ডিসেম্বরের ৭ তারিখ, শহর জুরে শৈত্যপ্রবাহ বেশ ভালো মাত্রায় ছড়িয়ে পরেছে বলতে হয়। শীতের কারণে অনেকেই এ বছর মারা গেছে। অনেকে আবার গা ঢাকা দিয়েছে ঘরে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শীত খানিকটা বেশিই পরছে মনে হয়। কতোয়ালি থানার ওসি আমজাদ আহমেদ বসে আছেন এক টঙের দোকানে আর ভাবছেন এসব ব্যাপারে। তার মনে হয় সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশে তুষারপাত হলেও অবাক হবেন না তিনি। টানা কয়েকমাস কাজ করার পর কর্মবিরতি না নিলে তার পেটের ভাত শান্তিমতো হজম হয় না। পাশাপাশি টেবিলের নিচ দিয়ে যে ধরণের উপহার নেয়, সেসব হজমের জন্য অন্তত এক সপ্তাহ ছুটিতো জরুরিই। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে এইবারের ছুটিটা আর ছুটিতে কাটছে না। অফিস থেকে ছুটি নেয়ার পরপরই একটা ঘটনার সাথে জুরে যান তিনি। আর তারই রেশ ধরে এক ইনভেস্টিগেশনে আসা তার। এখন বসে আছেন মেহেদিবাগের এক টঙের দোকানে, হাতে সিগারেট আর চা একসাথে।
গত পরশুদিন দিনের বেলা একটা ছেলে প্রায় ৩২ তলা বিল্ডিং এর উপর থেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার পর পুরো মুখ থেঁতলে যায়, তাছাড়া শরীরের নানা অংশও বিকৃত রূপ ধারণ করে। ছেলেটার নাম ছিলো রাফি, বয়স ২৬। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপ্লাইড ফিজিক্সে অনার্স কমপ্লিট করে, চকবাজারেই একটা প্রেস খুলেছিলো বন্ধুদের সাথে। মনির, রাজু, পিন্টু আর মাহাদী এই চারজন ছিলো তার নতুন ব্যাবসার পার্টনার। প্রায় এক বছর হলো তাদের এই ব্যাবসার, বেশ সফলতার সাথে এগিয়েও যাচ্ছিলো তারা। বিপত্তি ঘটে তখনই যখন রাফি বাদে বাকি সকলেই ব্যাবসা থেকে সরে আসে। অদ্ভুত হলেও সত্য বাকি সকলেই চাকরির সন্ধান পেতে সক্ষম হয় এবং ব্যাবসা থেকে নিজেদের শেয়ার নিয়ে সরে আসে সেখান থেকে। কিন্তু একজন, একজন ব্যাক্তি তখনো নিজের শেয়ার উঠিয়ে নেয়নি সেখান থেকে। তার নাম হলো মনির।
এই সব ব্যাপারে অবশ্য মনিরই খুলে বলে তাকে। কিন্তু সমস্যা এখানে ছিলো না। সমস্যা ছিলো অন্য জায়গায়। মিস্টার রাফি ব্যাবসার উন্নতির জন্য হোক কিংবা অন্য কোনো এক কারণে চট্ট গ্রামে বর্তমান নামকরা ব্যাবসায়ী আলিফ হামজা থেকে ৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলো। তাও নাকি প্রায় এক বছর আগেই। এ ব্যাপারে রাফি মনিরকে বলে কিছুদিন আগেই। সময়ের সাথে পরিশোধ করতে না পারায় রাফির পরিবারের উপর আক্রমণ হয়, ধমকানো হয় তাকে। আর সেখান থেকেই সকল বন্ধুদের পরামর্শে তারা পালানোর পরিকল্পনা করে। দূর্ভাগ্য রাফি আর মনির যখন পালাচ্ছিলো তখনই তাদের উপর আক্রমণ হয় আবারো। ধ্বস্তাধস্তির পর ভাগ্যক্রমে দুজনেই পালাতে সক্ষম হয় তাও আলাদাভাবে। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয়দিন দেখা হয়নি তাদের। সাত দিনের দিন যখন দেখা হয় ঠিক তখনই কোনো এক কারণে তারা আবারো আলাদা হয়ে পরে আ গ্রাবাদ মোড় থেকে। এবং সেদিনই রাফি আত্মহত্যা করে আজিজ কোর্ট ইম্পেরিয়াল এর ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।
