Monday, October 25, 2021

কাশিমাড়ীতে নৌকা প্রতিক চায় ৪জন https://ift.tt/eA8V8J

রবিউল ইসলাম, কাশিমাড়ি (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলার ২নং কাশিমাড়ী ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। চায়ের কাপ থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মোকাম আর বিভিন্ন মোড়ে এমনকি খেলার মাঠে কেবলই নির্বাচনী আলোচনা। বিগত দিনের প্রতিশ্রæতি আর তা বাস্তবায়নের সাথে আগামীর প্রত্যাশার হিসাব নিকাশে সরগরম হয়ে উঠেছে গ্রাম্য রাজনীতি।

তুলনামূলক বিচারে সর্বাধিক শিক্ষিত মানুষের বসবাসের এ ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধ বরাবরই আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। জামায়াত অধ্যুষিত বলে সা¤প্রতিক সময়ে পরিচিতি পেলেও কাশিমাড়ী ইউনিয়নে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের উল্লেখ্যযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে। তবে জাতীয় রাজনীতির সাথে না মিলিয়ে বরং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য আর জনসমর্থনপুষ্ট ব্যক্তির প্রতি কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ভোটারদের আকর্ষণ বরাবরই বেশি।
স্থানীয় গ্রামবাসী আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সামনের নির্বাচনের মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় থাকবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। যেকারণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ায় তার মনোনয়ন চাওয়ার বিষয় মোটমুটি নিশ্চিত। বিপরীতে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবারও দলীয় মনোনয়নের অপেক্ষায় থাকায় নির্বাচনের আগে জমে উঠেছে দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্রিক লড়াই।

একইভাবে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ায় বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে উপজেলা বিএনপির স্থানীয়ভাবে দুই প্রভাবশালী নেতা। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও তারা বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবে। বিগত নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগদান করায় বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষ ত্যাগ করে দলীয় মনোনয়নকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে দুই বিএনপি নেতা। ফলে মূল নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অবতীর্ণ হওয়া প্রার্থীদেরকে ঘিরে মূলত কাশিমাড়ীর নির্বাচনী ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে।
তবে বড় একটি ভোট ব্যাংক থাকা জামায়াতের কোন নেতার যেমন এবার কাশিমাড়ী থেকে নির্বাচনের খবর নেই, তেমনি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়েও এখনো কেউ ঘোষণা দেয়নি। তবে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা বড় দুই দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত দলীয় নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন তিনি। মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে দলীয় সমর্থন না মিললে কি করবেন তা সময় হলে দেখা যাবে বলে জানান তিনি।
গোটা ইউনিয়নের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বার বার ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রæত সময়ে সংস্কার করা তার অন্যতম সফলতা দাবি করে তিনি বলেন, পুনরায় নির্বাচিত হলে ইতোমধ্যে শুরু করা স্টেডিয়াম ও শিশু পার্ক/ইকো পার্ক গড়ে তোলাসহ উন্নয়নমূলক অসমাপ্ত কাজ শেষ করবো। এছাড়া কাশিমাড়ীকে শ্যামনগর পৌরসভার আদলে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
একই সাথে বিগত দিনে এলাকার রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্ট আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে আগামী মেয়াদে নির্বাচিত হলে পানি সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, কাশিমাড়ী ইউপির ২ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। বতর্মান চেয়ারম্যান ভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তিনি নিজের প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে ইউনিয়নকে কিভাবে পরিচালনা করা হয়েছে তার উত্তর দিতে ভোটাররা অপেক্ষা করছে। নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজন তোষণকে আগে বিদায় করবেন। এছাড়া পানি সমস্যার সমাধান আর সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ হিসেবে কাশিমাড়ীকে গড়ে তোলা হবে।

নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপত্বি সমশের আলী ঢালী বলেন, আমার পিতা মরহুম আব্দুল ঢালীসহ আমার পূর্বপুরুষদের দেখানো মানব হিতৈষী পথে থেকে জনসেবায় নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছি। পূর্বপুরুষদের দেখানো পথে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। আমি দীর্ঘদিন কাশিমাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব পালন কালে ২০১৩ সালে দেশব্যাপী জামায়াত-বিএনপির সহিংসতা, হত্যা নৈরাজ্যের সময় কাশিমাড়ী ইউনিয়ন কে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা করেছিল তৎকালীন জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডারেরা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সামনে থেকে সকল নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে বিরোধীদলের সকল ধ্বংস লীলাকে প্রতিহত করেছি। পাশে দাড়িয়েছি জোট সরকারের আমলে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

