এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গেই তাঁরা কাজ করছিলেন, এমন সময় সাংসদ এসেছেন শুনেই দেখতে পান সাধারণ মানুষ কাঁদা ছুড়ে মারছে। এতে সাংসদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাঁদা লাগে। চেষ্টা করেও সাধারণ মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর মানুষ একটু শান্ত হলে সাংসদ আবার বাঁধের কাছে এসে সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেন। তবে এরপর বাঁধের কাজ আর হয়নি। এ কারণে আজ বাঁধ পুরোপুরি মেরামত করা যায়নি। তবে ওই ঘটনা না ঘটলে বাঁধ পুরোপুরি মেরামত হয়ে যেত।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুল-বোঝাবুঝির কারণে একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। সাংসদ বাঁধের কাছেই আছেন।

The post কয়রায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ বাধার কাজে নিয়োজিত জনগন কাঁদা ছুড়লেন এমপির ট্রলারে appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2RbqCmr

সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্তের মূল কারণ সীমান্ত: কঠোর বিধিনিষেধ জারি  https://ift.tt/eA8V8J

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্তের মূল কারণ সীমান্ত দিয়ে ভারতফেরত নাগরিকের আগমন এবং ভারতীয়দের প্রবেশ। এজন্য সীমান্ত এলাকার প্রতিটি পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে বিজিবির নজরদারি। বিজিবিকেও বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা অবহিতকরণে মিট দ্য প্রেসে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। আরও একটি ইউনিট বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু সীমান্তে নজরদারী নয়, সীমান্তের প্রতিটি গ্রামে করোনা প্রতিরোদে একটি শক্তিশালী কমিটিও গঠন করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপরও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত কল্পে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে রোগীর দর্শণার্থীদের প্রতিও কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে। সাতক্ষীরায় ৫টি বেসরকারি ক্লিনিককে করোনা রোগীর চিকিৎসায় অনুমতি দেওয়া হলেও ওই ক্লিনিকগুলোতে কোন করোনা ইউনিট নেই। তাই বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী করোনা ইউনিট খুলে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করতে হবে।
সাতক্ষীরাকে করোনামুক্ত করতে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
করোনা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের এ দুর্যোগকালীন সময়ে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।
মঙ্গলবার (১ জুন) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিট
মিট দ্য প্রেসে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়াত বলেন, সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতফেরত বাংলাদেশী নাগরিকদের যাতায়াতের কারণে দিনদিন করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।
 তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে অবৈধ লোকজনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, দেবহাটা এবং শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্ত পাহারায় স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, বিজিবি প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ। প্রতিরক্ষা কমিটি সীমান্তের চোরাচালানী, মানুষ পাচারকারী এবং অবৈধ যাতায়াতকারীদের চিহ্নিত করবে।
একইসাথে তাদের বাড়িঘর এবং চলাফেরার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে। এছাড়া সীমান্ত গলিয়ে লোকজনের অবৈধ পারাপার রোধ করতে বিজিবি মাঠে রয়েছে। তিনি জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রতিদিন আসা ৩০০ পণ্যবাহী গাড়ির ৫ শতাধিক চালক ও হেলপার যাতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও বাধানিষেধ জারি করা হয়েছে। এদিকে করোনা সংক্রমন রোধে প্রত্যেককে মাস্ক ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ লঙ্ঘন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে। বর্তমান করোনা সংক্রমনের হার কতটা তা নিশ্চিত করে আগামী ৩ জুনের পর থেকে সাতক্ষীরা জেলায় লকডাউনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ২৯ মে তারিখের চেয়ে ৩০ মে করোনা সংক্রমণের হার ৪ শতাংশ বেশি। সিভিল সার্জন জানান, গত ২৩ মে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। পরের দিন ২৪ মে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ শতাংশে। ২৫ মে আবারো কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। ২৬ মে সংক্রমণের হার দাঁড়ায় ৪৬ শতাংশে। ২৭ মে শুন্য থাকার পরে ২৮ মে সংক্রমণের হার দাঁড়ায় ৪৩ শতাংশে।
আর ২৯ মে সংক্রমণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে। ৩০ মে ৯১ জনের টেস্টের বিপরীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এদিকে, ২৩ মে করোনায় একজন মারা গিয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন বিরতির পরে রবিবার রাতে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রহিমা খাতুন নামের একজন বয়স্ক নারী মারা গেছেন। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৪৭ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২০৯ জন। এছাড়া জেলায় ৯ হাজার ১১১ জনের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৮৪ জন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান প্রমুখ।

