মাওলানা মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ
(১৬ তম পর্ব)…
আল কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মনীতিই হলো ইসলামী আইনের মূল উৎস: মানুষের সামষ্ঠিক জীবন পরিচালনা করার জন্য আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর দাসত্ব ও গোলামীর বাস্তব নমুনা প্রকাশিত হয়। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম।সুতরাং মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ইসলাম দুনিয়াবাসির কাছে পেশ করেছে তাঁর স্বাধীন ও মানব কল্যাণমুখী কিছু স্বতন্ত্র দর্শন। মানুষের সামগ্রিক ইবাদাত দুটি মুলনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এক. আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত যাকে বলা হয় হাক্কুল্লাহ। দুই. বান্দার সাথে সম্পৃক্ত যাকে বলা হয় হাক্কুল ইবাদ। ইসলামী আইনের প্রত্যেকটি বিষয় এই দুটি মুলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য একটি সুষম অর্থনীতির মানদন্ড হিসাবে ইসলাম যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি ব্যবস্থার রুপরেখা পেশ করেছে। সুরাহ তওবার ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের মন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট, মানুষের গোলামীর বন্ধন থেকে আযাদ করা/দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির ঋণমুক্তির জন্য, আল্লাহর দ্বীনের পথে এবং মুসাফিরের জন্য। এই আট শ্রেণির মানুষের জন্য ইসলাম মুমিন-মুসলিম ধনীদের সম্পদের একটি অংশ বাধ্যতামুলক অধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি ব্যবস্থার বিপরীত অর্থনীতি কাঠামোর নাম হলো সুদ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই দুই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো যাকাত ধনীদের কাছ থেকে নিয়ে গরিবদের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থার কথা ব্যক্ত করছে। অপরপক্ষে সুদ ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে ধনীরা তাদের সম্পদকে গরিবদের কাছে দিয়ে উচ্চহারে মুনাফা গ্রহণ করে। পরিশেষে গরিবদের কাছ থেকে ধনীরা মুনাফা-আসল একসাথে গ্রহণ করে গরিবদের আরো নি:স্ব করেছে। যা বর্তমানে মানবতার জন্য ভয়ানক অভিশাপ হিসেবে একটি ভয়াল মূর্তির রুপ ধারণ করেছে। একজন মুসলিম বুদ্ধিজীবী তার লেখা একটি সম্পাদকীয় কলামে ইসলাম ধর্মকে মুল উপজীব্য করে লিখেছেন-‘ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনে। রাজনৈতিক জীবনে নয়।’ এই কথাটির সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয় বরং একটি অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করবো। ইসলামের ইতিহাসে সুস্পষ্ট বিদ্যমান যে, খোলাফায়ে রাশেদীন অবধি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এই ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আল কুরআনে যে আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন সেই একই আয়াতে যাকাতের জন্য ও কড়া তাগিদ প্রদান করেছেন। ইসলাম ধর্মে প্রবেশের পরে সামষ্ঠিকভাবে যে ইবাদাতটি কায়েম করতে হবে তার নাম হলো সালাত। সালাতকে ব্যক্তিজীবনে ধর্মীয় ইবাদাত মনে করে সুস্থ্য শরীরে ঘরে বসে আদায় করলে সালতের প্রকৃত হক্ব কখনো আদায় হবে না যা কুরআন-সুন্নাহ কর্তৃক অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অন্যদিকে মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসাবে যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতির বিধানকে প্রতিষ্ঠা করবে। আর এটি অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইসলামের ধর্মীয় বিধান এবং সামষ্ঠিক আর্থিক ইবাদাত।
