পত্রদূত রিপোর্ট: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ ভূমিহীন এবং তারা কৃষিকাজ, মাছ শিকার, চিংড়ী চাষ ও দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়াও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার লোকজন সুন্দরবন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু সংগ্রহ করে থাকেন। এই ধরনের দরিদ্র শ্রেণির মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন দুর্যোগের দ্বারা আক্রান্ত। ১৯৯১ সালের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়, ২০০৭ সালে সিডর, ২০০৮ সালে নার্গিস, ২০০৯ সালে আইলার মত ঘূণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ লোক প্রাণ হারায় ও বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ ও অন্যান্য বনায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঘঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে বেসরকারী সংগঠন ফ্রেন্ডশীপ সাতক্ষীরা জেলায় ২০১৮ সাল থেকে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ১৫০ হেক্টর চর বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে। ইতিমধ্যে ৫০ হেক্টর চর জমিতে ১,৫০,০০০ টি বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ চারা রোপন করেছে এবং আরো ১০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগজ্ঞ ও রমজাননগর ইউনিয়নের মাদার ও মরাগাং নদীর তীরবর্তী ২২ হেক্টর চর এবং আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও আনুলিয়া ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ ও খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী ২৮ হেক্টর চর জমিতে বনায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ফ্রেন্ডশিপ ৪টি নার্সারীতে চারা উৎপাদন করে বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে উক্ত নার্সারীতে ১,১০,০০০ টি চারা মজুদ আছে, যা পরবর্তীতে বনায়ন কর্মসূচীতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।
ম্যানগ্রোভ বনায়নের ফলে নতুনভাবে জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য উপকারি। ম্যানগ্রোভ বনায়নের ফলে স্থানীয় জনগণ মাছ, কাঁকড়া সংগ্রহ ও মধু আহরণ করতে পারবে। এর ফলে সুন্দরবনের উপর চাপ কমবে। স্থানীয় জনগনকে সম্পৃক্ত করে উপজেলা সামাজিক বন কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে নার্সারীতে চারা উৎপাদন, বৃক্ষরোপন ও পরিচর্যায় সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসারের মাধ্যমে বসত ভিটায় সবজী চাষ, জৈব সার প্রস্তুত, হাঁসমুরগী পালনের উপর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগনের বিকল্প জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ও তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মীরগাং এলাকার বাসিন্দা মোছা: রেশমা বেগম বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের মা’। সুন্দরবন আমাদের ঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। এখান থেকে আমরা কেওড়া, জ্বানালী কাঠ ও গোলপাতা পাই যা আমাদের অনেক উপকারে লাগে। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সনাতন কাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো: মজিবর সানা বলেন, ফ্রেন্ডশীপ কতৃক যে গাছ লাগানো হয়েছে তা আমাদের অনেক উপকারে আসবে। দুটি ঝড়ে আমরা রাস্তায় ছিলাম। এই বনায়নের কারনে রাস্তাগুলো ভাল আছে। যেসব জায়গায় গাছ নেই সেখানে বেঁড়িবাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, মাছের ঘের, বেঁড়িবাঁধ, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য বেশি করে গাছ লাগানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এলাকার অভিজ্ঞদের মতে পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা , উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রক্ষা সহ সুন্দরবন সুরক্ষায় চর বনায়নের বিকল্প নেই।
The post পরিবেশ রক্ষায় উপকূলীয় চর বনায়নে ভূমিকা রেখে চলেছে ফ্রেন্ডশীপ appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2UJOK12
No comments:
Post a Comment