Tuesday, April 21, 2020

এমন কঠিন সময় পৃথিবী দেখেনি কখনও https://ift.tt/eA8V8J

সময়টা সবারই খুব খারাপ কাটছে। কারও বেশি খারাপ, কারও কিছুটা কম, কারও আবার খুব খারাপ। গ্রামে খোলামেলা পরিবেশে যাদের বাড়ি তাদের বাড়ির ভেতরেই হাঁটাচলা করে, পুকুরে মাছ ধরে, ক্ষেতে শাক-সব্জি, ফল-ফুলের বাগান করে, ইবাদত বন্দেগী, বই-পুস্তক পড়ে সময়টা ভালোই কাটছে যদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের যোগানটা ঠিকমত থাকে। শহরে যাদের অন্তত সুন্দর একটি বাড়ি বা একটি ফ্লাট আছে তাদেরও ঘরে বন্দী থাকা এখনও কষ্টকর মনে হচ্ছে না কারণ, তাদের খাদ্যের যোগান যথাযথ আছে। আমরা তারপরও অনেকে নিজেদের অবস্থার ওপরে সন্তুষ্ট নই। একটু ভাবি তো, যার দিন আনি দিন খাই করে জীবন পার হচ্ছিল তার ঘরে থাকাটা কত দুর্বিসহ হয়েছে! কাজ ছাড়া এক মুঠো ভাত তার এবং তার পরিবারের মুখে কিভাবে আসবে? তারপরও ঘরের অবস্থা যদি এমন হয় যে, একসাথে অনেকজন মিলে কোনরকমে মাথাটা গুঁজে থাকা! এই ঢাকা শহরেই অগণিত মানুষ এমন কষ্টের দিন যাপন করে। আমরা তাদের কথা ভাবলে, তাদের দিকে তাকালে অন্তত এই বুঝটুকু আসবে যে, আল্লাহ্‌ সুবহানআল্লাহ আমার প্রতি কত দয়া করেছেন! এখন আমি এই বুঝটুকু নিয়ে ওদের প্রতি দয়াদ্র হলাম আর আল্লাহ্‌র প্রতি খুব কৃতজ্ঞ হলাম, তাতেই কি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল? এতে ওইসব অসহায় মানুষদের অবস্থার কি কোন পরিবর্তন হবে, না তাদের পেট ভরবে অন্তত একবেলার জন্য হলেও? 
পরিস্থিতি কত নাজুক, আল্টিমেটলি কোনদিকে আমরা যাচ্ছি কিছুই বলার উপায় নেই। তবে আরও দুমাস বা ঈদ পর্যন্তই যদি এই অবস্থা বিরাজ করে তাহলে কি অবস্থা হবে তা তো খোলা চোখেই অনুমান করা সম্ভব। আশপাশে এক শ জন না খাওয়ার দলে তার মধ্যে আমি একা খাবার জুটাতে পারছি, তখন আমার গলায় কি খাবার ঢুকবে? না, কারণ আমি ‘আশরাফুল মাখলুকাত’- সৃষ্টির সেরা জীব, আমি মানবিক প্রাণী, আমার দয়া-মায়া-প্রেম আছে। আমি উম্মতে মোহাম্মদী, খাইরুল উম্মাহ বা শ্রেষ্ঠ উম্মত, ওরা না খেয়ে থাকলে ওদের দিয়ে খাওয়াই আমার দ্বীনের শিক্ষা, আমার রাসুলের সুন্নত। শুধু ওরা কেন, একটি কুকুর, একটি বিড়ালও যদি না খেয়ে মরতে বসেছে, এটা আমার জ্ঞানের সীমায় পৌঁছে তাহলে তাদের খাইয়ে বাঁচানো সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে, শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসাবে আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর শ্রেষ্ঠ উম্মত, সেরা জাতী হিসাবে এমনই দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীগণ যে, তারা নিজে অভাবী হয়েও প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে নিজের ওপরে প্রাধান্য দিতে গিয়ে একটি বকরির মাথা সাত ঘর অবধি ঘুরে অবশেষে যার ঘর থেকে প্রথম দেয়া হয়েছিল তার ঘরেই আবার ফেরত এলো। তারা সবাই ভাবছিল, আমার চেয়ে আমার অমুক প্রতিবাশীর অভাব বেশিই হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের মুমূর্ষ অবস্থায় একটু পানি পান করার সুযোগ পেয়েও নিজে পান না করে সেই পানি অন্য আর একজন মৃত্যু পথযাত্রী ভাইয়ের জন্য ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করেছিলেন। এই হল আমাদের পুর্ব পুরুষদের নজীরবিহীন ত্যাগের গৌরব গাঁথা। অথচ সেই আমরা আজ এই দুর্যোগ মুখেও নিজের ঘর ভরা খদ্য পানীয় থাকা স্বত্তেও সহায় সম্বলহীন নিঃস্ব মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেবার প্রতিযোগিতায় নেমেছি। এমনই দাঁড়িয়েছে আমাদের মানবতার অবস্থা।        