এখন কেউ যদি বলে-ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনে। রাজনৈতিক জীবনে নয়। এখানে রাজনৈতিক জীবন বলতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় জাতীয় জীবনকেই প্রধান উপজীব্য। অর্থনীতির একটি ত্রুটিহীন রোড ম্যাপ ছাড়া পৃথিবীর প্রত্যেক জাঁতির জাতীয় জীবন অচল। এসব কারণে অত্যন্ত দ্বিধাহীন ও নি:সংঙ্কচে বলা যায় যে, ইসলাম ধর্মকে শুধু ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ করা এই দর্শনটি সরাসরি কুরআন-হাদিসের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সাংঘর্ষিক। ইসলাম যেখানে দরিদ্র ও ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামোয় একটি কল্যাণমুখী দর্শন পেশ করেছে।ঠিক তখন সুদযন্ত্র দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও ঋণগ্রস্থ ব্যক্তিদের ঋণ পরিশোধ করার পরিবর্তে তাদেরকে শোষণ ও দারিদ্রতার মহা কবলে পিষ্ট করেছে যা মানবাতার জন্য তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘন করার শামিল। যারা আল্লাহ প্রদাত্ত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দর্শনকে শুধু মাসজিদ, খানকাহ, দরবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই তারা ইসলামকে মানবরচিত ধর্মের মতো সাধারণ মতবাদ মনে করেছে। একই সাথে তারা ইসলাম যে একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা সেটিও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং ইসলাম সম্পর্কে তাদের এমন অপরিপক্ব মন্তব্যকে ইসলাম সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাকেই দায়ী করবো। এজন্য তারা বলে, ইসলাম ধর্ম শুধু ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকবে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মনীতিকে শতভাগ অনুসরণ করার মধ্যেই মানবতার জন্য মুক্তি নতুবা কেয়ামত অবধি মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ছুটবে কিন্তু শান্তির পায়রা থাকবে মানুষের ধরা ছুঁয়ার বাইরে।
নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব করার সময় অনুসরণ করবো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আর অর্থনীতি ও সামাজিক বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে অনুসরণ করবো মানুষের তৈরী করা ডকমা ও মতবাদকে এটা কি ইসলামকে পরিপূর্ণ অনুসরণ করা বলে? একটু আত্ম উপলব্দি করুন, গভীর চিন্তা করুন।যখন কোনো মুমিন-মুসলমানের অবস্থা এমন হবে তখন তাদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে আল কুরআনের সুরাহ বাকারার ৮৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে ঠিক এভাবে-‘তোমরা কি তাহলে আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস করো এবং আরেক অংশ অবিশ্বাস করো? সাবধান! কখনো যদি কোনো (জাতি কিংবা) ব্যক্তি (দ্বীনের অংশবিশের উপর ঈমান আনয়নের) এমন আচরণ করে, তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হবে যে, দুনিয়ার জীবনে তাদের লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে, তাদের পরকালেও কঠিনতম (জাহান্নামের) আযাবের দিকে নিক্ষেপ করা হবে।তোমরা যা কিছু করছো সে সব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা মোটেও উদাসীন নন।’ একইভাবে সুরাহ বাকারার ২০৮ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামের গন্ডির মধ্যে পরিপূর্ণরুপে প্রবেশ করো।আর তোমরা শয়তানের পথকে অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ মুসলামন হিসাবে ইসলামের গন্ডিতে প্রবেশ করার পরে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধানকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরিকামতে অনুসরণ ও অনুকরণ করার নামই হলো মুমিন-মুসলমানের আসল পরিচয়।উপরে বর্ণিত সুরাহ বাকারার দুটি আয়াতের শিক্ষা ও মুল বুনিয়াদও তাই। অতএব মুসলিম জ্ঞান বিজ্ঞান ও ইসলামী শরীয়াতের একমাত্র প্রণেতা হিসাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মনীতি ও তাঁর দর্শকে শতভাগ মেনে চলতে হবে। নতুবা শুধু নামে মুসলিম পরিচয় থাকবে কিন্তু কর্মে ও বাস্তবাতায় শয়তান ও তাগুতি দর্শন নিজের আত্মাকে গ্রাস করবে। আর পরকালে অধিকাংশ মানুষের জাহান্নামের যাওয়ার জন্য এটিই প্রধান কারণ হবে। একথাটির ব্যাখ্যা হিসাবে সহীহ আল বুখারীর কিতাবুল ঈমানের ৫২ নং হাদিসটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।হাদিসে বলা হয়েছে-‘মানুষের শরীরে মধ্যে (ক্বলব/আত্মা নামক)এক খন্ড গোশতের টুকরো রয়েছে, যখন সেটি পরিশুদ্ধ হয়ে যায় তখন গোটা শরীরই পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। আর যখন সেই গোশতের টুকরোটি নষ্ট হয়ে যায় তখন গোটা শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। আর সেই গোশতের টুকরোটির নাম হলো ক্বলব/আত্মা।’ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ আনুগত্যে ও তাঁর কর্মনীতি ও জীবনদর্শনকে শতভাগ অনুসারণ করলে মানুষের ক্বলব শুদ্ধ হয়ে যায়। এই ধরণের ক্বলবকে আল কুরআনে ‘নাফসুল মুতমাইন্না’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পরকালে এই শ্রেণির নাফসকে আল্লাহ তায়ালা ডাক দিবেন এবং জান্নাতে প্রবেশের জন্য অনুমতি প্রদান করবেন। সুত্র: তাফসিরে ইবনে কাসীর (আরবী খন্ড, দারুল হাদিস কায়রো), সুরাহ ফাজর, পৃষ্ঠা নং ৪/৬২২-২৩।
