The post মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ সাতক্ষীরায় ১৩০০ গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3o0Acnc
The post মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ সাতক্ষীরায় ১৩০০ গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের সঙ্গিতা মোড় এলাকায় জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে এ আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ শরিফুজ্জামান শরিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি মনজুরুল মোর্শেদ মিলন, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ সম্পাদক খালিদ হাসান সুমন, আসিফ ইকবাল, সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পি, শহর ছাত্রদলের আহবায়ক হাজী আইয়ুব আলী, সদস্য সচিব শাহিন ইসলাম প্রমুখ।
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় জেলা ছাত্রদল, সদর উপজেলা ছাত্রদল, শহর ছাত্রদলসহ বিভিন্ন উপজেলা ও কলেজ ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস.কে.এম আবু রায়হান।
নিজস্ব প্রতিনিধি:
The post সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
খুলনাগামী ‘নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস’ নামক ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে খুলনার বেজেরডাঙ্গা ও নওয়াপাড়া এলাকায় পৃথক এ পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রী আহতসহ ট্রেনের জানালার গ্লাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
থামছে না চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। প্রতিদিন পাথর নিক্ষেপে কোথাও না কোথাও দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত পাথরে গুরুতর আহত হচ্ছেন ট্রেনের যাত্রীসহ কর্তব্যরত রেল কর্মচারীরা।
খুলনা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ‘নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি গোয়ালন্দ ঘাট থেকে খুলনা রেলস্টেশনে আসার পথে পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে নওয়াপাড়া এলাকায় এবং ৯টা ৫ মিনিটে ফুলতলার বেজেরডাঙ্গা পৃথক দু’টি স্থানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
হামলায় ট্রেনের বেশ কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙ্গে গেছে। আহত হয়েছে আব্দুল্লাহ (৩৫) নামে এক যাত্রী।
খুলনা প্রতিনিধি:
The post খুলনার বেজেরডাঙ্গা ও নওয়াপাড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত ১ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
যশোরের কেশবপুরে নববর্ষ রাতে ইদ্রিস আলী (১৬) নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা তার একমাত্র সম্বল ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়িটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে। এনিয়ে গত ২দিনে দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার শ্রীফলা গ্রামের হতদরিদ্র সাহেব আলী সরদারের ছেলে কিশোর ইদ্রিস আলী পেশায় একজন ব্যাটারি ভ্যান চালক। গত বৃহস্পতিবার সকালে সে ব্যাটারি (চার্জার) ভ্যানটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে রাত ৯টা অবধি সে বাড়িতে না ফেরায় সমস্ত রাত পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
শুক্রবার ভোরে উপজেলার মঙ্গলকোট কমিউনিটি ক্লিনিকের দক্ষিণ পাশে মাছের ঘেরের মধ্যে শেওলা দিয়ে ঢেকে রাখা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশের খবর দেয় এবং ফেসবুকে ছবি দেখে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইদ্রিস আলীকে সনাক্ত করে। তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ হওয়া উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের মৃত করম আলী সরদারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাজ্জাদ আলী সরদারের মরদেহ বৃহ¯পতিবার বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি মাছের ঘেরের পানি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাজ্জাদ আলীর ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কিশোর ইদ্রিস আলীর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এম এ রহমান কেশবপুর (যশোর):
The post নববর্ষের রাতে কেশবপুরে চালককে হত্যা করে ব্যাটারিভ্যান ছিনতাইসহ ২ মরদেহ উদ্ধার! appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
