Tuesday, April 21, 2020

আসছে মহিমান্বিত মাস: আমরা প্রস্তুত হতে থাকি https://ift.tt/eA8V8J


মধ্য শাবানের মুক্তির রাতে আমরা মহান প্রভুর দরবারে তওবা করে, দোয়া ও এস্তেগফারের মাধ্যমে আমাদের বিগত জীবনের পাপরাশি মোচন করাতে পেরেছি কিনা, তাঁর অবাধ্যতার গ্লানি মুক্ত হতে পেরেছি কিনা আমরা জানিনা। যদি তিনি আমাদের অনুতাপের অশ্রু কবুল করে, দয়া ও রহমত দিয়ে আমাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন তাহলে মুক্তির রাতে আমাদের মুক্তি মিলেছে, এই রাত আমাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। 
আল্লাহ্‌ না করুন, যদি আমরা গোনাহ মুক্ত হতে না পারি, তাঁর ক্ষমা ও রহমত লাভে ধন্য হতে না পারি তাহলে আমরা কি হতাস হয়ে যাব? নিরাশ হয়ে সবকিছু ছেড়ে দেব? না, আমরা পুনঃ পুনঃ তওবা করব, আরও বেশি বেশি এস্তেগফার করব, তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেই থাকব। কারণ এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় নিজেদের বিগত জীবনের গোনাহগুলোকে ধুয়ে মুছে ছাফ করে নিয়ে পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই আল্লাহ্‌র অপার রহমতের মধ্যে প্রবেশ করা। যদি আমাদের দেহ, মন, আত্মা এখনও গোনাহের কালিমায় কলুষিত হয়ে থাকে, তাহলে রমজানের রহমত, বরকত, নাজাত শত সহস্র ধারায় বর্ষিত হলেও আমাদের কোন উপকার হবে না। তাই এখনও শাবান মাসের যে কয়দিন বাকী আছে তার মধ্যেই আমরা যে কোন মুল্যে, যেভাবেই হোক আল্লাহ্‌ রহমানুর রহিমকে আমাদের ওপরে রাজী খুশি করিয়ে নেবো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়ের প্রতি গুরুত্ব সহকারে তো পড়বোই। এটা আল্লাহ্‌ তাআলার অবশ্য পালণীয় হুকুম। আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। এই হুকুম পালন না করলে ইসলামে আমাদের কোন যায়গা থাকে না। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও আমরা আমাদের গোনাহের জন্য তওবার নামাজ পড়ব, সালাতুল হাজত, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি নামাজ পড়ে আল্লাহ্‌ তাআলার সন্তুষ্টি নিয়ে তাঁর কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করব। তাহলে তিনি আমাদের ওপরে রহম করবেন, আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ করবেন, বিপদআপদ দূর করে দিবেন। 
যেমন- ন’টা পাঁচটা অফিস করা একজন কর্মচারির প্রথম দায়িত্ব, এই শর্ত মানতে সে বাধ্য। এটা না করলে তার চাকরি থাকবে না। এর ওপরে কোন কর্মচারি যদি বাড়তি কিছু সময় অফিসে দেয়, কিছু বাড়তি কাজ করে বড় কর্তাকে খুশি করতে পারে তাহলে বড় কর্তা তার বেতন বাড়িয়ে দেন, তার গাড়ি, বাড়ির সুযোগ-সুবিধা সহ আরও কত সুখ-অসুখ দেখেন। আল্লাহ্‌ তাআলার সাথেও আমাদের সম্পর্কটাও এমনিভাবে বেশি বেশি নফল এবাদতের মাধ্যমে সুন্দর করে নিতে হবে।           
আর এখন যে কঠিন সময় আমরা পার করছি তাতে ১৫ই শাবানের মুক্তির একটা রাতই আমাদের জন্য আল্টিমেটাম হওয়া উচিৎ ছিল তার গজব থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করে নেয়ার। কিন্তু তা হয়নি, সময় আরও কঠিন হতে যাচ্ছে হয়তো। তাই এবার রজানুল মোবারকের রহমতের মাসকেই আমাদের মোক্ষম সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে হবে। আর তাই প্রস্তুতিটাও ঠিকঠাক মত নেয়া খুব জরুরী। রোজার মাসের প্রস্তুতি রজব মাসের শুরুর দিন থেকেই নিতে হয়। আমরা অন্তত এখন থেকেই শুরু করি।
