কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এমপির নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে এই আসনের অপর দুই প্রার্থী মহিলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেত্রী মমতাজ ও আসমা বেগম।
আগামী ডিসেম্বর মাসে শুরু হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। সেই পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেশবপুর পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে ৩জন মহিলা প্রার্থী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা করে চলেছেন। প্রার্থীরা হলেন, ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আসমা বেগম, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মমতাজ বেগম ও আলতাপোল গ্রামের গৃহবধু মুক্তি বিশ্বাস। এই ৩ প্রার্থীর মধ্যে মুক্তি বিশ্বাসের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সয়ং আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মুক্তি বিশ্বাস বিএনপি পরিবারের সদস্য। তিনি কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদের আপন খালাত ভাই রায়হান বিশ্বানের স্ত্রী বলে এলাকায় পরিচয় রয়েছে। কেশবপুরের বর্তমান সংসদ শাহিন চাকলাদারের নির্বাচনের সময় দু-একটি প্রগ্রামে ছাড়া ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগের কোন আন্দোলন-সংগ্রামে তার কোন চেহেরা দেখা যায়নি। তাছাড়া তিনি নিজেকে শাহিন চাকলাদারের চাচাত বোন পরিচয় দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দলের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

সংরক্ষিত এই আসনের মহিলা প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মমতাজ বেগম মুক্তি বিশ্বাসের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার জানা মতে তিনি আওয়ামী লীগের বা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় কোথাও তার নাম নেই। তিনি একজন বিএনপি পরিবারের সদস্য হয়ে কি করে আওয়ামী লীগের ও এমপি শাহিন চাকলাদারের চাচাত বোন পরিচয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তা তার বোধগম্য নয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের দল সমর্থন দিলে দলের নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতে বিপদগামী হবে। তিনি আরো বলেন, ৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন ও দলের সকল প্রোগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আগামী নির্বাচনে দল থেকেই তাকেই মননোয়ন দিবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একই আসনের আরেক প্রার্থী আসমা বেগম বলেন, তিনি ৯৬ সাল থেকে ৬ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দলের সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। আমাকে দলের নেতা-নেত্রী ভাল করে চেনেন। তিনি আরও বলেন, কেশবপুর পৌরসভার এই আসনের আওয়ামী নেতা-কর্মীরা এখনো পরাধীন রয়েছে। সংরক্ষিত এই আসনটি এখনও বিএনপির দখলে। আগামী নির্বাচনে আবারো যদি বিএনপি পরিবারের সদস্য মুক্তি বিশ্বাসকে দল সমর্থন দেয় তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান, এই দলের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকেই দল তাকেই মনোনয়ন দিবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এব্যাপারে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাবেয়া ইকবালের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, সংরক্ষিত এই আসনের সম্ভব্য প্রার্থী মমতাজ ও আসমা দলের পরিক্ষীত নেত্রী হিসেবে সবাই তাদেরকে চেনে। মুক্তি বিশ্বাস দলের নতুন মুখ। দলের কোন কমিটিতে তার নাম নেই, তাছাড়া তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তার স্বামীর আপন খালত ভাই কিনা জানতে চাইলে মুক্তি বিশ্বাস এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমার রাজনিতির সাথে আমার স্বামীকে টানবেন না, তিনি অনেক আগে বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের এক ছেলেতো বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, তাতে কি উপজেলার চেয়ারম্যান রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছে। আমি মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান। কেশবপুরে আওয়ামী লীগের কোন কমিটিতে তার নাম না থাকার কথা শিকার করে তিনি বলেন, এমপি শাহিন চাকলাদারের আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে অভিষেক হয়েছেন। নিজেকে এমপির চাচাত বোন পরিচয়ের বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, শাহিন চাকলাদার তার খুব কাছের ও রিলেটিভ।
মৌখিকভাবে শাহিন ভাই মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিয়েছে। আশা করি নতুন কমিটিতে আমি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান পাব। যদি শাহিন ভাই আগামী নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন। স্বতন্ত্র নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। শাহিন ভাই নির্বাচনে কোন কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
The post তিনি নাকি এমপির চাচাত বোন! appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/30ExIkZ
No comments:
Post a Comment