সভ্যতার প্রায় উন্মেষকাল থেকেই বাংলাদেশের সবর্ত্রই যাতায়াত ও পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যান ছিল ‘গরুর গাড়ি’। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার বিবতের্ন যন্ত্রচালিত লাঙল বা পাওয়ার টিলার এবং নানা যন্ত্রযানের উদ্ভবের ফলে বিলুপ্তির ‘গরুর গাড়ি’।
মৎস্য ও শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ের এক সময়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহি গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটছে, পক্ষান্তরে হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই ঐতিহ্য।
জানা যায়, গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। খ্রিস্টজন্মের ১৬০০-১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম বাংলায় এ ঐতিহ্য আজ তা বিলুপ্তির পথে।
একসময় উত্তরাঞ্চলের পল্লী এলাকার জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশেষ করে এই জনপদে কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। যুগের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই বাহন।
মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোঁখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরুর গাড়ি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এমনকি অনেক শহুরে শিশু গরুর গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে।
গরু গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান। এ যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। আর পেছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় গাড়ির পেছন দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল ব্যাপক।
দুই যুগ আগেও গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে কল্পনাও করা যেত না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। গরুর গাড়ির চালককে বলা হয় গাড়িয়াল।
আর তাই চালককে উদ্দেশ্য করে রচিত হয়েছে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ কিংবা ‘আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিয়া ন্যাং মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’ এরকম যগান্তকারী সব ভাওয়াইয়া গান।
তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযানের কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ।
মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি।
ফলে গ্রামাঞ্চলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন।
আবার ধীর গতির কারণে এতে তেমন কোনো দুর্ঘটনারও আশংকা থাকে না। অথচ যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে।
নাজমুল হক নাহিদ:
The post প্রযুক্তির কাছে হার মানছে ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব গরুর গাড়ি appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
নতুন বছর নতুন দিন নতুন আলোর বান
নতুন আশা নতুন স্বপ্ন নতুনের আহ্বান।
নতুন আকাশ নতুন বাতাস নতুন চাঁদের আলো
নতুন কলির নতুন সুবাস হৃদয়ে লাগে ভালো।
নতুন চাঁদ নতুন তারা নতুন পাখির গান
নতুন দিনের নতুন হাওয়ায় জুড়াক সবার প্রাণ।
নতুন মাঠ নতুন ঘাট নতুন গায়কী সূর
নতুনের বানে জরা-জীর্ণতা ভেসে যাক বহুদূর।
নতুন পদ্য নতুন গদ্য নতুন কবিতাখানি
মুছে যাক্ সব পুরাতন আর মুছে যাক্ সব গ্লানি।
নতুন সকাল নতুন বিকাল নতুন সন্ধ্যা রাত
নতুন আলোর বার্তা নিয়ে এলো রাঙাপ্রভাত।
নতুন সাজ নতুন সজ্জা নতুনের ছড়াছড়ি
নতুন দিনে নতুনকে তাই হৃদয়ে ধারণ করি।
নতুন আসে নতুন যায় নতুনের নেই শেষ
নতুন পথের নতুন যাত্রী প্রিয়তম এ স্বদেশ।
নতুন ¯্রােত নতুন ধারা নতুনের যতো রূপ
নতুনের ছোঁয়ায় স্বদেশভূমি হোক্ আজি অপরূপ।
নতুন গান নতুন সূর দোয়েল কোয়েল পাখি
পূব আকাশের নতুন সকাল রঙে মাখামাখি।
নতুন বিল নতুন ঝিল নতুন পদ্ম পাতা
নতুনের খোঁজে হলো নতুন জীবনের হালখাতা।
নতুন পাতা নতুন ঘাস নতুন ফুলকলি
নতুনের কাছে পুরাতন দিলো স্বার্থ জলাঞ্জলি।
নতুন পথের নতুন যাত্রি হও সবে আগোয়ান
দুরাশার আঁধার মারিয়ে গাও জীবনের জয়গান।
The post নতুনের গান/ আবদুল আলীম তালুকদার appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
বছর ঘুরে আবারও আমাদের দ্বারে সমাগত নতুন বছর। পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনকে স্বাগত জানানোর উৎসবকেই নববর্ষ হিসেবে পালন করা হয় সারা বিশ্বে। নতুনের প্রতি সবসময়ই মানুষের থাকে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। নতুনের মধ্যে সবসময়ই নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ন করার সুযোগ করে দিতে আসে নতুন বছর।
