Saturday, May 16, 2020

ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও বিদ্যমান https://ift.tt/eA8V8J

স্বদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য আজও বিদ্যমান। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দান থেকে মারণ বাঁধ ফারাক্কা অভিমুখে লাখো জনতার লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ওইদিন বাংলার সর্বস্তরের মানুষের বজ্রকণ্ঠ দিল্লির মসনদ পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আধিপত্যবাদী শক্তি ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী সেদিন ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব ও এর বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তার সেই সাহসী উচ্চারণ বাংলাদেশের মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস্য হয়ে আছে আজও।
প্রতি বছর দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে পালন করলেও প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে এবারের কর্মসূচি স্থগিত করেছে মাওলানা ভাসানী স্মৃতি পরিষদ খুলনা। দিবসটি পালনের সর্বশেষ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আজ শনিবার (১৬ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবছরের মতো ফারাক্কা লংমার্চ দিবসটির কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দান থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়। দিনটি ছিল রবিবার। সকাল ১০টায় রাজশাহী থেকে শুরু হয় জনতার পদযাত্রা। হাতে ব্যানার আর ফেস্টুন নিয়ে অসংখ্য প্রতিবাদী মানুষের ঢল নামে রাজশাহীর রাজপথে। ভারত বিরোধী নানা সেøাগানে সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দুপুর ২টায় হাজার হাজার মানুষের স্রোত জেলার গোদাগাড়ীর প্রেমতলী গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর আবার যাত্রা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টায় লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে রাতযাপনের জন্য সে দিনের মতো শেষ হয়। মাঠেই রাত যাপন করার পরদিন সোমবার সকাল ৮টায় আবার যাত্রা শুরু হয় শিবগঞ্জের কানসাট অভিমুখে। ভারতীয় সীমান্তের অদূরে কানসাটে পৌঁছানোর আগে মহানন্দা নদী পার হতে হয়। হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেয় এই লংমার্চে। তারা নিজেরাই নৌকা দিয়ে সেতু তৈরি করে মহানন্দা নদী পার হয়। কানসাট হাইস্কুল মাঠে পৌঁছানোর পর সমবেত জনতার উদ্দেশে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী তার জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। মওলানা ভাসানী ভারতের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের জানা উচিত বাংলার মানুষ এক আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পায় না। কারো হুমকিকে পরোয়া করে না।’ তিনি বলেন, ‘আজ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কানসাটে যে ইতিহাস শুরু হয়েছে তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে।’ মওলানা ভাসানী এখানেই লংমার্চের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রতিবেশী দেশ হয়েও ভারতের একতরফা ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণে ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের বৃহৎ একটি অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চল ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন। দেশের বৃহত্তম নদী পদ্মা আজ পানির অভাবে শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩০টি নদী আজ বিলুপ্তির পথে। তাই ঐতিহাসিব ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব আজও বিদ্যমান। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এবারের প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতির কারণে ফারাক্কা দিবসের কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। সে জন্য খুলনাবাসীর প্রতি আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন মাওলানা ভাসানী স্মৃতি পরিষদ খুলনার উপদেষ্টামন্ডলী ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, পরিষদের আহ্বায়ক এ্যাড. গাজী আব্দুল বারী, যুগ্ম-আহ্বায়ক এসএম মজিবর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম মেঝভাই, সদস্য সচিব শেখ মুশাররফ হোসেন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

The post ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও বিদ্যমান appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3dRqkqA

No comments:

Post a Comment