নাজমুল শাহাদাৎ জাকির: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এতে করে বিপাকে পড়েছেন জেলার পশু খামারীরা। বিপাকে পড়া খামারীদের কথা চিন্তা করে আজ (৭ জুলাই) থেকে চলবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পশুরহাট। তবে ভিন্নকৌশলে সরকার ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাটে বসেছে গরুর হাট।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার আবাদের বাজারে বিক্ষিপ্তভাবে এ হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে বাজার কর্তৃপক্ষ ও হাট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বাজার ও হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় নেতাদের ইন্ধনে চলছে এ হাট। তবে বিক্ষিপ্তভাবে এ গরুর হাট বসানো সম্পর্কিত বিষয়ে জড়িত নন বলে দাবি করেন তারা। সূত্রমতে, আবাদেরহাট বাজার সংলগ্ন গোদাঘাটা শ্মশানের বিপরীত পাশে অবস্থিত আম বাগানে দীর্ঘদিন ধরে গরু কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছে গরু ব্যবসায়ী সহ ক্রেতারা। বিক্ষিপ্ত ভাবে বসানো এ হাটে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। হাটে আসা লোকজনের মুখে নেই মাস্কও। যে যার মতো করে জনসমাগম করতে ব্যস্ত। তবে দীর্ঘদিনধরে এহাট চললেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সেভাবে কাউকে ধরতে বা জরিমানার আওতায় আনতে পারিনি। অভিযোগ রয়েছে বিক্ষিপ্ত ভাবে এ হাট বসানোর জন্য মোটা অংকের টাকা পান স্থানীয় আ’লীগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, হাট ইজারাদারসহ বাজার কর্তৃপক্ষ। এ হাটটিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যাতে বন্ধ করতে না পারে সেজন্য কঠোর নজরদারিও রেখেছেন বাজার কর্তৃপক্ষ। আবাদের হাটে প্রবেশের কদমতলা, বাবুলিয়া, পরানদহা, মাধবকাটি, আগরদাড়ী সড়কে সোর্স হিসেবে কাজ করেন স্থানীয় আ’লীগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, হাট ইজারাদারসহ বাজার কর্তৃপক্ষের লোকজন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দিনভর সরেজমিনে আবাদেরহাটে অবস্থানকালে দেখা যায়, গোদাঘাটার শ্মশানঘাটের বিপরীত পাশে অবস্থিত আমবাগানে বসে গরুর হাট। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এহাটে অভিযানে আসার আগেই সংবাদ পৌছে যায় গরু ব্যবসায়ীদের নিকট। এসময় পাশ্ববর্তী বসতবাড়ির গোয়ালঘর চুক্তি হিসেবে ভাড়া করে নিয়ে সেখানে গুরু নিয়ে সরে পড়েন বাজারে আগত গরু ব্যবসায়ীরা। এসময় অনেককে আবার গোদাঘাটার বটতলা সংলগ্ন পাটবাগানের ভিতরে অবস্থিত রাস্তায় গরু কেনাবেচা ক্রয় করতে দেখা যায়।
তবে গরু ব্যবসায়ীদের দাবি পেটের টানে সরকার ঘোষিত লকডাউন অমান্য করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কারন হিসেবে বলছেন, গতবছর অনলাইনে গরু কেনাবেচার সুবিধা ছিলো। এবার সেটাও চালু করিনি জেলা প্রশাসন। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? আমাদের বউ, বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দেওয়ায় কষ্টের হয়ে পড়েছে। প্রশাসন আমাদেরকে জরিমানা করছে লকডাউন অমান্য করে গরুর হাট বসানোর জন্য। তবে আমরা কেন লকডাউন অমান্য করছি? সেটা তারা জানতে চান না। অনেক সরকারি কর্মকর্তা লকডাউনে ছুটি কাটিয়েও বেতন পাচ্ছে। তারা তাদের বউ, বাচ্চাদের মুখে খাবার দিচ্ছে আগের মতোই। তবে আমরাতো আমাদের বউ, বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিনা। তাহলে কী আমরা না খেয়ে মারা যাবো? আমাদের জীবনের কী কোন মূল্য নেই? এসময় তারা আরো বলেন, আগেতো আমাদের সংসার চলছেনা। তারউপর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৫শ’ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যস্ত জরিমানা করছে। তবে আমাদের ব্যবসায়ীদের ভাষায় তারা আমাদেরকে জরিমানা করছে না বরং আমাদের বেচেঁ থাকার আয়ু টুকুও কেড়ে নিচ্ছে। তবে স্থানীয় আ’লীগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, হাট ইজারাদারসহ বাজার কৃতপক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমন্ধে কোন মন্তব্য করেননি তারা।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির বলেন, জেলায় কোনপ্রকার গরুর হাট বসবেনা। তবে কোন জনপ্রতিনিধি, বাজার কর্তৃপক্ষ, হাট ইজারাদারসহ যেকোন রাজনৈতিক দলের নেতারা যদি হাট বসানোর চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি গরু খামারীসহ ব্যবসায়ীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন বুধবার (৭ জুলাই) থেকে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হবে এবং ওইদিন থেকে সকলে তাদের গরু বিক্রয়ের নিবন্ধন করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
The post আজ থেকে চলবে প্রশাসনের অনলাইন পশুর হাট: ভিন্ন কৌশলে চলছে আবাদেরহাট! appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3dR2dux
No comments:
Post a Comment