একটি জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি সামগ্রিক পরিচয় স্পষ্টভাবে ধারণ করে রাখে এবং তা বিশ্বদরবারে সেই জাতির আত্মপরিচয়কে উচ্চে তুলে ধরার কাজটিই করে থাকে। মূলত: সংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির দর্পণ আর সংস্কৃতির বহুবিধ উপাদানের মধ্যে নববর্ষও অন্যতম একটি।আমরা সাধারণত: যাকে ইংরেজী সন বা খ্রিস্টাব্দ বলে থাকি তা আসলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।
দেশ, জাতি ও সংস্কৃতিভেদে প্রত্যেকের আলাদা বর্ষপঞ্জি রয়েছে। তবে একমাত্র গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনেই চলে বিশ্ববাসীর সব হিসাব-নিকাষ ও দৈনন্দিন কর্মকা-। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে উৎসবের আমেজে সাড়ম্বরে ১ জানুয়ারি নববর্ষ হিসাবে পালিত হয়ে থাকে।তবে বহুকাল থেকেই পৃথিবীর কিছু জাতি যেমন মুসলিম, পারসীয়ান, চীনা, ইহুদী প্রভৃতির মধ্যে নিজ নিজ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করতেও দেখা যায়।
মানুষ আদিকাল থেকেই কোনো না কোনোভাবে দিন-ক্ষণ, মাস-বছরের হিসাব রাখতে প্রয়াসী হয়েছে চাঁদ দেখে, নক্ষত্র দেখে, সূর্য দেখে, রাত-দিনের আগমন-নির্গমন অবলোকন করে, ঋতু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করে। সাধারণ কোনো বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিন গণনা, মাস গণনা, বছর গণনার রীতি কালক্রমে চালু হয়েছে।
তিথি, নক্ষত্র বিশ্লেষণ করার রীতিও আবিষ্কার হয়েছে, উদ্ভাবিত হয়েছে রাশিচক্র। চাঁদের হিসাব অনুযায়ী যে বছর গণনার রীতি চালু হয় তা চান্দ্র সন নামে পরিচিতি লাভ করে। এই চান্দ্র সনে বছর হয় কমবেশি ৩৫৪ দিনে আর সুর্যের হিসাবে যে বছর গণনার রীতি চালু হয় তা সৌর সন নামে পরিচিত হয়। সৌর সনের বছর হয় সাধারণত ৩৬৫ দিনে।
ইতিহাসবেত্তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন হিসেবে মনে করা হয় বর্ষবরণ উৎসবকে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে মেসোপটেমিয় সভ্যতায় (যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সে সময়কার দজলা ও ফোরাত নদীর তীরে) প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান ইরাকের প্রাচীন নাম ছিল মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতা আবার ৪টি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল; আর তাহলো- সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসেরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ উৎসব।
তবে তা এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না বরং তা পালিত হতো বসন্তের প্রথম দিনে। কেননা, শীতের রুক্ষতা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজতে শুরু করে বসন্তে। গাছে গাছে নতুন পাতা, বাহারি রঙের ফুল আর পাখিদের কল-কাকলিতে প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি।প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকেই নতুন বছরের শুরু হিসেবে পালন করতো ব্যাবিলনীয়ানরা। অবশ্য তখন বছর গণনা করা হতো চাঁদের উপর নির্ভর করে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠতো, শুরু হতো নতুন বছর আর বর্ষবরণ উৎসব। চলতো টানা ১১ দিন।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমকভাবে বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো রোমানরাও। তবে তাদের ছিল নিজস্ব ক্যালেন্ডার। যদিও সে ক্যালেন্ডারও রোমানরা তৈরী করেছিল চাঁদ দেখেই। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তাদের নববর্ষ ছিলো মার্চের প্রথম দিন। প্রথম দিকে তাদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল ১০টি। ছিল না জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি মাস। পরবর্তীতে ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমের স¤্রাট নুমা পম্পিলিয়াস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন।
এরপর রোমান রাজ এর ইচ্ছানুযায়ী বছরের প্রথম মাস মার্চ হতে জানুয়ারিতে পরিবর্তন করা হয়। তবে জানুয়ারির ১ তারিখকে নববর্ষ হিসেবে চালু করতে বেশ সময় লাগে। এটি প্রথম চালু হয় ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে। তখন এটি অনিয়মিতভাবে পালিত হতো। কারণ তখনো বিভিন্ন স্থানে জনগণ মার্চের ১ তারিখকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে ব্যবহার করতো।