এতো কিছু জানা যেতো না যদি না মনির নিজে এসে এতো কিছু বলতো। তার মতে তার বন্ধু আত্মহত্যা করেনি, মানসিক চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর এর জন্য দায়ী আলিফ হামজা, তাকে যেকোনো ভাবে এরেস্ট করে একটা সুরহা করতে পারলেই হলো। এসব ভাবতে ভাবতেই হাতের চা শেষ হলো। অফিসার আমজাদ উঠে গেলেন। বিল পরিশোধ করে সন্তোর্পণে রাস্তা পার হলেন, হাতে রাফির মানিব্যাগটা দেখা যাচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকেই সং গ্রহ করেছিলেন। সেখানে তার কিছু ছবি আর একটা ল্যাবের ঠিকানা ও নম্বর।
‘আপনাদের এই অবৈধ ব্যাবসা কতোদিনের?’, প্রশ্নটা করার সাথে সাথে ডেস্কের উপর নিজের পুলিশ আইডি রেখে বসলেন আমজাদ আহমেদ।
প্রশ্ন আর আইডি দেখেই খানিকটা হতচকিত হয়ে যায় ডেস্কে থাকা মেয়েটি। বুঝতে পারে না কী বলবে। রাসেল বলেছিলো কোনো রক্ত পরীক্ষার জন্য এসেছে লোকটা, কিন্তু এতো পুলিশ! ছেলেটা এতো বোকা, এই মুহূর্তে তাকে কাছে পেলে গলা টিপে ধরতো মেয়েটি। কপালের ঘামটা রুমাল দিয়ে মুছে একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করলো সে, “স্যার, আসলে..”
“চিন্তা করবেন না একদমই, আমি আপনাদের ব্যাবসায় আঘাত হানবো না। কেবল মাস শেষে একটা এমাউন্ট থানায় পৌঁছে গেলে ভালো হয়”, কথাটা বলার সময় নড়েচড়ে একটু আয়েশ করে বসলেন ওসি সাহেব। পরোক্ষণেই পকেট থেকে রাফির একটা ছবি মেয়েটাকে দেখালেন, “চিনেন এই লোকটাকে? কিছু ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে এসেছিলেন হয়তো”। ছবিটার দিকে ভালো করে তাকানোর চেষ্টা করলো মেয়েটি। সুবিধার জন্য ছবিটা আরেকটু এগিয়ে দিলেন অফিসার আমজাদ।
“না স্যার। এই লোকটাকে এখানে কখনো দেখিনি”, কথাগুলো বলার সময় কিছুটা চিন্তিত ভাব দেখা যায় তার মাঝে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে প্রচুর ঘাবড়ে আছে মেয়েটি। তার অবস্থা দেখে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেন অফিসার সাহেব। একটা হাসি দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন কিছুটা।
“দেখুন সুন্দরীদের এতো ঘাবড়াতে হয় না। তাদের কিন্তু তখন একেবারে পরীদের মতোই লাগে”, আমজাদ আহমেদের কাছ থেকে এমন বাক্য শুনে কিছুটা চমকে যায় মেয়েটা। সে কখনো আশা করেনি তার কাছ থেকে এমন কোনো প্রশংসা পাবে। মুহূর্তেই চিন্তিত ভাবটা লজ্জায় পরিণত হয়, সন্তোর্পণে মেয়েটি নিজের সামনে আসা চুল কানের পিছনে নিয়ে যায়।