আওয়ামী লীগকে আরও সংগঠিত করতে, বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নসহ বর্তমান সরকারের সফলতা তৃণমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে আমি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে দলের মনোনীত ব্যক্তির পক্ষে কাজ করব।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আনোয়ার হোসেন (মিন্টু) বলেন, কাশিমাড়ী একটি জামাত অধ্যুষিত ইউনিয়ন, ১৯৭০ সালের দিকে এই ইউনিয়নে হাতে গোনা নামেমাত্র কয়েক জন আওয়ামী লীগ করতেন, তার মধ্যে আমার পিতা একজন উল্লেখযোগ্য। ১৯৭০ সাল থেকে আমার পিতা কওছার গাজী কাশিমাড়ীর ঘোলা ওয়ার্ডের সভাপতি হিসাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারে জন্ম গ্রহন করে প্রাইমারী স্কুল জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে দলের দু:সময়ে শ্যামনগরের রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে জয়বাংলা ¯েøাগান দিয়ে দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছি নি:স্বার্থভাবে। আমি তৃণমূলে ছোটবেলা থেকে দলের দু:সময়ের একজন নৌকার পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে পরিচিত লাভ করেছি। সুতরাং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পিছনের রাজনৈতিক পর্যালোচনায় কাশিমাড়ী ইউনিয়নে যারা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে একমাত্র আমিই একক আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, কারণ আমার পিতার পরিবার ১৯৭০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দলের দুর্দিনে মসজিদ ঈদগাহে হিন্দু হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে ও দলের আদর্শ ত্যাগ করেনি। সেই সুবাদে আমি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী, যদি জননেত্রী দয়া করে আমার পরিবারের দিকে তাকিয়ে দলের দু:সময়ের কর্মী হিসেবে মূল্যায়ন করে তাহলে আমি কাশিমাড়ী ইউনিয়নকে একটি মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী রামদা বাহিনীমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে বদ্ধপরিকর।

উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ঢালী বলেন, আমি দলীয় এবং জোটগত মনোনয়ন অবশ্যই চাইব। তবে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে কোন দ্বিধাদ্বন্দ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জোটগত মনোনয়ন না পেলেও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবো।
বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ ঢালী আরও বলেন, জবাবদিহিতামূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা প্রধান লক্ষ্য থাকবে। অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো, ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, অবৈধ জমি দখল ও দালাল মুক্ত, মিথ্যা মামলামুক্তসহ কাশিমাড়ী ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করাই হবে আমার অন্যতম উদ্দেশ্য।

ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম মফিজুর রহমান বলেন, বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে এতদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, কাশিমাড়ীকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু বণ্টনসহ প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। তবে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে দলের সমর্থন প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না এলে তিনি নির্বাচন করবেন না বলে জানান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান টিএম নুরুল হক বলেন, আমি কোন দলের না আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্বের ন্যায় এবারও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেব।
এছাড়াও পূর্বের ন্যায় এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আব্দুল জব্বার পিয়াদা। এর আগেও তিনি কয়েক দফায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হতে পারেননি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অপর প্রার্থী হলেন গোবিন্দপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক পরিতোষ হলদার। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি আমার ইউনিয়নকে ঢেলে নতুন করে সাজাতে চাই।আমি সাধারণ মানুষের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করি। এই হিসেবে আমার কাশিমাড়ীবাসী যদি আমাকে প্রতীদান হিসেবে নির্বাচিত করেন তাহলে আমি প্রথমে অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ করব।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা আর ভোটাররা প্রার্থী বাছাইয়ে খাসগল্পে মাতিয়ে তুলছেন চায়ের দোকানের আড্ডায়।
বর্তমানে এই ইউনিয়নের ভোটারা ভাবছেন সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দল মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণ যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এমন নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভাল থাকে সংশ্লিষ্টদের কাছে সেই প্রত্যাশা করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: রবিউল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা হতে পারে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলার ২নং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের মোট ভোটারের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৮৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫১২ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার ৯৭৫।

The post কাশিমাড়ীতে নৌকা প্রতিক চায় ৪জন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3Ee7B5x

No comments:

Post a Comment