আইন প্রবর্তক ও বিধানদাতা কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালা: মানুষের প্রত্যেকটি কাজের উত্তম ফয়সালাকারী হলেন আল্লাহ তায়ালা। সুরাহ শুরার মধ্যে এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে-‘তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি করো, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপার্দ করো। তিনিই আল্লাহ আমার পালন কর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। সুত্র: প্রাগুক্ত, আয়াত নং:১০। আল্লাহ তায়ালার দেওয়া শরীয়াত অনুযায়ী দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইব্রাহিম (আ.) কে যে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন সেই একই আদেশ প্রদান করা হয়েছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। ইরশাদ হচ্ছে-‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে যে আইনকে নির্ধারণ করেছেন, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহ কে, যা প্রত্যাদেশ করেছি আপনার (মুহাম্মদ সা.) প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে (আমার শরীয়াত/আইন দ্বারা) প্রতিষ্ঠা করো এবং তাঁর মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করো না।’ সুত্র: সুরাহ শুরা, আয়াত নং: ১৩। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে বাদ দিয়ে মানব রচিত ও তাগুতি আইন যারা অনুসরণ করে এবং এই তাগুতি আইন কানুনকে যারা তৈরী করে তারা জালিম হিসেবে সাব্যস্ত হবে একই সাথে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যেমন আল কুরআনে সুরাহ শুরার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে-‘এদের কি এমন কোনো শরীক আছে, যারা এদের জন্যে এমন কোনো জীবনবিধান প্রণয়ন করে দিয়েছে,যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে প্রদান করেননি; যদি আযাবের ব্যাপারে (দুনিয়াতেই) সিদ্ধান্ত নেয়া হতো তাহলে কবেই তাদের ব্যাপারে একটা ফয়সালা হয়ে যেত। অবশ্যই এসব জালিমদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।’ সুত্র: প্রাগুক্ত, আয়াত নং: ২১।
আল কুরআনের এই আয়াত গুলো হতে একথা প্রমাণিত হয় যে, আইন ও মানুষের জীবন-বিধান প্রণয়নের একচ্ছত্র ক্ষমতা কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার জন্য সীমাবদ্ধ।আল্লাহর এই একচ্ছত্র মালিকানায় যদি কেউ মনগড়া কোনো মতবাদের প্রচলন করে যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা দেননি।তাহলে সেই ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা ও তাঁর একক গুনাবলীর সাথে অংশীস্থাপন করলো। ফলশ্রুতিতে বান্দা তার রবের সাথে ক্ষমার অমাপযোগ্য ভয়ংকর কবীরা গুনাহ শিরকে লিপ্ত হলো।আর তাওবাহ ছাড়া শিরকের পরিণাম কেবলমাত্র জাহান্নাম। প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের কর্তব্য হলো তাগুতি ও মানব রচিত আইনকে পরিত্যাগ করা। এবং আল্লাহ তায়ালার দেওয়া আল কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত ইসলামী আইনকে শতভাগ অনুসারণ করা ফরজ ও আবশ্যকীয় কর্তব্য। আল্লাহর বিধান অমান্য কারীদের জন্য কঠিন হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে সুরাহ মায়েদার মধ্যে।ইরশাদ হচ্ছে-‘আল্লাহর দেওয়া বিধান/আইন অনুযায়ী যারা (তাঁর জমিনে) বিচার ফয়সালা কায়েম করে না তারা কাফির, তারা জালিম, তারা ফাসিক।’ সুত্র: সুরাহ মায়েদা, আয়াত নং: ৪৪, ৪৫, ৪৭। চলবে…। লেখক: ইসলামী গবেষক, খতিব: লাবসা দপ্তারিপাড়া বায়তুন নূর জামে মাসজিদ, সাতক্ষীরা।
The post কুরআন-সুন্নায় মুহাম্মদ (সা.) এর কর্মনীতি ও তাঁর দর্শন appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/3cOlWv1
No comments:
Post a Comment