Friday, July 30, 2021

মিথ্যাচার-অপপ্রচারের অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে মামলা https://ift.tt/eA8V8J

ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে আটকের পর আজ শুক্রবার দুপুরে এক ক্ষুদে বার্তায় তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় র‍্যাব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব সদরদফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় র‍্যাব সদরদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে আজ দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া মাদক, বিদেশি মুদ্রা ও বন্যপ্রাণীর চামড়া জব্দের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন ছাড়া জয়যাত্রা নামক টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার কারণে আলাদা মামলা হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের বাসভবনে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযান শেষে রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয় এবং পরে র‍্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান শেষে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। তার বাসায় বিপুল পরিমাণের মাদকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। তাকে আমরা আটক করে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদরদফতরে নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা। ২৫ জুলাই দলটির মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব মেহের আফরোজ চুমকি স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃতও হয়েছেন রোটারি ক্লাবের একজন ডোনার হিসেবে। জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশনেরও মালিক এই হেলেনা জাহাঙ্গীর। তবে জয়যাত্রা টিভি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলতো বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে মিরপুর-১১ নম্বরের এ ব্লকের ৩ নম্বর রোডে জয়যাত্রা টিভি কার্যালয়ে অভিযান শেষে র‍্যাব সদরদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ বলেন, মিরপুরে জয়যাত্রা টিভি কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। যদিও সম্প্রচারের জন্য চ্যানেলের যে সেটআপ থাকা দরকার, তার সবকিছুই রয়েছে।

তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর তার জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। প্রবাসী প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তিনি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও এখানে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের অফিস পেয়েছি। এ বিষয়েও তদন্ত করা হবে।

চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে র‍্যাবের এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত করে যদি বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া যায়, তাহলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

The post মিথ্যাচার-অপপ্রচারের অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে মামলা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3lgMIjV

চলমান লকডাউন ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ  https://ift.tt/eA8V8J

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বিষয়টি জানান।

ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম  বলেন, আমরা আরও ১০ দিন আগেই কেবিনেট মিটিংয়ে বিধি-নিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। যদিও এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, আমরা কীভাবে এই সংক্রমণ সামাল দেবো? রোগীদের কোথায় জায়গা দেবো?

‘সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব? অবস্থা খুবই খারাপ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব বিবেচনাতেই আমরা বিধি-নিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। ’

ঈদের সময়ে সামান্য বিরতির পর গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে চলছে লকডাউন, যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত।

The post চলমান লকডাউন ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ  appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2V5qh6v

একাধিক মামলা হচ্ছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে https://ift.tt/eA8V8J

 

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাজধানীর গুলশান থেকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এবং ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। গ্রেফতারের সময় তার বাসা থেকে মাদক, ওয়াকিটকি, হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।’

এ ব্যাপারে বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান খন্দকার আল মঈন।

The post একাধিক মামলা হচ্ছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3lggQMi

কেশবপুরে বৃষ্টিতে দাড়িয়েও ওএমএস’র চাল ও আটা কিনতে না পারার অভিযোগ https://ift.tt/eA8V8J

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে লকডাউনে কর্মহীন গরীব এবং অসহায় মানুষেরা মুষলধারে বৃষ্টির ভেতর দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়েও খোলাবাজারে সরকারি ওএমএস’র চাল ও আটা কিনতে না পেরে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই। শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন শহরের আরও ৩টি বিক্রয় কেন্দ্রে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোর থেকেই ওএমএস’র পণ্য কিনতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

তবে দুপুরের মধ্যেই প্রতিদিনের বরাদ্দকৃত চাল-আটা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ফিরে গেছেন অনেকেই। এমন অভিযোগ উঠেছে অসহায় মানুষের মুখ মুখে। চাহিদার তুলনায় পণ্য বরাদ্দ কম থাকায় বৃষ্টিতে লাইনে দাঁড়িয়েও চাল-আটা কিনতে পারেননি তাঁরা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর শহরে চারজন ডিলার ওএমএসের মাধ্যমে শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন ১ টন করে চাল ও ১ টন করে আটা বিক্রি করছেন। একজন ব্যক্তি চাল ও আটা নিতে পারবেন ৫ কেজি করে। খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা করে ও প্রতি কেজি আটা ১৮ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

The post কেশবপুরে বৃষ্টিতে দাড়িয়েও ওএমএস’র চাল ও আটা কিনতে না পারার অভিযোগ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3BWWEFe

কেশবপুরে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা https://ift.tt/eA8V8J

এম. আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকেরা উচু-ডোব জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে। কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে।

সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এই উপজেলায় এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব।

অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে অন্যবার আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৯হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা অতিক্রম করতে পারে।

The post কেশবপুরে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3icANSj

সুন্দরবনে বাঘ সুরক্ষায় বন বিভাগের নানা পদক্ষেপ: চলতি বছরেই নতুন শুমারি https://ift.tt/eA8V8J

বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশী এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা, টহল ফাঁড়ি বৃদ্ধি, চোরা শিকারীদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট পেট্টোলিং চালু, প্রজনন মৌসুমে বনজসম্পদ আহরণের পারমিট বন্ধসহ বাঘ সুরক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল হিসেবে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