The post সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্তের মূল কারণ সীমান্ত: কঠোর বিধিনিষেধ জারি  appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3vGT2DF

অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি’র কঠোর অবস্থান, ৫৯০টি মোবাইল টহল https://ift.tt/eA8V8J

পত্রদূত ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এর সংক্রমন সেদেশে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে ভারতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গমনাগমনের মাধ্যমে উক্ত ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী ভোমরা, গাজীপুর, কুশখালী, কালিয়ানী, মাদরা, কাকডাঙ্গা ও তলুইগাছা এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিজিবি। উক্ত এলাকা সমূহে অবৈধ গমানাগমন প্রতিরোধে বিজিবি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ঐ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম দফায় গত ২৮ এপ্রিল হতে ৫ মে পর্যন্ত ৭ দিনের জন্য ‘সীমান্তে অবৈধ গমনাগমন প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন করা হয়। পরবর্তীতে ঐ কার্যক্রমের সময়সীমা বৃদ্ধি করে বর্তমানেও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৩৩ বিজিবি সাতক্ষীরার সদস্যরা সীমান্তে ৫৯০টি মোবাইল টহল পরিচালনা করেছে এবং অবৈধভাবে যাতায়াতের অভিযোগে ৮ জনকে আটক করেছে। করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে বিজিবি’র এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি সাতক্ষীলা ৩৩ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আল-মাহমুদ সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত মোবাইল টহল কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

The post অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি’র কঠোর অবস্থান, ৫৯০টি মোবাইল টহল appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3vEB58J

Monday, May 31, 2021

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ https://ift.tt/eA8V8J

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। ২০০১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১ জুনকে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছর থেকে বৈশ্বিক খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করাকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ বছর দেশব্যাপী দিবসটি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে ১ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ‘দুগ্ধ সপ্তাহ’ পালিত হবে। এর অংশ হিসেবে সোমবার ০১ জুন থেকে ০৭ জুন পর্যন্ত দুগ্ধ সপ্তাহ পালন করবে সংস্থাটি। আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ও দুগ্ধ সপ্তাহ-২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
এদিন সকালে রাজধানীর খামারবাড়ি মোড়সহ অন্যান্য স্থানে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম, টি-শার্ট বিতরণ ও দরিদ্রের দুধ খাওয়ানো কর্মসূচি পালন করা হবে। একইদিন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২১ উপলক্ষে প্রাণীসম্পদ অধিদফতর ও জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যৌথ আয়োজনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বজুড়ে দুধ একটি স্বীকৃত পুষ্টিকর খাবার। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মানুষকে নিয়মিত দুধ পান করার পরামর্শ দেয়। দুধে আছে ক্যালসিয়াম, যা হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য জরুরি। দুধের আমিষ শরীরে শক্তি জোগায়। দুধ মানুষের শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন এ, জিংকসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানের জোগান দেয়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী একজন মানুষের দৈনিক গড়ে ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা উচিত। কিন্তু তার চেয়ে অনেক কম দুধ পান করে বাংলাদেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দেশের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ দুধ পান করে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে, দেশে দৈনিক মাথাপিছু দুধ গ্রহণের পরিমাণ ১৬৫ মিলিলিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, মাথাপিছু দৈনিক দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণের পরিমাণ ২৭ গ্রামের কিছু বেশি।
বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিডিএফ) তথ্য মতে, গত ১০ বছরে দেশে তরল দুধের উৎপাদন চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।

The post বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3uBAIKL