চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমশ সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির এই দুই দেশ। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্পর্কের এই অবনতি। সান ফ্রান্সিসকোতে চীনের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। তারাও চেংদু’তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ চীনের। এ অবস্থায় চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেটে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ওই কনস্যুলেট ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
শুক্রবার থেকে সান ফ্রান্সিসকোতে চীনা কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ কার্যকরের নির্দেশ দেয় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এমন নির্দেশ দেয়ার পর ওই কনস্যুলেটে কিছু মানুষকে জোর করে প্রবেশ করতে দেখা যায় পিছনের দরজা দিয়ে। তাদেরকে মার্কিন কর্মকর্তা বলে মনে করা হয়। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা বলে, হিউজটনে চাইনিজ কনস্যুলেট জেনারেল চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এতে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করছে চীন। এমন পদক্ষেপের দৃঢ় বিরোধিতা করছে। এর জবাবে চীন যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, হিউজটনের ওই কনস্যুলেট চীনের গুপ্তচরবৃত্তির এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি’ চুরির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ওদিকে শনিবার চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের ছবিতে দেখা যায় টি-শার্ট ও মুখে মাস্ক পরা পুলিশ সদস্যরা পাহারা দিচ্ছে। এর সামনের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। কনস্যুলেটের কাছাকাছি একজন ব্যক্তি কিছু একটা ‘সাইন’ দেখানোর চেষ্টা করলে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
সর্বশেষ এই জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে যখন এই দুই সুপারপাওয়ারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত রয়েছে। কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়াকে অনেক বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির এক নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন। ফ্লোরিডার মিয়ামি থেকে আল জাজিরার অ্যান্ডি গ্যালাচার বলছেন, ১৯৭০ এর দশকে এই দুই দেশ তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এটাই তাদের মধ্যে সবচেয়ে অবনতিশীল সম্পর্ক। নানা ইস্যুতে তাদের মধ্যে বিরোধ বা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে করোনা ভাইরাস মহামারির জন্য চীনকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। সিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ের ওপর চীন চাপিয়ে দিয়েছে নতুন নিরাপত্তা বিষয়ক আইন। এর ফলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হংকং যে বিশেষ মর্যাদা পেতো তা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলনে চীনা যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে রয়েছে বিরোধ। অ্যান্ডি গ্যালাচার বলেন, আপনি যদি শুধু জুলাই মাসের দিকে তাকান, তাহলেই দেখতে পাবেন পাল্টাপাল্টি। মার্কিন সরকার বলছে, দক্ষিণ চীন সাগরে কোনো অধিকার নেই চীনের। তারা সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে না। একই অবস্থা হংকংয়ের ক্ষেত্রেও।
চেংদু কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত। এটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। এখানে কাজ করেন প্রায় ২০০ কর্মী। এর মধ্যে স্থানীয় প্রায় দেড়শ কর্মী রয়েছেন। চীনে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে আরো চারটি কনস্যুলেট। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, চেংদু কনস্যুলেটের কিছু ব্যক্তি তাদের পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কিছু কর্মকান্ডে লিপ্ত। তারা চীনের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং চীনের নিরাপত্তা স্বার্থের ক্ষতি করেছেন। তবে কিভাবে তারা এসব করেছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন নি ওয়াং ওয়েনবিন।
The post চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্রমাবনতি appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2WUEOzW
No comments:
Post a Comment