Sunday, June 6, 2021

মানুষ আলাউদ্দিন https://ift.tt/eA8V8J

পত্রদূত ডেস্ক: জুন মাস আসলেই সাতক্ষীরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ভূমিহীন, অসহায় দুখী মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। সাতক্ষীরাবাসির হৃদয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য বিরাজ করে গভীর শূন্যতা। একজন স. ম. আলাউদ্দিনকে খুঁজে ফিরে লক্ষ জনতার হৃদয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ভোমরা বন্দর ও চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, কৃষক বন্ধু ও শিক্ষাবিদ স. ম. আলাউদ্দিনের জীবন ও কর্ম তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি বরেণ্য ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব শেখ আজহার হোসেন।
স. ম. আলাউদ্দিনের জীবন, কর্ম, আদর্শ-নীতি তুলে ধরে শেখ আজহার হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই রক্ত ঝরা দিনগুলিতে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অকুতভয় সৈনিক স. ম. আলাউদ্দিনের শরীরে বুলেটের স্পর্শ লাগেনি। স্বাধীনতার ২৫ বছর পর তার নিজস্ব পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় ১৯ জুন ’৯৬ তারিখ রাত ১০টা ২৩ মিনিটে একটি মাত্র বুলেট তার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। ’৭১ এর প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য স. ম. আলাউদ্দিন ইচ্ছা করলে সরাসরি যুদ্ধ না করেও অন্যভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ রেখেছেন শ্রেষ্ঠ মানসিকতার। সুবিধাবাদীতার উর্ধ্বে উঠে তিনি রণাঙ্গনে সাহসী যোদ্ধা হিসেবে ইতিহাসে যেমন স্থান রেখেছেন, তেমনি রেখে গেছেন মানবিক গুণাবলীর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী, তুলনাহীন মানবিক গুণে সমুজ্জ্বল। স. ম. আলাউদ্দিন ব্যবহারিক জীবনের সর্বক্ষেত্রেই যে বিবেক দ্বারা পরিচালিত হতেন তার উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা করে না। মানুষ আলাউদ্দিন তার ব্যক্তিগত জীবনকে সম্পূর্ণভাবে মানবিক মূল্যবোধ পরিচালনা করতেন। তিনি তার ভাইবোনদের সবার বড় হিসেবে পিতার মৃত্যুর পর পিতার দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিবেশীদের সাথে তার ব্যবহার ছিল যেমন মধুর তেমনি দায়িত্বশীল। তিনি তার ফ্যাক্টরীতে কর্মচারী নিযোগদানের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দু:খী মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে তার প্রমাণ রেখেছেন। প্রমাণ রেছেন তার গ্রামেই শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ পেশাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তাইতো আমরা দেখেছি তার হত্যা পরবর্তীতে তার প্রতিবেশীদের হৃদয় ছেড়া আহাজারি, দেখলাম প্রতিশোধের দৃঢ়তায় তাদের আপোষহীন ভূমিকা। সুনির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক আদর্শ তার মধ্যে থাকলেও তিনি তার প্রতিবেশী, তার এলাকার মানুষদের কখনো দলীয়ভাবে দেখেননি। দেখেছেন প্রতিবেশী হিসেবে, মানুষ হিসেবে। দলীয় চেতনার চেয়ে মানবিক চেতনায় তিনি জীবনকে পরিচালিত করতে পেরেছেন বলে আলাউদ্দিনের হত্যার প্রতিবাদে দলীয় ভূমিকার চেয়ে সর্বদলীয় ভূমিকা প্রাধান্য বিস্তার করেছে। গড়ে উঠেছে সম্মিলিত জনতার ঐক্য।
দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর থেকে তিনি সপরিবারে আমাদের পাড়াতে এসে প্রথমে ভাড়া বাড়িতে, পরে নিজস্ব বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আমি তার দায়িত্বশীলতার যে পরিচয় পেয়েছি তা আমাকে শুধু অভিভূত করেনি চিরকাল স্মরণও করে রাখবে। বিভিন্নমুখী কাজের সাথে জড়িত এই মানুষটির জীবনে সময়ের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি প্রতিবেশীদের সমস্যা সমাধানে সব সময়ই অগ্রণী ছিলেন। নিজের অনেক প্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে প্রতিবেশীদের জন্য সময় দিতে, তাদের জন্য বিভিন্ন কাজে দৌঁড়াতে আমরা দেখেছি। প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবহারে তাকে কখনো ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ করতে দেখিনি। তিনি বরং গরীব প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আন্তরিক ছিলেন। সদা হাসিখুশি চালচলনে সাদাসিধা এই মানুষটির মধ্যে দেমাগ কখনো দেখেনি। সবার সাথে আন্তরিক ব্যবহার করাই ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এলাকার প্রতিটা কর্মকা-ে তিনি তার নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে কৃপণতা প্রদর্শন করেছেন তা আমরা দেখিনি। সৎ পরামর্শ দেওয়া ছাড়া অসৎ পরামর্শ তিনি কাউকে দিয়েছেন এমন নজিরও আমরা পাইনি। কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী মানুষ ছিলেন তিনি। তার আদর্শ, তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার তিনি নিজ কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে গেছেন। অনন্য সাধারণ দেশ প্রেমিক, সাহসী প্রতিবাদী মানুষ আলাউদ্দিন তাই ছিলেন অত্যাচারী কায়েমী স্বার্থবাদিতার শত্রু। শত্রুদের বিরুদ্ধে তার চেয়ে সাহসী ভূমিকা রাখতে আমি খুব কম লোককে দেখেছি। নিপীড়িত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু আর অত্যাচারীদের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন স. ম. আলাউদ্দিন। তাইতো তাকে অসময়ে হারিয়ে যেতে হয়েছে। নিষ্ঠুর ঘাতকেরা সময়ের চাহিদা পূরণের আগেই তাকে হত্যা করেছে। অনেক পরিচয়ে আলাউদ্দিন ভাইয়ের পরিচিতি থাকলেও আমার দৃষ্টিতে তার পরিচয় মানুষ আলাউদ্দিন হিসেবে। সময়ের সবচেয়ে সাহসী প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে।

The post মানুষ আলাউদ্দিন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.



from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3x11BcJ

No comments:

Post a Comment