এদিকে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে গত ৪ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে ১১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৪ বছরে সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ৮টি। সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১১৪ বাঘ রয়েছে বলে ক্যামেরা ট্রাকিং জরিপে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস নীরবেই পালিত হলো।  তবে, চলতি অর্থ বছরে নতুন করে বাঘ শুমারির কার্যক্রম শুরু করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের সূত্র জানান, ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিলো ৩৫০টি। এর পর ১৯৮২ সালে জরিপে ৪২৫টি এবং ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরপি চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়।

একইভাবে ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বভিাগ। ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনরে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানান। ২০০৪ সালে জরিপে বাঘরে সংখ্যা ছিলো ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে দাড়ায় ১০৬টিতে। সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১১৪ টিতে।

সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকী ২৫ বাঘ হত্যা করেছে চোরা শিকারীরা।

প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা সুন্দরবনের বাঘের মৃত্যুর জন্য ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস), লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠাপানির অভাব, খাদ্য সংকট, বন ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থল অভাব, চোরা শিকারি, অপরিকল্পিত পর্যটন ও বনের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল। এর সাথে বাঘ রক্ষায় আবাসস্থল সংরক্ষণ, বনের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের বিকাশ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধসহ নানা সুপারিশ করেছেন তারা।

সুন্দরবন সহ ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম গাজী বলেন, লোকালয়ে আসা বাঘ নিরাপদে ফিরাতে ইতিমধ্যে ব্যাপক জন সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যার ফলে এখন আর মানুষ বাঘ পিটিয়ে মারে না।

কয়রার সুন্দরবন মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি ইউপি সদস্য সরদার লুৎফর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে এটা নি:সন্দেহে খুশির বিষয়। বাঘের আবাস¯’ল সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে পারলে অবশ্যই বাঘের সংখ্যাবৃদ্ধি পাবে।

কয়রা উন্নয়ন সম্বনয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, চোরা শিকারীদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বাঘ। তারা বাঘ শিকার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে। এই চক্র যাতে করে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি সহ টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া বন্যপ্রাণী বাঘ যাতে তার স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সুন্দরবনের পাশে যেকোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারে সে বিষযটি নজরে আনা প্রয়োজন।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও জীব-বৈচিত্র নিয়ে কাজ করা ‘সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আশঙ্কাজনক হারে সুন্দরবনে বাঘ কমেছে। এটা বাঘের জন্য এক ধরনের হুমকি। তবে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শর্ত সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রাণির সাথে সাথে বাঘও স্বাভাবিক বিচরণ করতে পারবে। এর ফলে বাঘের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. এস কে আমির হোসেন বলেন, বাঘ প্রচন্ড ক্ষুধা না লাগলে লোকালয়ে আসে না। আর লোকালয়ে আসার ফলে অনেক বাঘের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। এ কারণে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গহীন বনে বাঘের খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। যেসব অভয়াশ্রমগুলো রয়েছে সেখানের নিয়মকানুন সঠিকভাবে মানতে হবে। বন বিভাগ, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধায়নে কুমির ও হরিনের মত বাঘের জন্যও প্রজনন কেন্দ্র করা যেতে পারে।

সেখানে বাঘের প্রজনন ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে। সফল হলে সেই বাঘের বাচ্চাকে একটি নির্দিষ্ট সময় লালন পালন করে আবারও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ছেড়ে দেওয়া যাবে। এছাড়াও সুন্দরবনে মানুষের আধিপত্য কমাতে হবে। মানুষের আধিপত্য কমালে শুধু বাঘ নয়, সুন্দরবনের প্রতিটি প্রাণী বেড়ে উঠবে, আপন গতিতে।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ আবু সালেহ বলেন, বর্তমান সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়াতে নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে। যার সুফল কিন্তু দেখা যাচ্ছে। বিগত তিন বছরে অনেক বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বন বিভাগ বাঘ সুরক্ষায় যেভাবে কাজ করছে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসীন হোসেন বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসর্ম্পপন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও চোরা শিকারীদের দৌরাত্ব কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা সর্বশেষ জরিপে বেড়েছে। ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশী এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি। পাশাপাশি চোরা শিকারীদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট পেট্রেলিং চালু করা হয়েছে।

বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগষ্ট সুন্দরবনের সকল পাশপারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচল করতে পারবে। আতংকিত হবার কোন কারন নেই। সুন্দরবনকে বন্যপ্রাণীর জন্য সম্পূর্ন নিরাপদ করতে কাজ করছে বন বিভাগ বলে তিনি জানান।