“ভালো করে দেখুন ছবিটা, এখানে হয়তো আসতে পারেন উনি। উনার নাম হলো রাফি চৌধুরী, একটা ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে এসেছিলেন হয়তো”, কথাগুলো বলার সময় অফিসারের কপালে ভাজের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর আগে এমন দুই অবৈধ ল্যাবে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন তিনি, কিন্তু তারা এই ব্যাপারে কোনো সাহায্য করতে পারেনি। আর বাকি মাত্র এই ল্যাবটি, আর এই কেইসের ক্ষেত্রে উপস্থিত ল্যাবটির একটা তথ্যও অতি জরুরি। চট্ট গ্রামে এই অবৈধ তিনটি ল্যাবের কথা সকলে না জানলেও পুলিশের জন্য জানা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু যেই তথ্যের জন্য এতো খাটুনি তা জানতে পারা অতিব জরুরি।
নাম শুনে অতি দ্রুত মেয়েটি নিজের কম্পিউটারে চেক করে নিলো। তারপর উৎসুক মুখেই জবাব দিলো, “হ্যাঁ স্যার। রাফি চৌধুরী নামের এক লোক এসেছিলেন এখানে গত সপ্তাহে পুরো সাতদিনই। বেশ কয়েকটা ব্লাড গ্রুপ তিনি টেস্ট করিয়েছিলেন, এবি পজিটিভ, এবি নেগেটিভ, বি পজিটিভ, এ পজিটিভ, এ নেগেটিভ, ও পজিটিভ এবং সর্বশেষ যে টেস্ট করিয়েছিলেন সেটার ব্লাডগ্রুপ ছিলো বি নেগেটিভ। কিন্তু স্যার, রাফি চৌধুরী নামের যে লোকটির ছবি আপনি দেখালেন তিনি কিন্তু সেই লোকটি ছিলেন না”।
বাক্যটা শুনে খানিকটা চমকে যান অফিসার। এতোগুলো ব্লাড গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে প্রতিদিন টেস্ট করানো, এটা কখনো স্বাভাবিক কিছু হতে পারে না। আর কী অদ্ভুত, নামের ব্যক্তিটির সাথে চেহারার মিল নেই! বেশিক্ষণ আর অপেক্ষা করলেন না অফিসার আমজাদ আহমেদ দ্রুত বেরিয়ে গেলেন। এই মুহূর্তে সহকর্মী রফিককে খুব মিস করছেন তিনি, ছেলেটা থাকলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। এক গভীর নিঃশ্বাস বেরিয়ে গেলো, কেইস হয়তো অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
রাত ২টা বেজে ২৩ মিনিট, নিজের স্টাডি রুমে বসে আছেন কতোয়ালি থানার ওসি। সামনে রাফির কেইস সম্পর্কে পরে আছে নানা ধরণের কাগজ আর তথ্য। গত পরশুদিনের পেপারের হেডলাইনগুলো এতোগুলো কাগজের মাঝেও স্পষ্ট হচ্ছে।
দৈনিক আজাদী, “আজিজ কোর্টের ছাদ থেকে লাফিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যা”; দৈনিক পূর্বকোণ, “কেন এক যুবক এভাবে আত্মহত্যা করলো? আসলেই কী আত্মহত্যা নাকি খুন!”; এমন ধরণের আরো দু’একটা পেপারে নানা রহস্য মিশানো হেডলাইন দিয়ে জনগণের মাথা খেতে চেয়েছে এই মিডিয়া। সেটা এখন মূল বিষয়বস্তু নয়, মূল বিষয় বস্তু অন্যকিছু।
ঘটনাস্থল থেকে যখন রাফির মানিব্যাগটা তিনি সং গ্রহ করছিলেন সেটা রাফির লাশের পাশেই বেরিয়ে মাটির উপর পরা ছিলো। সেখানে কিছু টাকা, তার কয়েকটা ছবি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না বলতে গেলে। ল্যাবরেটরির নাম আর নম্বর লেখা কাগজটা পেয়েছিলো মানিব্যাগের ভিতরের গোপন পকেটে!
