Thursday, August 26, 2021

বিধবা মায়ের আকুতি: আমি মারা গেলে আমার শিশু সন্তানের কী হবে? (ভিডিও) https://ift.tt/eA8V8J

নাজমুল শাহাদাৎ জাকির: কাজ করার শক্তি নেই। ঠিক মতো হাঁটা চলাও করতে পারেন না চল্লিশ বছর বয়সী নারী মোসলেমা খাতুন। বিয়ের পরে যখন সুখে শান্তিতে স্বামীর সংসার করার কথা, ঠিক তখনি মোসলেমা খাতুনের চার মাসের সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় মারা যান তার স্বামী শরিফুল ইসলাম। স্বামী মারা যাওয়ায় সুখের হয়ে ওঠেনি শ্বশুরবাড়ির সংসার।

 

নানাজনের নানা অপবাদ মাথায় নিয়ে বিতাড়িত হন শ্বশুর বাড়ি থেকে। সেই থেকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ব্র্যাকমোড় সংলগ্ন অবস্থিত দারিদ্র পিতা আব্দুল আজিজ সরদারের কাছে আশ্রয় নেন মোসলেমা খাতুন। অল্প বয়সে বিধবা তার উপর সমাজের একচোখা নজরকে উপেক্ষা করে শিশু সন্তান অপুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়ে ওঠেনি মোসলেমার। তবে যে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এতো ত্যাগ সেই সন্তানকে দু-মুঠো ভাতও মুখে তুলে দিতে পারেননি অসুুস্থ্যজনিত কারণে। পারেননি লেখাপড়াও শেখাতে। অভাবের সংসারে বিধবা মোসলেমা খাতুন ও তার শিশু সন্তান নিত্যদিন লড়াই করে চলেছেন বেঁচে থাকার তাগিদে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকলেও অর্থ-অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেননি মোসলেমা।


ক্ষুদা নিবারণে ছোট্ট শিশু সন্তানটিও আজ শিশুশ্রমে জড়িত গ্রাম থেকে শহরে। তারপরেও কোন না কোন দিন না খেয়েও দিন পার করতে হয় তাদের। বর্তমানে আশাশুনি উপজেলার ব্র্যাক মোড় দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের কাছে নিজের চিকিৎসাসেবায় সহযোগীতা চেয়ে দিন পার করেন মোসলেমা খাতুন। সেখানে কথা হয় তারসাথে। এসময় তিনি জানান, অভাবের সংসারে একটি শিশু সন্তান। একটি সময় কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকলে অসুস্থ্যজনিত কারণে আজ সেটিও হারাতে বসেছেন। বর্তমানে নিজেদের সংসারে দুইজনে বোঝা। এসময় মোসলেমা খাতুন অসুস্থ্যজনিত কারণে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে কথাও বলতে পারেননি। বাধ্য হয়ে পার্শ¦বর্তী একটি চায়ের দোকানের চেয়ারে বসে জানালেন নিজের দুর্দশার কথা। তিনি বলেন, আমার বয়স ৪০ ছুঁইছুঁই। তবে আমি বহুবছর ধরে অসুস্থ্য। বিভিন্ন মানুষের কাছে নিজের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়েছি। তবে অধিকাংশ সবাই নিরাশ করেছে। আমি উন্নত চিকিৎসা পেলে সুস্থ্য হবো বলে ডাক্তার বলেছে। তবে চিকিৎসার জন্য টাকা কই পাবো? আমার একটা মাত্র সন্তান থাকলেও সে ছোট। লোকে তারে কাজে নেয় না।
https://ift.tt/2Y2fwTN
আবার অনেকে কাজে নিলেও টাকা দিতে চাইনা। আমার নিজের কোন জমিজায়গা নেই। বাধ্য হয়ে দরিদ্র বাপের কুঠিঘরে বসবাস করি। বছরে যে বিধবা ভাতার টাকা পায় সেটা খুব অল্প। অসুস্থ্যজনিত কারণে আমার খেটে খাওয়ার মতো গায়ে জোর নেই, নেই কোন জমি জায়গা। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আজ ১৬টি বছর দরিদ্র পিতার আশ্রয়ে। একটা সময় পিতা আমাদের দেখভাল করতো। তবে বয়সের ভারে তিনিও আজ অসুস্থ্য। একদিকে নিজের চিকিৎসা তার উপর সন্তানের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য লোকের দ্বারে ভিক্ষা করি। আমার সাড়ে ৩ হাতও জমি নেই যে, আমি মারা গেলে সেখানে আমার মাটি দিবে। আর আমি যদি মারা যায় তাহলে আমার শিশু সন্তানটির কী হবে? সেতো অনাহারে মরে যাবে। আমার সন্তানের জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমি যদি মারা যায় তাহলে সে এতিম হয়ে যাবে।

 

এসময় আক্ষেপ করে তিনি জানান, গৃহহীনদের পুনর্বাসনের তালিকায়ও তার নাম ওঠেনি তার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ কত মানুষকে অনুনয় বিনয় করলাম কেউ আমার কথা শোনেনি। সরকার গৃহহীনদের পুনবার্সনের জন্য অনেক কিছু করতেছে। একারণে আমি উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেছিলাম ঘরের জন্য। তবে সরকারি ঘর পেতে হলেও যে ভাগ্য লটারিতে জিততে হবে সেটা আমার জানা ছিলোনা। এসময় নিজের চিকিৎসা সেবা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে গণ্যমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সমাজের মানবিক ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। যোগাযোগ নাম্বার ( মোসলেমা, ০১৭৫৬৬১৬৫২৬, প্রতিবেদক ০১৬১১৭৭১৭৬৬)।

 

The post বিধবা মায়ের আকুতি: আমি মারা গেলে আমার শিশু সন্তানের কী হবে? (ভিডিও) appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3DkoX14

No comments:

Post a Comment