বন্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, লোকালয়ে আসা বাঘ নিরাপদে ফিরাতে ইতিমধ্যে ব্যাপক জন সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে এখন আর মানুষ বাঘ পিটিয়ে মারে না। এছাড়া বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি। পাশাপাশি চোরা শিকারীদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট পেট্টোলিং চালু করা হয়েছে। বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের সকল পাস পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বন সুরক্ষা পাওয়ায় বাঘ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুন্দরবনের শুরু হচ্ছে বাঘ শুমারি :
বিদেশী বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সদ্য শুরু হওয়া অর্থবছরে সুন্দরবনের বাঘ শুমারি শুরু হবে। শুমারির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। বাঘের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রাণি সংরক্ষণের আঞ্চলিক সহযোগিতার জোরদারকরণ প্রকল্প নেওয়া হয় । এ প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাতিসহ সকল প্রাণির অবলুপ্তির অংশ হিসেবে সুন্দরবনের বাঘ শুমারি শুরু হয়।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি এলাকায় বন কর্মচারীরা বাঘের সন্ধান পেয়েছে। এবারে ভালো ফলাফল আশা করা যাচ্ছে। তিনি জানান, বিদেশী বিশেষজ্ঞ ছাড়াই এবার সুন্দরবনের বাঘ শুমারি হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১২ জুন ঢাকার শ্যামলী থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি বাঘের শাবক ডুলহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়া হয়।

The post সুন্দরবনে বাঘ সুরক্ষায় বন বিভাগের নানা পদক্ষেপ: চলতি বছরেই নতুন শুমারি appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2ViTyuv

বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়াই কপোতাক্ষ নদে ৬ লেন সেতু নির্মাণ https://ift.tt/eA8V8J

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মাণাধীন ৬ লেনের সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেতুটি নির্মাণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গেজেটও মানা হয়নি।

বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন এ মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার দৈনিক  পত্রিকায় ‘কপোতাক্ষ নদে ৬ লেনের সেতু : নকশায় ত্রুটিতে প্রকল্পের সুফল নিয়ে সংশয়’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে নকশায় ত্রুটি ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সেতুটি নির্মাণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন নেওয়া হয়নি। নির্মাণাধীন সেতুটি নৌ মন্ত্রণালয়ের গেজেটও মানা হয়নি। নদের পানি থেকে সেতুর উচ্চতা মেপে দেখেছি। যেখানে সর্বনিম্ন উচ্চতা থাকার কথা কুড়ি ফুট, সেখানে আছে ১৫ ফুট। বিষয়টি নিয়ে বাকি অংশ নির্মাণে গেজেট মানার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, ডিআরই কনসালটেন্ট আহম্মদ আলী প্রমুখ।

এদিকে যশোরে-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা বাজার এলাকায় ছয় লেন সেতুর নির্মাণ ত্রুটিতে কপোতাক্ষ নদ ‘গলা টিপে হত্যা’র আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হয়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্মিত গার্ডার নদের তলদেশ ছুঁই ছুঁই অবস্থা। অল্প পানিতেই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নকশায় সেতুটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে কপোতাক্ষ নদ গলাটিপে হত্যা করা হবে। হুমকির মুখে পড়বে নৌ-চলাচল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, একটি সেতুর নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নদীর গত একশ বছরের সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা ও গত ৫০ বছরের স্বাভাবিক পানির উচ্চতা বিবেচনা করা হয়। ঝিকরগাছা সেতু নির্মাণে গত একশ বছরের পানির উচ্চতার চেয়ে এক মিটার উঁচু ও গত ৫০ বছরের স্বাভাবিক পানির উচ্চতার চেয়ে সাড়ে তিন মিটার উচ্চতায় সেতুর ডিজাইন করা হয়েছে। আর পুরাতন সেতুকে ভিত্তি ধরে বটম লেভেল থেকে ১০ ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে যখন সেতুর নকশা করা হয় তখন বিআইডব্লিউটিএর গেজেট ছিল না। দাতা সংস্থা জাইকা পরামর্শক নিয়োগ করে নৌযান চলাচলের বিষয়ে গাইডলাইন নিয়ে প্রকল্পের নকশা তৈরি করেছে। পরে বিআইডব্লিউটিএ গেজেট প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। এটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। এ সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর অর্ধশত বছর আগে নির্মিত সরু সেতুটি ছিল এ পথের বিড়ম্বনা।

দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনের সেতুটির নির্মাণ চলছে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই অপর পাশের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো এবং ডেনকো। সেতুর নির্মাণকাজে হতাশ এলাকাবাসী। পুরাতন সরু সেতুর নিচ অংশ বা তলদেশ কখনো নদের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ বৃষ্টিতে নদে পানি সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণাধীন সেতুর নিচের অংশ বা তলদেশ স্পর্শ করতে যাচ্ছে।

সেতুর উচ্চতা যথাযথ নির্ধারণ হয়নি। ফলে সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে কপোতাক্ষ নদকে গলাটিপে হত্যা করা হবে। স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু অনেক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর কারণে কপোতাক্ষ নদ আরও মরে গেল। নতুন সেতু আমাদের আশাহত করেছে। সেতুর নকশা ঠিক হয়নি।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, নদীর ওপর সেতু করতে হলে অবশ্যই বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু ভুল নকশায় সওজ ব্রিজ নির্মাণ করছে ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। সরকারের যে নদী খনন কাজ করছে ব্রিজটি তার গলার কাঁটা হিসেবে দাঁড়াবে।

The post বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়াই কপোতাক্ষ নদে ৬ লেন সেতু নির্মাণ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3ieeoEa