রোজার প্রস্তুতি
রোজার প্রস্তুতি মূলত রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই গ্রহন করতে হয়। প্রিয় নবী (সঃ) রোজার প্রস্তুতি যেভাবে গ্রহন করতেনঃ প্রথমতঃরোজার মাস শুরু হবার পুর্বে রাসুল (সঃ) রোজার প্রস্তুতি হিসাবে রজব মাস যেদিন শুরু হতো সেদিন থেকে শাবান মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বেশি বেশি করে নিচের দোয়াটি পড়তেন। আমাদেরও উচিৎ তাঁর উম্মত হিসেবে এই সুন্নতকে অনুসরণ করা এবং পুরো দুই মাস জুড়েই প্রতিদিন বেশি থেকে বেশি নিচের দোয়াটি পড়তে থাকা, নামাজের পরে এবং যখনই মনে হয়– “আল্লহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা,ওয়াশাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান”। “হে আল্লাহ্‌! রজব ও শাবান মাসে আমাকে বরকত দান করুন এবং এই দুই মাসের বরকত দ্বারা ধন্য করে আমাকে পবিত্র রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন”। আমরা চেষ্টা করলে আল্লাহ্‌ সুবহানআল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই আমনলটি করার তৌফিক দান করবেন ইনশাআল্লাহ্‌।এই দুই মাসে রাসুল (সঃ) আর যে কাজটি করতেন তা হল, তিনি বেশি বেশি রোজা রাখতেন। বিশেষ করে সাবান মাসে তিনি অনেক বেশি রোজা রাখতেন।
দ্বিতীয়তঃপবিত্র রমজানের শুরুটা যেন সবার সুন্দরভাবে হয় এবং রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফেরাত যেন সবার নসীব হয় সে জন্য আল্লাহর কাছে তৌফিক চাইতে থাকা। আর সেজন্য, রজব ও শাবান মাসের উপরোক্ত দোয়াটি পড়ার পাশাপাশি বেশি বেশি এস্তেগফার করতে থাকা, সম্ভব হলে প্রতিদিন দুই রাকাত করে তওবার নামাজ পড়ে আল্লাহ্‌ সুবহানআল্লাহ তাআলার দরবারে বিগত জীবনের যত গোনাহ, যত ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে সবকিছু থেকে মাফ চেয়ে পবিত্র হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকা। এভাবে সকল প্রকার গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যখন প্রথম রোজায় পদার্পণ করা সম্ভব হবে তখন জীবনটা হয়ে উঠবে নবায়নকৃত জীবনের মত। আর তখনই আমাদের রমজানের মোবারক মাস সার্থক হবে এবং এই মাসের যে গুরুত্ব ও মাহাত্ত্ব তা আমরা শরীর, মন ও আত্মা দিয়ে অনুভব করতে পারব। *আর একটা কাজ আমরা অবশ্যই করব, তা হল- রোজা শুরুর পূর্বেই এই সময়ের মধ্যে আমরা রোজার ফজিলত, গুরুত্ব এবং পবিত্র রমজানে আমরা কিভাবে আমলগুলো করব তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করব। তাহলে একটা আত্মশক্তি ও পবিত্র একটা মন এবং পরিপূর্ণ এখলাসওয়ালা ধ্যান এর সাথে আমরা রমজানের মহিমান্বিত মাসটি শুরু করতে পারব ইনশাআল্লাহ্‌।  আল্লাহ্‌ সুবহানআল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তৌফিক দান করবেন, যদি আমরা একিন এবং এখলাস সহকারে চেষ্টা করতে থাকি আর তিনি আমাদেরকে এই মুসিবত থেকেও বাঁচিয়ে নিবেন ইনশাআল্লাহ্‌।
আমিনকোহিনূর বিনতে আবুবকর।

The post আসছে মহিমান্বিত মাস: আমরা প্রস্তুত হতে থাকি appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2Vo3Uqd

No comments:

Post a Comment