আর সমস্যা এখানেই, কাগজে যেই ল্যাবের নাম দেয়া ছিলো সেটা হলো মেহেদীবাগে অবস্থিত নাম করা ল্যাবরেটরি “ল্যাবএইড”। সেখানে অফিসার গেলে যেটুকু তথ্য পান, রাফি নিজের ব্লাড পরীক্ষা করাতে যায়নি, সাথে একটা ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে গেছিলো। প্রথমে নাম এন্ট্রি করে ফেললেও পরবর্তীতে ব্লাড স্যাম্পলে এন্টিকুয়াগুলেন্ট মিশানো থাকার কারণে ল্যাব থেকে সেটা পরীক্ষা করার জন্য নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতেই রাফি সেখান থেকে কাছেই পাথরঘাটায় এক অবৈধ ল্যাবে যায়, হয়তো যেকোনো একজনের থেকে সাহায্য নিয়ে। এবং সেখানে গিয়ে সাতদিনে সাতটি ব্লাড স্যাম্পল টেস্ট করায়। শেষদিন বি নেগেটিভ ব্লাড স্যাম্পল টেস্ট করানোর পর আর সে যায়নি সেখানে, অর্থাৎ তার কাঙ্ক্ষিত ব্লাড স্যাম্পল পেয়ে গেছিলো সে, “বি নেগেটিভ”। কিন্তু এখানে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে যাওয়া রাফি চৌধুরীর চেহারার সাথে তার মানিব্যাগে থাকা রাফি চৌধুরীর চেহারার মিল নেই একদমই। তবে কী রাফি অন্য কাউকে ব্লাড নিতে অন্য কাউকে পাঠিয়েছিলো? ছবির রাফি যে আসল রাফি সে ব্যাপারে তার পরিবারই কনফার্ম করেছে, তাই এতে সন্দেহ নেই ল্যাবে ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে অন্য কেউ গিয়েছিলো। কিন্তু ব্লাড দিয়ে তার কাজ কী?
লাইটার দিয়ে সিগারেট জ্বালিয়ে সামনে থাকা পোস্টমর্টাম রিপোর্টটা হাতে তুলে নিলেন অফিসার। লাশের ব্লাড গ্রুপ বি নেগেটিভ! এমন কী হতে পারে রাফি মরেনি? ধরে নেয়া যাক রাফি চৌধুরী বেঁচে থাকতে চেয়েও সকলের সামনে মরে যেতে চেয়েছে। এর জন্য সে কী করতে পারে? কোনো মর্গে গিয়ে সেখান থেকে তার মতো শরীর আর একই ব্লাড গ্রুপের একটা শরীর নিতে পারে। তারপর উপর থেকে ফেলে আত্মহত্যা নাম দিয়ে খুব সহজেই বেঁচে যাওয়া যাবে। যেহেতু চেহারা থেঁতলে গিয়েছে তবে বুঝার কোনো পথ নেই আসলেই সে রাফি ছিলো নাকি অন্য কেউ। কিন্তু পরিবারের সবাই এতো জলদি এটা মেনে কেন নিলো? এটাও ধরে নেয়া যাক রাফির পরিবারো পুরো প্ল্যানের সঙ্গে যুক্ত! তবে কেইসের অনেকটা সমাধান হয়েও যায়।
দ্রুত রফিকের নাম্বারে ডায়াল করলেন তিনি, “হ্যালো রফিক, মর্গে গিয়ে একটা ডিটেইলসের ব্যাপারে খবর নে”, পুরো ডিটেইলস রফিককে বলে কল কেটে দিলেন তিনি। সামনে থাকা কাগজগুলোদ দিকে চোখ বুলাতে লাগলেন গভীরভাবে। রাজু, পিন্টু, মাহাদী সকলের গত মাসের অবস্থান নিয়ে পুরো ডিটেইলস এখন তার হাতে। মনিরের ডিটেইলস পাঠাতে বলেছেন তার আরেক সহকর্মীকে, হয়তো কিছুক্ষণেই পৌঁছাবে। রাজু এখন আবুল খায়ের কোম্পানির কাজে খুলনায় অবস্থান করছে। এ মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত একদিনো সে অফিস কামাই করেনি। পিন্টু এবং মাহাদী ঢাকায় এক এনজিও সংস্থাতে কাজ করছে এবং তাদের ক্ষেত্রেও একই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাকি আছে মনির, তার ব্যাপারে যেটুকু জানেন অফিসার সে ভিত্তিতে বলা যেতেই পারে রাফিকে মনির সাহায্য করেছিলো। তার পুরো নাম মনিরুল ইসলাম, ইসলামি ব্যাঙ্কে জব করে। যে এক সপ্তাহ রাফি মিসিং ছিলো সেই এক সপ্তাহ মনির একদিনো অফিস কামাই দেয়নি। অদ্ভুত ব্যাপার হলো হামজার লোক তার উপর কোনোরকম আক্রমণও করেনি। অতোটাও অস্বাভাবিক না, হামজার মূল টার্গেট ছিলো রাফি, তাই মনিরের দিকে নজর না দেয়া অস্বাভাবিক কিছু না। যদি ল্যাবে যাওয়া ব্যক্তি মনির না হয়ে থাকে তবে ছিলো কে? রাফি কী অন্য কারো সাহায্য নিয়েছে?