একার সুখ আমার কি প্রকৃত সুখ হতে পারে? নাকি হওয়া উচিৎ? না, একাকী কখনও সুখি হওয়া যায় না, সবাইকে নিয়েই সুখি হতে হয়। সুতরাং আমার যা কিছু আছে তার থেকে আমার গরীব দশজন আত্মীয়কে আমি সাহায্য করতে পারি। গরীব আত্মীয় না থাকলে দশজন গরীব প্রতিবেশী বা ফকির মিসকিনকে সাহায্য করতে পারি। আমার ইচ্ছা, সামর্থ্য দুটোই যতদিন থাকে ততদিন আমি এটুকু করতেই পারি। এক সময় হয়তো আমার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য থাকবে না। মনে হবে, এখন অন্যদেরকে দেখতে গেলে আমি আমার পরিবার না খেয়ে মরবো। তখন হয়তো আমি তাদের প্রতি আর ভ্রুক্ষেপও করব না। প্রকৃতিগতভাবে আমরা বোধহয় এমনই, দু’একজন ব্যতিক্রম ছাড়া। মানুষ যখন নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে দেখে তখন অন্যের দিকে ফিরে তাকানোর মানসিকতা বা ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলে। তাই একার পক্ষে কখনোই কোন দুর্যোগ, মহামারি মোকাবেলা করা সম্ভব না, যদি সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকে। যদি সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন সেক্টর ও তার কর্তাব্যক্তি, কর্মীগণ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে। 
তারপরও কিছু সময় এমন আসে যখন সবাই মিলে সমস্ত শক্তি, সম্পদ, সম্ভাবনা উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করলেও কোন সমাধান মেলে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো তাদের সমস্ত শক্তি, শিক্ষা-দীক্ষা, মেধা-বুদ্ধি, জ্ঞান-গবেষনা প্রয়োগ করেও এই মরণ ছোবল থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করার উপায় খুঁজে না পেয়ে দিশাহারা। 
আমরা দুনিয়ার হিসাব-নিকাশ, কাজ-কারবার, লাভ-লোকসান স্বার্থ এত বুঝি, একটু সমস্যা ঠাহর করলে, কোন কাজ উদ্ধার করতে হলে বড় নেতা, উপ নেতা, পাতি নেতার গুরুত্ব ও ক্ষমতাকে এত গভীরভাবে উপলব্ধি করি, আর মৃত্যুর পরওয়ানা নিয়ে কারারুদ্ধ হলে তো কথাই নেই, কিভাবে আমরা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীনের কাছে প্রাণভিক্ষার দরখাস্ত করি তার ভুরি ভুরি উদাহরণ আমাদের মনুষ্যকূলের মধ্যে রয়েই গেছে। আমরা শুধু এই হিসাবটা বুঝি না যে, সকল ক্ষমতাসীনদের ওপরের যিনি ক্ষমতাধর তাঁর কাছেই পৃথিবীর সকল শক্তি আর সম্পদের ভান্ডার। এমন পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আর নিরঙ্কুশ শক্তির উৎস তিনি যার ক্ষমতা কখনও পরাভুত হয় না। এত বড় তাঁর সম্পদের ভান্ডার যা কখনও  নিঃশেষ তো হয়ই না, এতটুকু কমেও না। তিনি যার যা কিছু অভাব, যা কিছু চাওয়া তাঁর মস্তবড় খাজানা থেকে শুধু দিতেই থাকেন কিন্তু তাতে ঘাটতির লেশমাত্রও পরিলক্ষিত হয় না। এই প্রমাণিত চির সত্যকে আমরা কিছুতেই মাথায় রাখতে চাইনা, তাই ক্ষমতা ও সকল সম্পদের উৎসমূলে দরখাস্ত না দিয়েই দৌড়াই ডাক্তার, কবিরাজ, পথ্য, ও বৈদ্যের কাছে। দৌড়াই মানুষের কাছে, মানুষের সীমাবদ্ধ সম্পদের কাছে, ভিক্ষার ঝুলি হাতে।              
তাই তিনি নিজের অপ্রতিরোদ্ধ ক্ষমতাকে একটুখানি জানান দিতে অদৃশ্য, অস্পৃশ্য, অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক জীবাণুর ধংসযজ্ঞের মুখে ফেলে আমাদেরকে গৃহবন্দী করেছেন। এখন পৃথিবীর কোন শক্তি, এমন কি সকল শক্তি এক হয়েও এর সমাধান আনতে পারবে না, যদি তিনি নিজেই এই অবস্থা থেকে আমাদেরকে মুক্ত না করেন। অতএব লুটিয়ে পড়ি শুধু তাঁরই ক্ষমতার উৎসমুলে, অনুশোচনায়, ক্ষমা প্রার্থনায়, মরণব্যাধি নিরাময়তায়!
কোহিনূর বিনতে আবুবকর।

The post এমন কঠিন সময় পৃথিবী দেখেনি কখনও appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2VLVpnT

No comments:

Post a Comment