পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা পৌরসভার বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়েছে গেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আপত্তির কারণে। সরকারি ভাবে জায়গা পেলেও সেখানে বাস টার্মিনাল তৈরি করা যাচ্ছে না। খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) সাংসদ মো. আকতারুজ্জামান বাবুর বাঁধার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে খুলনা-পাইকগাছা সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
বাস মালিক সমিতির পাইকগাছা উপজেলার সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে পাইকগাছায় এ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি কোন বাস টার্মিনাল। সেকারণে খুলনা-পাইকগাছা সড়কের জিরোপয়েন্ট নাম স্থানে সড়কের উপর বাস রাখা হয়। প্রতিদিন প্রায় সময় শতাধিক বাস রাখায় ওই সড়কের অর্ধ কিলোমিটারে একপাশ আটকে থাকে। তখন চলাচল করতে পারে না পথচারী ও ছোট-বড় যানবাহন। সৃষ্টি হয় যানজটের। এই জট ছাড়তে দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজারো মানুষকে। শুধু জন ভোগান্তি নয় প্রতিদিনই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য উপজেলায় একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের আন্দোলন পাইকগাছা উপজেলা দীর্ঘদিনের। এই আন্দোলননের পরিপেক্ষিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০১৯ সালে ২ মে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পৌরসভার বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এলাকায় ৬নং শিববাটি মৌজার বজলুর কাটা (মাছের আড়ৎ) নামক স্থানে ১.৫০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি) পাইকগাছাকে নির্দেশ দেন। জমি অধিগ্রহনের সময় পাইকগাছা পৌর মেয়র বললে, যেহেতু এটি পৌরসভার মধ্যে তাই পৌরসভা থেকে অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে বাস টার্মিনাল করা হবে। তারপর তা বাস মালিক সমিতিকে ভাড়া দেওয়া হবে। তাতে পৌরসভার কিছু আয় হবে। আর স্বচ্ছলতা আসবে পৌরসভার। কিন্তু পৌরসভায় যথেষ্ট টাকা না থাকায় অধিগ্রহনে দেরি হয়। এরমধ্যে ৬ মাস আগে সাংসদ ওই জায়গার থেকে দক্ষিণে কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে শিববাটি সেতুর কাছেই জমি কিনে বাড়ির তৈরির কাজ শুরু করেন। সাংসদের বাড়ির পাশেই হবে বাস টার্মিনাল! এলাকা নোংরা হবে, বাস টার্মিনালে বাসের কর্মরত নানা শ্রেণির মানুষ আসবে, বাস আসা-যাওয়ার সময় শব্দ হবে, নিরাপত্তার বিঘœ হবে এসব অভিযোগ তুলে তিনি এ কাজে বাঁধার সৃষ্টি করে। আর সেকারণে আটকে গেল পৌরসভার বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।
সরেজমিনে ২৬ নভেম্বর দেখা গেছে, অধিগ্রহনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া জায়গায় বিলের মধ্যে ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে রয়েছে কিছু মাছের ঘের ও একটি মৎস আড়ৎ। এর থেকে ২ ফুট দূরে সাংসদের বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে।
শিববাটি এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের কথা বলে আর এমপি সাহেব সেই উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। তাহলে তিনি উপজেলার হাজারো মানুষে বিপাকে ফেলে নিজের সার্থ দেখতেন না।
বাস মালিক সমিতির পাইকগাছা উপজেলার সড়ক সমিতির সাধারণ সম্পদক শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন এখানে জায়গা নির্ধারণ করা হয় তখন এমপি সাহেবের জায়গা এখানে ছিল না। ৬ আগে তিনি এখানে জায়গা কিনলেন। এখন বাড়ি তৈরির নামে বাস টার্মিনাল করা বন্ধ করে দিলেন। পরে ইউএনওকে বললে তিনি শিববাটি সেতুর নিচে একটি জায়গার কথা বললেন, তা খুব ছোট এবং নদীর পাড়ে, পানি উঠে। তারপর সেখানে গাড়ির নিরাপত্তাও নেই। একটি গাড়ির চুরি হয়ে গেলে কে দেবে।
সংগঠনের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ হিরু বলেন, ‘এমপি বাঁধার কারণে টার্মিনাল আর হলো না। আমরা এমপির সাথে কয়েকবার বসলাম তিনি বললেন আমার বাড়ির পাশে টার্মিনাল হলে ছেলেরা গাঁজা-মদ খাবে, সেখানে সেখানে লোক পায়খানা-পেচ্ছাব করবে। তখন এলাকা নোংরা হবে। এখানে কোনভাবেই টার্মিনাল করা যাবে না। এমপি যে জমিতে বাড়ি বানাচ্ছেন তা অবৈধ জমি। পাইকগাছার ব্যবসায়ী এস এম মুজিবুর রহমানের। গন্ড-গোলের জমিতে বাড়ি বারিয়ে তিনি এটি বৈধ করে দিলেন। এখনও টাকাও তিনি পরিশোধ করেনি বলে জানি। এমপির সুবিধার কারণে উপজেলাবাসীর একটি বড় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো।
পৌর মেয়র মো. সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, জমি অধিগ্রহনের কাজ আটকে গেছে। তাছাড়া এমপি সাহেবও বলছেন পৌরসভার মধ্যে না করার জন্য। এখন আলোচনা করে দেখা যাক কি হয়।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. বি. এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, পৌরবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে ওই স্থানে টার্মিনাল না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সুবিধামত জায়গায় টার্মিনাল করা হবে।
এ বিষয়ে মো. আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, শিববাটি সেতুর কাছে আমার বাড়ির পাশে যেখানে জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল সেখানে এখন আবাসিক এলাকা হয়ে গেছে। কারণ এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসবে। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। আর আবাসিক এলাকায় তো বাস টার্মিনাল হতে পারে না। এখন চারা বটতলা নামে একটি জায়গা আছে সেখানে টার্মিনাল করার চিন্তা করছি।
The post সাংসদ সদস্যে আপত্তিতে পাইকগাছা বাস টার্মিনালের কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2Lh0hQF
No comments:
Post a Comment