কিছুটা বিরক্তি লেগে উঠেছে ওসি সাহেবের। আরেকটা সিগারেট ধরালেন বেশ দ্রুত, মাথার এই প্যাঁচ মোটেও ভালো লাগছে না। যেহেতু রাফি আর মনিরই এ ব্যাপারে সবকিছু জানে তবে আপাতত তাদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকাই হয়তো বেস্ট হবে। তৃতীয় পক্ষ ঢুকলে যে ঝামেলা বাড়ছে। রাফি যদি বেঁচে থাকে আর মনির মিথ্যে বলে থাকে তবে এতে দুজনেরই লাভ। সবার কাছে রাফি মারা গেছে মানে হামজার কাছেও মারা গেছে। এতে করে পাঁচ কোটি টাকার একটি টাকাও আর রাফির পরিশোধ করতে হবে না এবং তার পরিবার এবং মনির সকলেই ভালো থাকবে। এই মুহূর্তে রাফির পরিবার যেখানে আছে, হামজার পক্ষে সেখানে পৌঁছানো কল্পনাতেও সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যা এখানেই ওই তৃতীয় পক্ষকে যদি বের করা না যায় তবে রাফি যে বেঁচে আছে সেটা প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
এসব চিন্তায় যখন মাথা ব্যাথা শুরু হচ্ছিলো ওসি সাহেবের ঠিক তখনই তার সহকর্মি আলিফ ভিতরে ঢুকার অনুমতি চায়। হঠাৎ কারো আগমনে কিছুটা হতচকিত হলেও নিজেকে স্বাভাবিক করে তিনি ভিতরে আসার অনুমতি দেয়। হাতের ফাইলটুকু ওসি সাহেবের হাতে দিয়ে আলিফ প্রস্তান করে সন্তোর্পনে। ফাইলটুকু ঘেঁটে তেমন কিছু পাওয়া না গেলেও একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করেন তিনি, মনির এক অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছিলো। তার মা বাবা ভাই বোন কেউ নেই, আর এই ব্যাপারটা সে উল্লেখ করেনি একবারের জন্যও। আর সবচেয়ে বড় কথা রাফির মৃত্যুর পরেরদিন থেকেই মনির ইজ মিসিং, সে না গিয়েছে অনাথ আশ্রমে আর না গিয়েছে অফিসে। এর মানে কী! এই ভাবনাটা যখনই উৎপন্ন হলো রফিকের কল ঠিক সেই মুহূর্তেই আসলো।
“হ্যাঁ বল রফিক”, কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন অফিসার আমজাদ আহমেদ।
“স্যার, আপনি ঠিক ধরেছেন রাফি নামের এক ব্যক্তি মর্গে এসেছিলো সাতদিন। এবং সাতটা লাশের ব্লাড স্যাম্পল নিয়েছিলো। শেষদিন যে লাশের ব্লাড স্যাম্পল নিয়েছিলো, সেই লাশটা রাত ১০ টায় এক মাইক্রোবাস ড্রাইভার নিয়ে গেলেও একই রাতে ১ টা বাজে তা পৌঁছে দিয়ে যায়”, বেশ খানিকটা উৎসাহের সুরে কথাগুলো বলে রফিক।
সবকিছু শুনে আর কোনো কিছু বলেননি আমজাদ আহমেদ। মোবাইল কেটে তার নজর গেল ঠিক মনিরের ফাইল ডিটেইলস এর দিকে। মনিরের ব্লাড গ্রুপ বি নেগেটিভ! চেয়ারের উপর গা এলিয়ে দিলেন কতোয়ালি থানার ওসি আমজাদ আহমেদ। এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলে মুচকি একটা হাসি দিলেন, পুরো কেইস এখন তার কাছে পরিষ্কার। খুনি এবং খুন হওয়া ব্যক্তি দুজনেই স্পষ্ট!
The post সুরহা/ জাওয়াদ উল আলম appeared first on Daily Patradoot Satkhira.
from Daily Patradoot Satkhira https://ift.tt/2FMa91W
No comments:
Post a Comment