কিন্তু ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমস¤্রাট জুলিয়াস সিজার যখন সূর্যকেন্দ্রিক ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ চালু করেন, তখন জানুয়ারির ১ তারিখকেই নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।মাস থাকলেও রোমানদের ক্যালেন্ডারে ছিলো নাকোনো তারিখ। চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দিয়ে মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো রোমানরা। চাঁদ উদয়ের সময়কে বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে তারা বলতো
ইডেস, আর চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলা হতো নুনেস। পরবর্তীতে স¤্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের পরিবর্তে যোগ করেন দিন-তারিখ। চান্দ্রমাসের হিসেবে সে সময় বছরের মোট দিন দাঁড়ায় ৩৫৫। এভাবে বছর হিসাবের ফলে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখী হতে থাকে রোমের চাষীরা। সমস্যার সমাধানের জন্যে হোঞ্চাস হেডাস ফেব্রুয়ারি মাসের পর অতিরিক্ত আরও একটা মাস যুক্ত করেছিলেন ক্যালেন্ডারে। সমস্যা কমার বদলে আরো জটিল আকার ধারণ করেছিল সে সময়।
পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজার চান্দ্র হিসাবের বদলে সৌর মাসের ব্যবহার প্রবর্তন করেন। ফলে ৩৫৫ দিন থেকে বছর হয়ে গেলো ৩৬৫ দিনের।(তবে অনেকের মতে, তিনি সৌর হিসেবে ৩৬৫ দিনের নয়,বরং ৪৪৫ দিনের ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলেন!)কথিত আছে যে, রোমান স¤্রাট জুলিয়ান সিজার লিপইয়ার বছরেরও প্রচলন করেন। যদিও এ নিয়ে বিতর্কও আছে। এতকিছুর পরও সমস্যা ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে।
সেই সমস্যার সমাধান করেন অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস নামের একজন ডাক্তার তিনি তৈরী করেছিলেন নতুন আরেকটি ক্যালেন্ডার। পরবর্তীতেযিশুখ্রিস্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ভ্যাটিকানের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শক্রমে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেতার নামানুসারে প্রচলন করেন; যা বর্তমানে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবেই পরিচিত। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে।
ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখই নববর্ষ হিসেবে পালন করে।এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ লেখার শেষে যে এ.ডি লেখা হয় তা ল্যাটিন অ্যানো ডোমিনি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই আ্যনো ডোমিনির অর্থ আমাদের প্রভুর বছর। ডাইওনিসিয়াম একমিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদরী জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ৫৩২ অব্দে যিশুখ্রিস্টের জন্মবছর থেকে হিসাব করে এই খ্রিস্টাব্দ লিখনরীতি চালু করেন।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, আধুনিক বিশ্বে পহেলা জানুয়ারিকে নববর্ষ হিসেবে প্রচলন করার ব্যাপারে ‘রিপাবলিক অব ভেনিস’(দেশটি ১৭৯৭ সালে বিলুপ্ত হয়) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ তারা ১৫২২ সাল হতে এ দিনকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনা করতে শুরু করে। পরবর্তীতে যে সকল দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে সিভিল ক্যালেন্ডার হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা সকলেই পহেলা জানুয়ারি তারিখেই ইংরেজী নববর্ষ পালন করে থাকে; যেমন১৫৫৬ সাল থেকে স্পেন, পর্তুগাল; ১৫৫৯ থেকে প্রুশিয়া, সুইডেন; ১৫৬৪ সাল থেকে ফ্রান্স; ১৬০০ সালথেকে স্কটল্যান্ড, ১৭৫১ সাল থেকে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং বৃটিশ কলোনিগুলো নববর্ষের রীতি অনুসরণ করতে শুরু করে।আর এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। ১৭০০ সাল হতে রাশিয়া এই রীতি অনুসরণ করতে শুরু করে।
যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই ইংরেজি বছরের বারোটি মাসের বেশির ভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা স¤্রাটের নামানুসারে। যেমন- জানুয়ারি রোমান দেবতা জানো’স এর নামানুসারে, ফেব্রুয়ারি ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে, মার্চ রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্স থেকে, এপ্রিল ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস থেকে, মে বসন্তের দেবী মায়া’স এর নামানুসারে, জুন বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে, জুলাই রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে, আগস্ট জুলিয়াস সিজারের পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে, সেপ্টেম্বর ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে, অক্টোবর ল্যাটিন অষ্টম সংখ্যা অক্টো এর নামানুসারে, নভেম্বর ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে এবং ডিসেম্বর ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।
আগেকার দিনে নিউ ইয়ারের আগের রাতকে বলা হতো নিউ ইয়ার ইভ। বর্তমানে যা থার্টিফার্স্ট নাইট হিসেবে প্রচলিত। খ্রিস্টের জন্মের পর ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা ক্রিসমাস ডে থেকে শুরু করে বছরের শেষদিন শেষে রাতের অর্ধপ্রহর পর্যন্ত নানান বিকৃত পন্থায় তাদের দেবতাদের পূজা-অর্চনা করতো। সাথে থাকতো ভোগ বিলাসের সকল আয়োজন (মদ্যপান থেকে শুরু করে সকল অনাচার)।
সেসময় ইউরোপের প্রোটেস্টান ধর্মগুরুরা এ সংস্কৃতিকে প্যাগানীয় ও অ-খ্রিস্টানীয় আখ্যা দিয়ে বর্জন করার ঘোষণা দেন। ফলশ্রুতিতে ছড়িয়ে পড়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে প্রোটেস্টানরাও যোগ দেয় এ উৎসব পালনে। এদিকে ইংরেজি নতুনবর্ষ পালনে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন ইসরায়েল রাষ্ট্রটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। কারণ বিভিন্ন ধর্মীয়গোষ্ঠী অ-ইহুদী উৎস হতে উৎপন্ন এই রীতি পালনের বিরোধিতা করে থাকে।
আবার কিছু দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে গ্রহণই করেনি। যেমন সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, ইথিওপিয়া ও আফগানিস্তান। এসব দেশও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করে বেশ জাঁকজমকভাবে। পশ্চিমা বিশ্বের এ উৎসবকে বেশ কিছুকাল যাবত স্বাগত জানিয়েছে আমাদের দেশও। পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালনের পাশাপাশি নানা আয়োজনে পালন করা হয় ইংরেজী নববর্ষও।
পরিশেষে, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি বীরের জাতি হিসেবে অভিহিত হয়ে আসছে। যুগে যুগে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি কর্তৃক তাদের উপর চালানো যুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে; এমনকি প্রয়োজনে অস্ত্র ধারণ করে বিজয়ী হয়েছে যা আমাদের সকলেরই জানা।কিন্তু আমরা বীরের জাতি হয়েও নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যকিছুকাল যাবত আমরা নিজেদেরকে শতধাবিভক্ত করে ফেলেছি।
আমরা একই বঙ্গমাতার সন্তান হয়েও কথায় কথায় আমরা এক ভাই অপর ভাইকে নাস্তিক, কাফির-মুরতাদ-মুশরিক,মৌলবাদ, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীসহ নানা অভিধায় অভিযুক্ত করছি যা একটি সভ্য জাতির মুখেএরকম গালমন্দ কখনই শোভনীয় হতে পারে না; যা আমাদের ললাটেই অমোচনীয় কালিমা লেপন করছে।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে কোনো জাতি তখনই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় যখন তাদের নিজেদের মধ্যে হিংসা-হানাহানি-অনৈক্য-অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করে। তাই আমার বিশ্বাস আমাদের এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি;আমরা যদি এই নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই সবাই একতাবদ্ধ হয়ে সকল প্রকার স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকল বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ শুরু করি তাহলে আমরাই হবো সারা বিশ্ববাসীর বিস্ময়।
আর সর্বব্যাপী হতাশা বিরাজমান থাকার পরেও এ নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হিংসা-বিদ্বেষের পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার পথে দেশ এগিয়ে যাবে। যুগে যুগে বিভিন্ন উৎসব পালন নানান বিতর্কের জন্ম দিলেও উৎসব হোক সার্বজনীন; নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুকসুখ, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও অগ্রগতি। আর করোনা মহামারীর কবল থেকে বিশ্ববাসী মুক্তি পাক এ প্রত্যাশা নিরন্তর।
লেখক: ড. আবদুল আলীম তালুকদার, কবি, প্রাবন্ধিক ও সহ. অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর
The post খ্রিস্টীয় নববর্ষ উদযাপন: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা appeared first on Daily Patradoot Satkhira.